খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

ব্যাংক খাত নিয়ে বিভ্রান্তি! গণমাধ্যমকে সতর্ক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ডিস্ট্রেসড ঋণের প্রকৃত চিত্র নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে...
Homeঅর্থ-বানিজ্যব্যাংক খাত নিয়ে বিভ্রান্তি! গণমাধ্যমকে সতর্ক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংক খাত নিয়ে বিভ্রান্তি! গণমাধ্যমকে সতর্ক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিসিপি) থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করা হয়।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ডিস্ট্রেসড ঋণের প্রকৃত চিত্র নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো সংজ্ঞা ছাড়া খেলাপি ঋণের সঙ্গে পুনঃতফসিলকৃত এবং অবলোপনকৃত ঋণ যুক্ত করে ডিস্ট্রেসড ঋণের হিসাব প্রকাশ করা হলে দেশের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে জনমনে ভুল ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

বুধবার (১৭ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (ডিসিপি) থেকে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫ প্রকাশ

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বহুল আলোচিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট (এফএসআর) ২০২৫’ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেশের ব্যাংকিং খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা, খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ এবং অবলোপনকৃত ঋণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম নিজস্ব পদ্ধতিতে ব্যাংকিং খাতের ডিস্ট্রেসড ঋণের হার ৪৫ শতাংশ, ৫৯ শতাংশ কিংবা ৬০ শতাংশ বলে প্রকাশ করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এ ধরনের হিসাব আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ডিস্ট্রেসড ঋণের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা নেই

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং নীতিমালা নির্ধারণকারী কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত ডিস্ট্রেসড ঋণের একটি স্বীকৃত ও অভিন্ন সংজ্ঞা নির্ধারণ করেনি।

সাধারণভাবে যেসব ঋণ থেকে ব্যাংক কোনো আয় পায় না অথবা যেসব ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ হয় না, সেগুলোকে ডিস্ট্রেসড ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কিন্তু সব ধরনের পুনঃতফসিলকৃত ঋণকে একইভাবে মূল্যায়ন করা সঠিক নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, পুনঃতফসিলকৃত অশ্রেণিকৃত ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহক নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেন। ফলে এসব ঋণকে সরাসরি ডিস্ট্রেসড ঋণের আওতায় ফেলা যৌক্তিক নয়।

পুনঃতফসিলকৃত ঋণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ঋণ পুনঃতফসিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ বা আদায় অযোগ্য। অনেক ক্ষেত্রেই ঋণগ্রহীতারা পুনঃতফসিলের পর নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে থাকেন এবং ঋণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

এই কারণে পুনঃতফসিলকৃত অশ্রেণিকৃত ঋণকে ডিস্ট্রেসড ঋণের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করলে প্রকৃত চিত্র বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ব্যাংকিং খাতের অবস্থা সম্পর্কে ভুল বার্তা পৌঁছাতে পারে।

অবলোপনকৃত ঋণ কেন ডিস্ট্রেসড ঋণের অংশ নয়

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও উল্লেখ করেছে যে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুযায়ী অবলোপনকৃত ঋণ কোনো ব্যাংকের স্থিতিপত্রের (ব্যালান্স শিট) অংশ হিসেবে গণ্য হয় না।

অর্থাৎ ব্যাংক হিসাব থেকে এসব ঋণ আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করে থাকে। ফলে অবলোপনকৃত ঋণকে বর্তমান ডিস্ট্রেসড ঋণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার সঠিক মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঋণের প্রকৃতি আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সব ধরনের ঋণ একত্রে যোগ করে একটি সামগ্রিক হার প্রকাশ করলে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

দেশে খেলাপি ঋণের সর্বশেষ চিত্র

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, এর সঙ্গে পুনঃতফসিলকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণ যোগ করে ডিস্ট্রেসড ঋণের হার প্রকাশ করলে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাবের আশঙ্কা

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে অতিরঞ্জিত বা ভুল তথ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

ফলে যথাযথ বিশ্লেষণ ছাড়া প্রকাশিত তথ্য দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং বিনিয়োগ পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান

বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের সময় জাতীয় স্বার্থ, তথ্যের নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় রাখতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং সঠিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে জনগণ ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবে এবং অযথা বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।