খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

জনগণের টাকায় জনগণের উন্নয়ন: শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা

জনগণের অর্থ দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যয় করা হবে, কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালজাতীয়জনগণের টাকায় জনগণের উন্নয়ন: শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা

জনগণের টাকায় জনগণের উন্নয়ন: শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে। দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

জনগণের অর্থ দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যয় করা হবে, কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী জনগণের অর্থ দেশের বাইরে সরিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকবে বা দেশের সম্পদ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার (১৭ জুন) শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে। দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি জনগণের সম্পদ বিদেশে পাচারের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ পাচার বন্ধ করা গেলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব নারী চা শ্রমিকের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চা বাগানে কর্মরত হাজারো পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং তারা সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ লাভ করবে।

তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শ্রীমঙ্গল এলাকায় ১৫০ জন চা শ্রমিকের সন্তানকে শিক্ষাবৃত্তি বা স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা হলো উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তার মতে, শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারলে দেশ আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। এজন্য শিক্ষাবৃত্তি, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

কৃষি খাতের উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা এবং বিভিন্ন কৃষি সুবিধা আরও সহজে গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের অবদান অপরিসীম। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে এবং জেলা শহরে চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত চাপ কমবে।

তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্য সামনে রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অথচ একটি রাজনৈতিক দল এই বাজেটকে জনবিরোধী বলে আখ্যায়িত করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যে বাজেট সাধারণ মানুষের কল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারের জন্য তৈরি করা হয়েছে, সেটিকে জনবিরোধী বলা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি দাবি করেন, যারা জনবান্ধব উদ্যোগের বিরোধিতা করে, তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে না।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনগণের ঐক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার কোনো অপচেষ্টা সফল হবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণ। প্রায় ২০ কোটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও কর্মশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সহযোগিতা, জাতীয় ঐক্য এবং উন্নয়নমুখী নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি জনগণের কল্যাণে সরকারের চলমান কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।