খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeআবহাওয়াবঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপ, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের ২ জেলায় লাল সতর্কতা

বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপ, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের ২ জেলায় লাল সতর্কতা

এর সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে বর্ষাকালীন অক্ষরেখাও। পঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশ হয়ে ঝাড়খণ্ডের নিম্নচাপ অঞ্চল অতিক্রম করে সেই অক্ষরেখা বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে ফের তৈরি হচ্ছে নতুন নিম্নচাপের সম্ভাবনা। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে সোমবারের জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কলকাতাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলবে।

বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের উপর অবস্থানরত নিম্নচাপ অঞ্চলটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেটির সঙ্গে থাকা ঘূর্ণাবর্তও ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে। তবে এর মধ্যেই উত্তর বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সেই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

ফলে একটি নিম্নচাপ দুর্বল হওয়ার আগেই আরেকটি নিম্নচাপের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বর্ষার দাপট আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের উপর থাকা নিম্নচাপ অঞ্চলটি আপাতত কিছুটা দুর্বল হয়েছে। এর সঙ্গে থাকা ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টায় সেটি আরও দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু আবহাওয়ার পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হচ্ছে না। উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর ইতিমধ্যেই আর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। সেটির প্রভাবেই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হতে পারে।

এর সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে বর্ষাকালীন অক্ষরেখাও। পঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশ হয়ে ঝাড়খণ্ডের নিম্নচাপ অঞ্চল অতিক্রম করে সেই অক্ষরেখা বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াতে পারে।

শনিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন :  শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ভারত সরকারের বাধা নেই: এফসিসি

আবহাওয়া দফতরের হিসাবে, কোথাও কোথাও ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।

ফলে শহর কলকাতাতেও আচমকা ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নিচু এলাকা এবং জল জমার প্রবণতা রয়েছে এমন জায়গায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার আরও অবনতি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই জেলাগুলিতে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। অর্থাৎ, রবিবার থেকেই বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে।

শুধু উপকূলবর্তী জেলাগুলিই নয়, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, হাওড়া এবং হুগলিতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় রবিবার দিনভর মেঘলা আকাশ এবং দফায় দফায় বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই দিন পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এই দুই জেলায় ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এত অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির ফলে স্থানীয় ভাবে জলমগ্নতা, নদী-নালা ও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া চলতে পারে। ফলে সোমবার সামগ্রিক ভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া যথেষ্ট দুর্যোগপূর্ণ থাকতে পারে।

মঙ্গলবারেও বৃষ্টির প্রভাব পুরোপুরি কাটবে না। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থাৎ, সোমবারের পরেও দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে।

আরও পড়ুন :  ব্রিটেনে বিরল সূর্যগ্রহণ, আকাশজুড়ে মহাজাগতিক মুগ্ধতা; এরপরই আকাশে Perseid উল্কাবৃষ্টি

তবে ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে পারে। বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

অর্থাৎ, একটানা প্রবল বৃষ্টির পরিস্থিতি কিছুটা কমলেও বর্ষার মেঘ পুরোপুরি সরে যাচ্ছে না। সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধেও বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি বা হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

কলকাতাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। শনিবার এবং রবিবার শহরে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রবিবার কলকাতার পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা থাকলেও কলকাতায় পশ্চিম মেদিনীপুর বা ঝাড়গ্রামের মতো লাল সতর্কতা জারি হয়নি। তবে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে শহরের স্বাভাবিক জনজীবনে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।

কলকাতায় বর্ষার সময় অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হলে রাস্তায় জল জমার সমস্যা দেখা দেয়। ফলে সোমবারের আগে শহরের বাসিন্দাদের আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গেও আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক থাকবে না।

সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ফের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে।

এ ছাড়া দার্জিলিং ও কালিম্পঙেও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি শুক্রবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির ক্ষেত্রে ভূমিধসের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ফলে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা মানুষদেরও আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

নতুন ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপ অঞ্চলের প্রভাবে সমুদ্রের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক নেই। বঙ্গোপসাগরে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদেরও নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  আবহাওয়া দফতরের আগেই বৃষ্টির খবর দেয় যে পাখি : হট্টিটির অজানা কাহিনি

সমুদ্রে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব থাকলে হঠাৎ করে বাতাসের গতি বেড়ে যেতে পারে এবং ঢেউয়ের উচ্চতাও বাড়তে পারে। তাই আবহাওয়া দফতরের নির্দেশ মেনে চলাই নিরাপদ।

বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। সমুদ্রের উপর পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প, উষ্ণতা এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহ থাকলে ঘূর্ণাবর্ত থেকে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা ঘূর্ণাবর্ত এবং সক্রিয় বর্ষাকালীন অক্ষরেখা নতুন নিম্নচাপ তৈরির পরিবেশ তৈরি করেছে। ফলে আগের নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে গেলেও তার পরেই নতুন করে বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

এই কারণেই আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় একের পর এক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে কোনও এলাকায় ভারী বা অতিভারী বৃষ্টির কথা বলা হলে শুধু বৃষ্টির পরিমাণ নয়, স্থানীয় পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই পরিমাণ বৃষ্টি এক এলাকায় সামান্য সমস্যা তৈরি করলেও অন্য এলাকায় জলমগ্নতা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার মতো এলাকায় সোমবারের পূর্বাভাসের দিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।

নিচু এলাকা, নদী তীরবর্তী অঞ্চল এবং জল জমার প্রবণতা রয়েছে এমন জায়গায় বসবাসকারীদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা উচিত।

সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শনিবার থেকে বৃষ্টি বাড়বে, রবিবার আরও জোরালো হবে এবং সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে। তাই আপাতত বর্ষার দাপট থেকে দ্রুত মুক্তির সম্ভাবনা নেই।


Discover more from News Bangla24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Table of contents [hide]

আর্কাইভ