ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত পর্যন্ত তা বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনের মরদেহ দেশে আনার কথা থাকলেও রাত ৯টা পর্যন্ত মরদেহবাহী গাড়ি সীমান্তে পৌঁছানোর কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অনেকেই প্রিয়জনের মরদেহ গ্রহণের জন্য বেনাপোল সীমান্তে অপেক্ষা করছেন। তবে ঠিক কখন মরদেহগুলো বাংলাদেশে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।
গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণাশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলীও রয়েছেন।
ইতোমধ্যে নিহত বাংলাদেশিদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ঢাকা সাভার আমিন বাজারের মৃত বাবু আহমদের ভাই মনিরুজ্জামান জানান, তিনি তার ভায়ের লাশ গ্রহনের জন্য বেনাপোলে অবস্থান করছেন। তবে কখন লাশ আসবে কেউ বলতে পারছে না।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেবাশীষ দত্তসহ কয়েকজনের মরদেহ পেট্রাপোল–বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনার কথা রয়েছে। তবে মরদেহবাহী গাড়ি বেনাপোলে ঠিক কখন পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করা হয়নি।
মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বেনাপোল সীমান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসিমোহাম্মদ ফেরদৌস হোসেন । রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তিনি জানান, কোলকাতা থেকে লাশ রওনা হবার খবর এখনো তাদের কাছে আসেনি।
কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুতে দুই দেশেই শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় স্বজনদের কষ্ট আরও গভীর হয়েছে।
এখন নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রধান অপেক্ষা প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরে আসার। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা শেষ বিদায়ের আয়োজন করতে পারবেন।
বেনাপোল সীমান্তে থাকা স্বজনদের আশা, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে মরদেহগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলাদেশে আনা হবে।
Discover more from News Bangla24x7
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

