খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

আজ থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে, ইঙ্গিত ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক...
Homeবিশ্ব সংবাদআজ থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে, ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আজ থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে, ইঙ্গিত ট্রাম্পের

সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে ইরান অবগত ছিল। তবে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে এখন আলোচনার পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে এবং সোমবার বিকেল থেকেই সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সোমবার থেকেই তেহরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতার ইঙ্গিত দিয়েছে।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে ইরান অবগত ছিল। তবে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে এখন আলোচনার পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে এবং সোমবার বিকেল থেকেই সেই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, একটি সম্ভাব্য সমঝোতার মৌলিক বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে নীতিগত অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধেই সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হলেও তেহরানের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যেমন সামরিক শক্তি প্রদর্শনের বার্তা দিয়েছে, অন্যদিকে বারবার কূটনৈতিক সমাধানের কথাও বলেছে। ট্রাম্প বহুবার দাবি করেছেন, যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিতে সেই আশাবাদের প্রতিফলন সবসময় দেখা যায়নি। আলোচনার সম্ভাবনার খবরের মাঝেও উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে চান না। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার লক্ষ্য যুদ্ধ নয়, বরং প্রাণহানি এড়িয়ে একটি স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্ররা তাকে সামরিক অভিযান না চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তার ভাষায়, ওই দেশগুলোর ধারণা ছিল যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই তারা বিশ্বাস করছিল।

এই কারণেই সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে আলোচনার পথ খোলা রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের আলোচনার ঘোষণা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। সোমবার সকালে এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় সাড়ে চার শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করে পরিবহন করা হয়।

ফলে এই প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত বা নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে।

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের অনুরোধেই হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর এই দাবি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি নতুন আরেকটি মিথ্যা দাবি ছাড়া কিছুই নয়।

এদিকে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সংশ্লিষ্ট একটি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তবে এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ট্রাম্প সোমবার থেকে নতুন করে আলোচনা শুরুর কথা বললেও কোথায় বৈঠক হবে কিংবা কারা অংশ নেবেন—এসব বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

এ কারণে কূটনৈতিক মহলে বিভিন্ন ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ওমান, কাতার অথবা অন্য কোনো নিরপেক্ষ দেশ আলোচনার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হলে সেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হতে পারত।

তার মতে, এমন একটি হামলা কেবল সামরিক সংঘাতই বাড়াত না, বরং কয়েক মাস ধরে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেও পুরোপুরি ব্যর্থ করে দিতে পারত।

তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাব দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পরিকল্পিত হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং যুদ্ধ আইনের আলোকে গুরুতর বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

অনেক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের মতে, যদি বেসামরিক জনগণের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে, তাহলে এমন পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও তৈরি করতে পারে।

এর আগে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবনে আল-রেজা বলেছিলেন, তেহরান তাদের বিরুদ্ধে আসা প্রতিটি হুমকিকেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো হুমকি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও সেটিকে অবহেলা করা হবে না।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনো অসতর্ক থাকবে না এবং কোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে নিষ্ক্রিয় অবস্থানও নেবে না।

এর আগেও ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছিলেন। একাধিকবার তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র এমন সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে, যার নজির দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর খুব কমই দেখা গেছে।

শনিবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল।

তবে একই পোস্টে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনায় হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

এর আগে এপ্রিল মাসেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সে সময় তিনি ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপেরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের সেই কঠোর অবস্থানের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে পাকিস্তানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

অনেকেই আশা করেছিলেন, ওই বৈঠক থেকে একটি কার্যকর সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবে। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি।

ফলে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অনেক রিপাবলিকান সমর্থকসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন নাগরিক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।