খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালনোরা ফাতেহির হৃদয়ে শুধুই মরক্কো! FIFA বিশ্বকাপে আবেগঘন বার্তা দিলেন বলিউড তারকা

নোরা ফাতেহির হৃদয়ে শুধুই মরক্কো! FIFA বিশ্বকাপে আবেগঘন বার্তা দিলেন বলিউড তারকা

নোরা বিশ্বাস করেন, ‘সির সির’ শুধুমাত্র একটি গান নয়; এটি বিশ্বকাপের আবেগ, উদ্দীপনা এবং অগ্রগতির প্রতীক। তাঁর আশা, বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা এই স্লোগানকে নিজেদের আবেগের অংশ হিসেবে গ্রহণ করবে।

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি বিশ্বের নানা সংস্কৃতি, ভাষা এবং মানুষের মিলনমেলা। সেই বৈশ্বিক উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা, নৃত্যশিল্পী ও গায়িকা নোরা ফাতেহি। এবারের ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে তিনি শুধু একজন শিল্পী হিসেবেই নয়, বরং বহুসাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবেও নিজেকে তুলে ধরেছেন।

নোরার মতে, বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ নিজেদের প্রতিভা, সংস্কৃতি এবং পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ পায়। তাই তাঁর বার্তা ছিল একটাই—উৎসব, ঐক্য এবং প্রতিনিধিত্ব।

ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে নোরা ফাতেহির উজ্জ্বল উপস্থিতি

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোরা পরিবেশন করেন ফিফার অফিসিয়াল গান সির সির’। মরক্কোর জনপ্রিয় ফুটবল স্লোগান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি এই গানের অর্থ হলো, “চলো, এগিয়ে যাও”। গানটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা বহন করে।

নোরা বিশ্বাস করেন, ‘সির সির’ শুধুমাত্র একটি গান নয়; এটি বিশ্বকাপের আবেগ, উদ্দীপনা এবং অগ্রগতির প্রতীক। তাঁর আশা, বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা এই স্লোগানকে নিজেদের আবেগের অংশ হিসেবে গ্রহণ করবে।

ফুটবল সংগীতের অনন্য সংযোগ

এক সাক্ষাৎকারে নোরা জানান, ফুটবল এবং সংগীত সবসময়ই মানুষের আবেগকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। বিশ্বকাপের মতো আয়োজন সেই সংযোগকে আরও শক্তিশালী করে।

তিনি বলেন, এই মঞ্চকে তিনি ব্যবহার করতে চেয়েছেন নিজের গল্প, নিজের সংস্কৃতি এবং বহুসাংস্কৃতিক শিল্পচর্চার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। তাঁর মতে, শিল্পের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মানুষ একে অপরের কাছাকাছি আসতে পারে।

টরন্টো থেকে বলিউড: সংগ্রাম আর সাফল্যের গল্প

কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া মরক্কান বংশোদ্ভূত নোরা ফাতেহির জীবনযাত্রা ছিল চ্যালেঞ্জে ভরা। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি অভিনয় ও নাচের স্বপ্ন নিয়ে ভারত পাড়ি জমান।

ভাষাগত বাধা, সাংস্কৃতিক পার্থক্য এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তিনি বলিউডে নিজের জায়গা শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।

এক সময়ের স্বপ্নবাজ তরুণী আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম পরিচিত পারফরমার। তাঁর এই যাত্রা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

দিলবার’ থেকে ‘মানিকে’: জনপ্রিয়তার শিখরে নোরা

নোরা ফাতেহির ক্যারিয়ারে একের পর এক সুপারহিট গান তাঁকে এনে দিয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। দিলবার’, সাকি সাকি’, নাচ মেরি রানি’ এবং মানিকে’-এর মতো গান কোটি কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছে।

তাঁর নৃত্যশৈলী, আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক আবেদন তাঁকে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত পারফরমারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আজ নোরা শুধু একজন অভিনেত্রী বা নৃত্যশিল্পী নন; তিনি একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন।

নিজ শহরে বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম: এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা

বিশ্বকাপের মতো বিশাল আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজের জন্মশহর টরন্টোতে পারফর্ম করার সুযোগকে নোরা বর্ণনা করেছেন এক ‘অবাস্তব’ অভিজ্ঞতা হিসেবে।

তাঁর ভাষায়, এটি এমন এক যাত্রার প্রতিফলন, যেখানে একজন সাধারণ স্বপ্নবাজ মানুষ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি মনে করেন, তাঁর গল্প অনেক তরুণ-তরুণীকে নিজেদের স্বপ্ন অনুসরণ করতে সাহস জোগাবে।

সির সির’: মরক্কোর গ্যালারি থেকে বিশ্বজয়ের সুর

‘সির সির’ গানটি তৈরি করেছেন ফরাসি-আইভরিয়ান সংগীতশিল্পী ভেজেড্রিম এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব। গানটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর বহুভাষিক উপস্থাপন।

এখানে মরক্কোর দারিজা ভাষার পাশাপাশি আরবি, ফরাসি এবং ইংরেজির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এই ভাষাগত বৈচিত্র্য বিশ্বকাপের মূল চেতনাকেই প্রতিফলিত করে—বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য।

গানটির ভিডিও ধারণ করা হয়েছে মরক্কোর বিভিন্ন এলাকায়। সেখানে দেখানো হয়েছে, কীভাবে পাড়ার মাঠে খেলা ছোট্ট শিশুরা একদিন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়।

শিল্পী ফুটবলারের যাত্রার মিল কোথায়?

নোরার মতে, একজন ফুটবলারের যাত্রা এবং একজন শিল্পীর পথচলার মধ্যে অসাধারণ মিল রয়েছে।

যেমন একজন ফুটবলার ছোট মাঠ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছাতে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেন, তেমনি একজন শিল্পীকেও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলতে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এই কারণেই ‘সির সির’ গানটি তাঁর কাছে শুধুমাত্র একটি সঙ্গীত প্রজেক্ট নয়; বরং স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং সাফল্যের গল্প।

কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন অধ্যায়

২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছিলেন নোরা ফাতেহি। তবে এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এবার তিনি কেবল একজন অতিথি পারফরমার নন; তিনি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সাউন্ডট্র্যাকের অংশ। এই দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মহড়া, কস্টিউম পরিকল্পনা এবং মঞ্চ প্রস্তুতিতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

ফলে এই পারফরম্যান্স তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।

হৃদয়ে শুধুই মরক্কো

বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন করছেন—এ প্রশ্নের উত্তরে নোরা এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি। তাঁর হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের দল মরক্কো।

২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল মরক্কো। সেই সাফল্য নোরার গর্বের অন্যতম কারণ।

তাঁর মতে, মরক্কো শুধুমাত্র একটি ফুটবল দল নয়; এটি সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রতীক। অসংখ্য বাধা অতিক্রম করে তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

নোরা বিশ্বাস করেন, এই বিশ্বকাপেও মরক্কো অসাধারণ কিছু করে দেখানোর সক্ষমতা রাখে।

নোরা ফাতেহি: বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিশ্বদূত

নোরা ফাতেহির গল্প আসলে আধুনিক বিশ্বের একটি প্রতিচ্ছবি। কানাডায় জন্ম, মরক্কান শিকড়, বলিউডে সাফল্য এবং বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক মঞ্চ—সবকিছু মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন বৈশ্বিক সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি।

তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, প্রতিভা এবং পরিশ্রমের কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে এবং সেই স্বপ্নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করলে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।

নোরা ফাতেহির যাত্রা তাই শুধু একজন শিল্পীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি সাহস, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনি, যা বিশ্বজুড়ে লাখো তরুণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।