ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনায় ওমান কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করলে দেশটির ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এক ফোনালাপে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইয়িংস্ট।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পাশাপাশি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন যোগাযোগ বা ‘ব্যাকচ্যানেল’ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে আইআরজিসি পরে এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে ইরান। সোমবার ইরানি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সময়সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য করা ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ সোমবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। ওই সমঝোতায় চূড়ান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ওমান নিজেকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরছে। সংঘাত শুরুর পর দেশটি ইরানের কাছ থেকে কয়েক দফা হামলার শিকার হলেও বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি মূলত বন্ধ করে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে জলপথটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ওয়াশিংটনও প্রণালিটি আবার চালু করতে কূটনৈতিক ও অন্যান্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইয়িংস্ট ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর চরম মাত্রায় বোমা হামলা চালাব।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওমান যেহেতু মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, তাই এমন হুমকি আঞ্চলিক কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
Discover more from News Bangla24x7
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

