খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালপেলের সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন! কীভাবে ভায়াগ্রার বিজ্ঞাপনে রাজি হয়েছিলেন ফুটবল সম্রাট?

পেলের সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন! কীভাবে ভায়াগ্রার বিজ্ঞাপনে রাজি হয়েছিলেন ফুটবল সম্রাট?

ফ্লাভিয়ার জীবনে ফুটবল শুধু খেলা নয়, বরং পরিচয় ও আবেগের একটি বড় অংশ। তাই বিশ্বকাপের ড্রয়ে যখন ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন।

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে পেলের নাম এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে। তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি শুধু মাঠেই নয়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব রেখে গেছেন। আর সেই পেলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক থাকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত স্কটল্যান্ডপ্রবাসী ফ্লাভিয়া লিমা।

বর্তমানে স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় বসবাসকারী ২৬ বছর বয়সী ফ্লাভিয়া লিমা বিশ্বাস করেন, বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও স্কটল্যান্ড কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম। তবে ফুটবল বিশ্লেষণের পাশাপাশি তার জীবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো কিংবদন্তি পেলের সঙ্গে তাদের পরিবারের বহু বছরের সম্পর্ক।

ফ্লাভিয়ার জন্ম ব্রাজিলের সাও পাওলোতে। শৈশবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো, নিউইয়র্ক এবং টেক্সাসে বড় হয়েছেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কটল্যান্ডে পাড়ি জমান এবং সেখানেই স্থায়ী হন।

তার পরিবারের শিকড় মিনাস জেরাইস অঞ্চলে। ফ্লাভিয়ার দাদা জুজু স্থানীয় একটি আধা-পেশাদার ফুটবল দলে খেলতেন। একই দলের সদস্য ছিলেন পেলের বাবা ডনদিনহো। সেই সূত্রেই দুই পরিবারের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে ছিল।

ফ্লাভিয়ার ভাষায়, ছোট শহরের সম্পর্কগুলো সহজে হারিয়ে যায় না। একবার যে বন্ধন তৈরি হয়, তা বহু বছর পরও অটুট থাকে।

ফ্লাভিয়ার বাবা ফ্লাভিও একজন ফার্মাসিউটিক্যাল বিশেষজ্ঞ। পেলে ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পরও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। সেই সময় পুরুষদের স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচারণায় অংশ নিতে পেলের সম্মতি আদায় করেন ফ্লাভিও।

বিশেষ করে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে তখন ব্রাজিলে খোলামেলা আলোচনা খুব কমই হতো। সমাজে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের সংকোচ ও ভুল ধারণা ছিল।

ফ্লাভিয়ার মতে, তার বাবা পেলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্কের কারণে এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে তাকে রাজি করাতে সক্ষম হন। প্রচারণাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং পুরুষদের স্বাস্থ্য সমস্যাকে স্বাভাবিক আলোচনার অংশ করে তোলা।

পেলে এই প্রচারণায় নিজেকে সরাসরি কেন্দ্রবিন্দু না করে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতাকে সামনে নিয়ে আসেন। ফলে বিষয়টি আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে এবং ব্রাজিলজুড়ে পুরুষদের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়।

বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে পেলে ছিলেন এক কিংবদন্তি। কিন্তু ফ্লাভিয়ার কাছে তিনি ছিলেন পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন মানুষ।

ফ্লাভিয়া জানান, পেলের মৃত্যুর কিছুদিন আগে তারা ভিডিও কলে তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সেই স্মৃতি এখনও তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

তার কাছে পেলের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবলও রয়েছে, যা তিনি নিজের অন্যতম সেরা স্মারক হিসেবে মনে করেন। ছোটবেলা থেকে তিনি বন্ধুদের বলতেন যে তার বাবা পেলের পরিচিত। অনেকেই বিষয়টি বিশ্বাস করতে চাইতেন না।

ফ্লাভিয়ার মতে, পেলে ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, আন্তরিক এবং সদালাপী একজন মানুষ। তার বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন খুবই সহজ-সরল।

চার বছর আগে ৮২ বছর বয়সে পেলের মৃত্যু ফুটবল বিশ্বকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তার বিদায়ে শুধু ব্রাজিল নয়, গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা শোকাহত হয়েছিলেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনবার শিরোপা জয়ী একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পেলের অর্জন এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তার অবদান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ফ্লাভিয়ার জীবনে ফুটবল শুধু খেলা নয়, বরং পরিচয় ও আবেগের একটি বড় অংশ। তাই বিশ্বকাপের ড্রয়ে যখন ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন।

তার জন্মভূমি ব্রাজিল, বর্তমান আবাসভূমি স্কটল্যান্ড এবং শৈশব কাটানো যুক্তরাষ্ট্র—এই তিনটি পরিচয় যেন এক ম্যাচেই একত্রিত হয়েছে।

বিশেষ করে দীর্ঘ ২৮ বছর পর স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ তাকে আরও আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। তার মতে, এমন এক পরিস্থিতি তিনি কখনও কল্পনাও করেননি।

যদিও ফ্লাভিয়া ব্রাজিলকে সমর্থন করবেন, তবুও তিনি মনে করেন স্কটল্যান্ডকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

অনেক ব্রাজিলিয়ান সমর্থক স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টের সম্ভাবনাময় ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে দেখছেন। দলটি হয়তো তারকায় ভরা নয়, কিন্তু তাদের মধ্যে রয়েছে লড়াই করার মানসিকতা এবং চমক দেখানোর সক্ষমতা।

ফ্লাভিয়ার বিশ্বাস, ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচ একপেশে হবে না। বরং দুই দলই সমান তালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং ম্যাচটি দর্শকদের জন্য দারুণ উপভোগ্য হবে।

এডিনবরায় বসবাসরত ব্রাজিলিয়ান কমিউনিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে ফ্লাভিয়ার। তাদের অনেকেই এই ম্যাচ নিয়ে ভীষণ আগ্রহী।

মজার বিষয় হলো, স্কটল্যান্ড জিতলেও বেশিরভাগ ব্রাজিলিয়ান সমর্থক খুব বেশি হতাশ হবেন না বলে তার ধারণা। কারণ তারা স্কটল্যান্ডের সংগ্রাম ও উন্নতিকে সম্মান করেন।

ফ্লাভিয়ার ব্যক্তিগত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হতে পারে। তার বিশ্বাস, স্কটল্যান্ডের জয়ের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ফ্লাভিয়া লিমার গল্প শুধু ফুটবলের গল্প নয়; এটি পারিবারিক বন্ধন, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং প্রজন্মজুড়ে টিকে থাকা সম্পর্কের গল্প। পেলের মতো একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাদের পরিবারের দীর্ঘ সম্পর্ক যেমন বিস্ময়কর, তেমনি পুরুষদের স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে তার ভূমিকার স্মৃতিও গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে তার উচ্ছ্বাস ফুটবল যে কেবল একটি খেলা নয়, বরং মানুষের পরিচয়, আবেগ ও স্মৃতির অংশ—সেই সত্যকেই আবারও সামনে নিয়ে আসে। স্কটল্যান্ডকে তিনি যতটা সম্মান করছেন, ততটাই ভালোবাসছেন নিজের জন্মভূমি ব্রাজিলকে। আর সেই কারণেই এই ম্যাচটি তার কাছে শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ের এক অনন্য মিলনমেলা।