খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদথাইল্যান্ডে ভয়াবহ স্কুল শুটিং: ১৪ বছরের ছাত্রের হামলায় নিহত ৭, কড়া অস্ত্র...

থাইল্যান্ডে ভয়াবহ স্কুল শুটিং: ১৪ বছরের ছাত্রের হামলায় নিহত ৭, কড়া অস্ত্র আইনের দাবি

ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছিল। আচমকা গুলির শব্দ শুনে বহু শিক্ষার্থী বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে পড়ে। কেউ আবার জানালা বা বিকল্প দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আতঙ্কে অনেক অভিভাবকও স্কুলের বাইরে ভিড় জমান।

থাইল্যান্ডের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে গেল হৃদয়বিদারক বন্দুক হামলার ঘটনা। শুক্রবার সকালে স্কুল চলাকালীন এক কিশোর ছাত্র আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুই শিক্ষক-সহ মোট সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। ঘটনার পর হামলাকারীরও মৃত্যু হয়েছে। তবে সে আত্মহত্যা করেছে নাকি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে থাইল্যান্ডজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দেশটিতে সহজলভ্য আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার একটি জনপ্রিয় উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ১৪ বছর বয়সী এক নবম শ্রেণির ছাত্র আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে। এরপর কোনও সতর্কতা ছাড়াই স্কুলের ভেতরে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।

হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মীরা যে যেদিকে পারেন ছুটতে থাকেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্কুলজুড়ে তৈরি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

আরও পড়ুন :  জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের পবিত্র দায়িত্ব: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

পুলিশ ও প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় দুই শিক্ষক-সহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থীও রয়েছে বলে জানা গেছে।

আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তবে প্রশাসনের দাবি, আহত তিন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়নি। গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পালানোর সময় ধাক্কাধাক্কি ও হুড়োহুড়িতে তারা আহত হয়েছে।

আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের একটি দল তাদের চিকিৎসা করছে। কয়েকজনের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনার পর হামলাকারীর মৃত্যুর বিষয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামনে এসেছে।

একটি সূত্রের দাবি, নির্বিচারে গুলি চালানোর পর অভিযুক্ত ছাত্র নিজেকেই গুলি করে আত্মহত্যা করে।

অন্যদিকে, পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের গুলিতে হামলাকারীর মৃত্যু হয়।

কোন তথ্যটি সঠিক, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও প্রমাণ সংগ্রহ করছেন।

যে স্কুলে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটি ওই অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানে প্রায় ৩,১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

ঘটনার সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছিল। আচমকা গুলির শব্দ শুনে বহু শিক্ষার্থী বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে পড়ে। কেউ আবার জানালা বা বিকল্প দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আতঙ্কে অনেক অভিভাবকও স্কুলের বাইরে ভিড় জমান।

আরও পড়ুন :  জি-৭ সম্মেলনে চমক: নতুন বিশ্বব্যবস্থা আসছে?

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুরো স্কুল চত্বর খালি করে দেওয়া হয়।

ঘটনার পরপরই থাইল্যান্ডের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী স্কুলটি ঘিরে ফেলে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং অভিযুক্ত ছাত্রের মানসিক অবস্থার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

পুলিশ স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছে। পাশাপাশি হামলার আগে অভিযুক্তের আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের হাতে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় এমন হামলার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে আনুমানিক এক কোটি আগ্নেয়াস্ত্র সাধারণ মানুষের কাছে রয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে প্রায় প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনের কাছে একটি করে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

এই বাস্তবতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্ত্রের সহজলভ্যতা যে কোনও ব্যক্তিকে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ সহিংসতার সুযোগ করে দিতে পারে।

থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা নতুন নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি বিদ্যালয়ে এক ছাত্রের হামলায় একজন নিহত এবং দু’জন আহত হন।

আরও পড়ুন :  মেসির জার্সিকেও দামে হার মানাল বিটিএস তারকা জিমিনের পোশাক, বিশ্বকাপ নিলামে তুমুল চমক

একের পর এক এমন ঘটনায় অভিভাবক, শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

সাম্প্রতিক এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থাইল্যান্ড সরকার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন কঠোর করলেই হবে না। স্কুলে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং আগাম ঝুঁকি শনাক্ত করার ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।

প্রশাসনের আশা, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

থাইল্যান্ডের এই স্কুলে বন্দুক হামলা আবারও প্রমাণ করল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একটি কিশোরের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে যাওয়ার ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ। নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর আহতদের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন দেশবাসী। একই সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্কুল নিরাপত্তা নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

আর্কাইভ