খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপ কাঁপানো গোল! সিডনি ক্যাবরালের অবিশ্বাস্য শট আর প্রেমের উদযাপন

বিশ্বকাপ কাঁপানো গোল! সিডনি ক্যাবরালের অবিশ্বাস্য শট আর প্রেমের উদযাপন

ম্যাচের ১১৫ মিনিটে ক্যাবরাল আবারও এক দারুণ সুযোগ তৈরি করেন। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া তার শটটি প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ অসাধারণ সেভ করে বলটি বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন।

বিশ্বকাপ মানেই নাটক, আবেগ আর অবিশ্বাস্য কিছু মুহূর্ত। তবে কেপ ভার্দের তরুণ তারকা সিডনি লোপেস ক্যাবরাল যা করে দেখালেন, তা যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গেল। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এমন এক গোল তিনি করলেন, যা সহজেই এই বিশ্বকাপের সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার যখন মাঠে বল পায়ে পেলেন, তখন মনে হচ্ছিল কেপ ভার্দে হয়তো ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়বে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো দৃশ্য পাল্টে যায়। বাম দিক থেকে কেটে ঢুকে তিনি যেভাবে দূরের পোস্টে বলটি জালে জড়িয়ে দেন, সেটি ছিল নিখুঁত দক্ষতার এক দারুণ উদাহরণ।

গোলটি শুধু সুন্দরই ছিল না, ছিল বুদ্ধিদীপ্তও। ক্যাবরাল আর্জেন্টিনার একজন ডিফেন্ডারকে এমনভাবে ব্যবহার করেন, যাতে গোলরক্ষক বলটি ঠিকমতো দেখতে না পারেন। তারপর মুহূর্তের মধ্যে শক্তিশালী শট নেন, যা সরাসরি গিয়ে জালের কোণে লেগে যায়।

এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২। কেপ ভার্দে আবারও লড়াইয়ে ফিরে আসে। স্টেডিয়ামে তখন উত্তেজনা তুঙ্গে।

গোল করার পর সাধারণত খেলোয়াড়রা সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করেন। কিন্তু ক্যাবরাল যা করলেন, তা একেবারেই আলাদা। তিনি সরাসরি দৌড়ে দর্শকসারিতে চলে যান। সেখানে গিয়ে নিজের প্রেমিকাকে খুঁজতে থাকেন।

আরও পড়ুন :  সীমান্তে টানটান উত্তেজনা! পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কঠোর অবস্থান, কী বললেন প্রতিমন্ত্রী?

কিছুটা সময় অপেক্ষা করার পর, তার প্রেমিকা নিচে নামেন এবং দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। সেই মুহূর্তটি ছিল একেবারে সিনেমার মতো। স্টেডিয়ামের হাজার হাজার দর্শক সেই আবেগঘন দৃশ্য উপভোগ করেন।

একজন বিশ্লেষক মজার ছলে বলেন, “সে মাঠে ফিরতেই চাইছিল না, যতক্ষণ না তার প্রেমিকা এসে তাকে দেখছে!”—এই মন্তব্যই বোঝায়, মুহূর্তটি কতটা বিশেষ ছিল।

আজ যাকে আমরা বিশ্বমঞ্চে দেখছি, কয়েক বছর আগেও তিনি জার্মানির পঞ্চম স্তরের লিগে খেলতেন। সেখান থেকে উঠে এসে বিশ্বকাপে এমন পারফরম্যান্স—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

তার ক্যারিয়ারের এই মুহূর্ত হয়তো আর কখনও ফিরে আসবে না। তাই তিনি প্রতিটি সেকেন্ড উপভোগ করেছেন। এটা এমন এক গল্প, যা তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

ম্যাচের ১১৫ মিনিটে ক্যাবরাল আবারও এক দারুণ সুযোগ তৈরি করেন। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া তার শটটি প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ অসাধারণ সেভ করে বলটি বারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন।

আরও পড়ুন :  “১৯৪৭-এ পাকিস্তান চায়নি, ১৯৭১-এ বাংলাদেশও না”- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এই মুহূর্তটি প্রমাণ করে, ক্যাবরাল শুধু একবার নয়, বারবারই আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে চাপে ফেলছিলেন।

এই বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে ছিল একেবারেই আন্ডারডগ দল। কিন্তু তারা শুরু থেকেই সবাইকে চমকে দেয়। গ্রুপ পর্বে তারা শক্তিশালী স্পেনকে আটকে দেয় এবং উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করে।

এই পারফরম্যান্স দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, দলটি কিছু বিশেষ করতে চলেছে। নকআউট পর্বে এসে তারা আবারও সেটার প্রমাণ দেয়।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরা। কেপ ভার্দে দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতা ফেরায়। একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়াবে।

কিন্তু ভাগ্য শেষ পর্যন্ত তাদের পক্ষে ছিল না।

টটেনহামের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো লিওনেল মেসির একটি ক্রস থেকে হেড করে গোল করেন। যদিও বলটি এক ডিফেন্ডারের হাতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢোকে। পরে সেটিকে আত্মঘাতী গোল হিসেবে গণ্য করা হয়।

এই গোলের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যায়।

ফিফা র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী আর্জেন্টিনা বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা দল। অন্যদিকে কেপ ভার্দে আফ্রিকার নবম এবং বিশ্বে ৬৭তম অবস্থানে।

এই পার্থক্য সত্ত্বেও কেপ ভার্দে যেভাবে লড়াই করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

আরও পড়ুন :  তোফায়েল আহমেদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন: সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের আরেক নাম

শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনা জয় উদযাপন করলেও সেটি খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। কারণ তারা বুঝেছিল, এই ম্যাচে কেপ ভার্দে তাদের কতটা চাপে ফেলেছিল।

আসলে দিনটি ছিল কেপ ভার্দের। বিশেষ করে সিডনি লোপেস ক্যাবরালের জন্য। তিনি নিজের নাম বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করে তুলেছেন।

এই ম্যাচ হয়তো কেপ ভার্দের জন্য পরাজয়ের গল্প, কিন্তু একই সঙ্গে এটি এক নতুন তারকার জন্মের গল্পও। ক্যাবরাল দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রতিভা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে বড় মঞ্চেও নিজেকে প্রমাণ করা যায়।

যে ছেলেটি কয়েক বছর আগে নিচু লিগে খেলতেন, আজ তিনি বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য—এখানে যেকোনো মুহূর্তেই ইতিহাস তৈরি হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত ফল যাই হোক, এই ম্যাচ এবং সেই গোল অনেক দিন ধরে মানুষের মনে থাকবে। কারণ কিছু মুহূর্ত স্কোরলাইনের বাইরে গিয়েও হৃদয়ে জায়গা করে নেয়—এটাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।


Discover more from News Bangla24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Table of contents [hide]

আর্কাইভ