খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালএমবাপের জাদুতে সেনেগালকে হারাল ফ্রান্স! বিশ্বকাপ রেকর্ড ভাঙার পথে কিলিয়ান এমবাপে

এমবাপের জাদুতে সেনেগালকে হারাল ফ্রান্স! বিশ্বকাপ রেকর্ড ভাঙার পথে কিলিয়ান এমবাপে

ম্যাচের ৬৫ মিনিট পর্যন্ত সেনেগাল ফরাসিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এরপরই সামনে আসেন এমবাপে। অসাধারণ ফিনিশিংয়ে প্রথম গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি।

ফ্রান্সের জার্সিতে কিলিয়ান এমবাপে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ম্যাচ-জয়ী খেলোয়াড়দের একজন বলা হয়। সেনেগালের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে দুই গোল করে তিনি শুধু দলকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টই এনে দেননি, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।

ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টার বেশি সময় অবশ্য এমবাপের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। তার পাস, টাচ এবং আক্রমণভাগে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বারবার ভুল দেখা যাচ্ছিল। শুধু এমবাপে নন, পুরো ফরাসি দলই তখন নিজেদের সেরা ছন্দ থেকে অনেক দূরে ছিল। মাঠে ফ্রান্সকে অসংগঠিত লাগছিল এবং কোচ দিদিয়ের দেশাম্পসের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল।

তবে বড় খেলোয়াড়দের বিশেষত্বই হলো, তারা একটি মুহূর্তে পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। এমবাপে ঠিক সেটাই করেছেন।

এমবাপের জাদুতে বদলে গেল ম্যাচের গল্প

ম্যাচের ৬৫ মিনিট পর্যন্ত সেনেগাল ফরাসিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এরপরই সামনে আসেন এমবাপে। অসাধারণ ফিনিশিংয়ে প্রথম গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি।

এরপর অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি দুর্দান্ত গোল করেন ফরাসি অধিনায়ক। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডির মাথার উপর দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলের মাধ্যমে তিনি নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন।

বিশ্বকাপ রেকর্ড ভাঙার পথে কিলিয়ান এমবাপে

এই ম্যাচের আগে ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন অলিভিয়ের জিরু। কিন্তু সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে এমবাপে সেই রেকর্ড পেছনে ফেলেছেন।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা এখন ১৪। এই সংখ্যা ইতোমধ্যেই ফুটবল কিংবদন্তি পেলে এবং লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ড স্পর্শ করতে এমবাপের দরকার মাত্র দুটি গোল। তার বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় সেই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব বলার সুযোগ নেই।

দেশাম্পসের কৌশল শুরুতে ব্যর্থ হলেও পরে সফল

ম্যাচের শুরুতে ফ্রান্সের আক্রমণভাগে কিছু পরীক্ষামূলক পরিবর্তন করেছিলেন দিদিয়ের দেশাম্পস। এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে এবং দেজির দুয়েকে একসঙ্গে খেলানোর পরিকল্পনা কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় মনে হলেও মাঠে সেটি কার্যকর হচ্ছিল না।

বিশেষ করে এমবাপে ও দেম্বেলের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট ছিল। অনেক সময় দেম্বেলে সঠিক সময়ে পাস দিতে ব্যর্থ হন, আবার কিছু ক্ষেত্রে এমবাপেও নিজের স্বাভাবিক মানের টাচ দেখাতে পারেননি।

ফলে প্রথমার্ধে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ।

ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া দেশাম্পসের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

দ্বিতীয়ার্ধে দেশাম্পস পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত পরিবর্তন আনেন। তিনি মাইকেল ওলিসেকে মাঝমাঠের আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় নিয়ে আসেন এবং দেম্বেলেকে ডানদিকে সরিয়ে দেন।

এই পরিবর্তনের পরই ফরাসি আক্রমণে প্রাণ ফিরে আসে।

ওলিসে বল বিতরণে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন এবং এমবাপের প্রথম গোলের পেছনে তার পাস ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। সেনেগালের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দেওয়া সেই পাস পুরো রক্ষণভাগকে অকার্যকর করে দেয়।

দেশাম্পসের এই সিদ্ধান্তই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ব্র্যাডলি বারকোলার উত্থান নতুন আলোচনার জন্ম দিল

ম্যাচে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল ব্র্যাডলি বারকোলাকে মাঠে নামানো। তিনি শুধু একটি চমৎকার গোলই করেননি, বরং নিজের স্বাভাবিক পজিশনে খেলে পুরো দলের ভারসাম্যও বাড়িয়ে দেন।

বাম উইংয়ে বারকোলা অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন। তার উপস্থিতিতে ফরাসি আক্রমণ আরও গতিশীল হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে দেজির দুয়ে বল নিয়ে ভালো খেললেও প্রায়ই নিজের অবস্থান ছেড়ে ভেতরের দিকে চলে যাচ্ছিলেন। এতে রক্ষণভাগে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছিল এবং সেনেগাল সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিল।

সেনেগাল হারলেও ফ্রান্সের রক্ষণভাগে উদ্বেগ

স্কোরলাইন দেখে মনে হতে পারে ফ্রান্স সহজ জয় পেয়েছে, কিন্তু বাস্তবে ম্যাচটি এতটা সহজ ছিল না।

সেনেগাল একাধিকবার ফরাসি রক্ষণভাগকে সমস্যায় ফেলেছে। নিকোলাস জ্যাকসনের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া ইসমাইলা সারও বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ পরিচালনা করেন।

ফরাসি ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা চোট কাটিয়ে ফিরলেও তাকে পুরোপুরি ফিট মনে হয়নি। তার উপস্থিতি দলকে শক্তিশালী করেছে ঠিকই, কিন্তু রক্ষণভাগে এখনও কিছু দুর্বলতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে এই ধরনের ভুল ভবিষ্যতে বড় মূল্য চোকাতে বাধ্য করতে পারে।

মিডফিল্ডে আরও শক্তি চায় ফ্রান্স

ফ্রান্সের আরেকটি বড় সমস্যা দেখা গেছে মাঝমাঠে। আদ্রিয়েন রাবিও প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি। ম্যাচের অনেক সময়ই ফরাসি মিডফিল্ডকে নিয়ন্ত্রণহীন মনে হয়েছে।

বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হলে দেশাম্পসকে অবশ্যই মাঝমাঠে আরও ভারসাম্য এবং শক্তি খুঁজে বের করতে হবে।

কারণ শুধুমাত্র আক্রমণভাগের তারকাদের ওপর নির্ভর করে পুরো টুর্নামেন্ট জেতা কঠিন।

এমবাপেই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা

তবুও সব উদ্বেগের মাঝেও ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় স্বস্তির নাম কিলিয়ান এমবাপে। ম্যাচের অধিকাংশ সময় খারাপ খেলেও তিনি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন।

এটাই বিশ্বমানের ফুটবলারের পরিচয়।

যখন দল বিপদে থাকে, যখন পরিকল্পনা কাজ করে না, তখন একজন খেলোয়াড় নিজের ব্যক্তিগত মেধা দিয়ে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন। এমবাপে বারবার সেটাই করে দেখিয়েছেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে আরও অনেক রেকর্ড হয়তো তার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু সেনেগালের বিপক্ষে এই ম্যাচ আবারও মনে করিয়ে দিল, ফ্রান্সের স্বপ্ন যত বড়ই হোক না কেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একজনই—কিলিয়ান এমবাপে।