খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeভাইরাল নিউজছেলে কোলে জেমসের গান নোবেলের, ‘মতি ফিরল?’ প্রশ্ন নেটপাড়ার

ছেলে কোলে জেমসের গান নোবেলের, ‘মতি ফিরল?’ প্রশ্ন নেটপাড়ার

সেই সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, নোবেল ভবিষ্যতে বাংলা সংগীতের অন্যতম আলোচিত শিল্পী হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর গায়কী নিয়ে দুই বাংলার শ্রোতাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ।

বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী মইনুল আহসান নোবেলকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে একটি ভিডিও। একসময় যে গান তাঁকে দুই বাংলার দর্শকের কাছে পরিচিত করে তুলেছিল, সেই জেমসের জনপ্রিয় গান ‘বাবা কতদিন’ এবার ছেলে কোলে নিয়ে গাইলেন নোবেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই আবারও তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

ভিডিওতে দেখা যায়, সন্তানকে কোলে নিয়ে বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে গান করছেন নোবেল। তাঁর কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে জেমসের ‘বাবা কতদিন’। ভিডিওটির সঙ্গে নোবেল লিখেছেন, ‘আমার বাবা আর আমি।’ দীর্ঘ সময় পর গানের জগতে নোবেলকে এমন পরিচিত মেজাজে দেখে তাঁর অনুরাগীদের অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

তবে নোবেলকে ঘিরে আলোচনার সঙ্গে তাঁর অতীত বিতর্কও ফিরে এসেছে। কেউ তাঁকে আগের মতো গানে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। আবার কেউ অতীতের নানা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেছেন। ফলে একটি সাধারণ পারিবারিক মুহূর্তও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেলকে ঘিরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মইনুল আহসান নোবেল বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী হলেও দুই বাংলায় তাঁর পরিচিতি তৈরি হয় ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’-এর মাধ্যমে। সেখানে তাঁর গায়কী দর্শকদের নজর কাড়ে।

বিশেষ করে জেমসের ‘বাবা কতদিন’ গানটি নোবেলের কণ্ঠে নতুন করে আলোচনায় আসে। তাঁর কণ্ঠের গভীরতা, পরিবেশনের ধরন এবং গানের আবেগ অনেক দর্শককে আকৃষ্ট করেছিল।

সেই সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, নোবেল ভবিষ্যতে বাংলা সংগীতের অন্যতম আলোচিত শিল্পী হয়ে উঠতে পারেন। তাঁর গায়কী নিয়ে দুই বাংলার শ্রোতাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন বিতর্কও সামনে আসতে থাকে। ধীরে ধীরে গানের খবরের চেয়ে নোবেলকে ঘিরে নানা বিতর্কই বেশি আলোচনায় আসে।

নতুন ভাইরাল ভিডিওতে ‘বাবা কতদিন’ গানটি গাওয়ার সময় নোবেলের পাশে মঞ্চের কোনো প্রতিযোগিতা বা বড় আয়োজন নেই। বরং তাঁর কোলে রয়েছে নিজের সন্তান।

এ কারণেই ভিডিওটির আবেগের জায়গাটিও আলাদা। একসময় যে গান নোবেলের পরিচিতি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, এবার সেই গানই তিনি গাইলেন একজন বাবা হিসেবে।

ভিডিওটির ক্যাপশনও সেই বিষয়টিকে স্পষ্ট করেছে। নোবেল লিখেছেন, ‘আমার বাবা আর আমি।’

একজন শিল্পীর জীবনে এমন মুহূর্ত স্বাভাবিকভাবেই আবেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নোবেলের মতো একজন শিল্পী, যাঁর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় গান দিয়েই শুরু হয়েছিল এবং পরে নানা বিতর্কে তাঁর অবস্থান বদলে যায়।

অনুরাগীদের কাছে তাই এই ভিডিও শুধু একটি গান গাওয়ার মুহূর্ত নয়। অনেকের কাছে এটি নোবেলের জীবনে নতুন করে ফিরে আসার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নোবেলের ভক্তদের একটি অংশ তাঁকে আবার নিয়মিত গান করতে অনুরোধ করেছেন।

কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে যেন নোবেল নিজের জীবনকে নতুনভাবে সাজান এবং আবার সংগীতের জগতে মন দেন।

অনেকের বক্তব্যের মূল সুর ছিল—যে নোবেল একসময় নিজের গায়কী দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন, তাঁকে আবার সেই জায়গায় দেখতে চান তাঁরা।

একজন অনুরাগী তাঁকে পুরনো সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে গানের জগতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, সন্তানের দিকে তাকিয়ে যেন তিনি নিজের ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো থেকে দূরে থাকেন।

অবশ্য সব মন্তব্য ইতিবাচক ছিল না। নোবেলের অতীতের নানা বিতর্কের কথা মনে করিয়ে কেউ কেউ কটাক্ষও করেছেন। এমনই একটি মন্তব্যে প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘মতি ফিরল?’

অর্থাৎ, নোবেলের এই নতুন পারিবারিক মুহূর্তকেও অনেকে তাঁর অতীত আচরণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

নোবেলের ক্যারিয়ারকে দুই ভাগে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। একদিকে তাঁর গায়কী তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। অন্যদিকে বিভিন্ন সময় তাঁর মন্তব্য, আচরণ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সেই জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য নিয়েও একাধিকবার বিতর্ক হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এছাড়াও ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা সময়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। ফলে সংগীতশিল্পী হিসেবে নোবেলের পরিচয়ের সঙ্গে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের একটি ভাবমূর্তিও তৈরি হয়।

তবে এসব বিতর্কের মাঝেও তাঁর গানের জনপ্রিয়তা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। পুরনো গান কিংবা তাঁর গায়কীর ভিডিও সামনে এলেই অনেক শ্রোতা এখনও আগ্রহ দেখান।

নতুন ভিডিও ঘিরে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি উঠছে, সেটি হলো—বাবা হওয়ার পর কি নোবেলের জীবনে পরিবর্তন আসছে?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। একটি ভিডিও বা একটি পারিবারিক মুহূর্ত দিয়ে কারও জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা বিচার করা যায় না।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে, নোবেলের একটি অংশের শ্রোতা এখনও তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।

তাঁরা চান, ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক পেছনে ফেলে নোবেল আবার গানকে গুরুত্ব দিন। নতুন গান প্রকাশ করুন, মঞ্চে ফিরুন এবং নিজের কণ্ঠের শক্তি দিয়ে আবার শ্রোতাদের কাছে জায়গা করে নিন।

একজন শিল্পীর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জনপ্রিয়তা হারিয়ে গেলেও শ্রোতাদের একটি অংশ যদি এখনও তাঁর সংগীতের জন্য অপেক্ষা করেন, তাহলে ফিরে আসার সুযোগ থেকে যায়।

নোবেলের জনপ্রিয়তার বড় একটি অংশ তৈরি হয়েছিল ‘সারেগামাপা’ মঞ্চে। বাংলাদেশের বাইরে ভারতের দর্শকদের কাছেও তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

সেই সময় তাঁর বিভিন্ন পরিবেশনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ত। বিশেষ করে জেমসের গান গাওয়ার সময় তাঁর কণ্ঠের আবেগ এবং পরিবেশনার ধরন দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল।

তাই এখন যখন তিনি আবার ‘বাবা কতদিন’ গানটি গাইলেন, স্বাভাবিকভাবেই পুরনো সেই স্মৃতি সামনে এসেছে।

অনেক দর্শক হয়তো ভিডিওটি দেখে সেই সময়ের নোবেলকে মনে করেছেন। একজন তরুণ শিল্পী, যার সামনে তখন বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে গিয়েছিল।

কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কতটা কাজে লাগানো গেছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

নোবেলের সামনে এখনও সংগীতে ফেরার সুযোগ রয়েছে। তবে তার জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করলেই একজন শিল্পীর ক্যারিয়ার নতুন করে গড়ে ওঠে না। ভালো গান, নিয়মিত কাজ, পেশাদার আচরণ এবং শ্রোতাদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।

নোবেলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর কণ্ঠ। ‘সারেগামাপা’ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন পরিবেশনায় তিনি প্রমাণ করেছেন যে তাঁর গায়কীতে আলাদা একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

সেই জায়গাটিকে যদি তিনি কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে সংগীতাঙ্গনে আবারও নিজের জায়গা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

তবে এর জন্য অতীতের বিতর্ক থেকে দূরে থাকা এবং সংগীতকেই সামনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নোবেলের নতুন ভিডিওতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াও বেশ বৈচিত্র্যময়।

কেউ লিখেছেন, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে যেন নোবেল নিজের জীবনকে নতুনভাবে সাজান। কেউ তাঁকে পুরনো সময়ের মতো আবার শ্রোতাদের মাঝে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

আবার কেউ তাঁর অতীতের বিতর্কের কথা তুলে কটাক্ষ করেছেন।

এই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া আসলে নোবেলকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতিটাই তুলে ধরে। তাঁর প্রতি এখনও মানুষের আগ্রহ আছে। একই সঙ্গে তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকের মনে প্রশ্নও রয়েছে।

অর্থাৎ নোবেল এখনও আলোচনার বাইরে চলে যাননি। বরং তাঁর একটি সাধারণ ভিডিওও দ্রুত মানুষের নজরে আসছে।

নোবেলের নতুন ভিডিওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত তাঁর বাবা হিসেবে নতুন পরিচয়।

গানের জগতে তিনি বহু বছর ধরে পরিচিত। কিন্তু সন্তানকে কোলে নিয়ে নিজের পরিচিত গান গাওয়ার দৃশ্যটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়কে সামনে এনেছে।

একজন বাবা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। তাই অনেক অনুরাগীও মনে করছেন, এই নতুন পরিচয় হয়তো তাঁকে জীবনের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে।

অবশ্য ভবিষ্যতে তিনি কী করবেন, সেটি সময়ই বলবে।

একসময় নোবেলকে নিয়ে বাংলা সংগীতাঙ্গনে অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। তাঁর কণ্ঠ এবং পরিবেশনার ধরন তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল।

কিন্তু বিতর্ক সেই পথকে কঠিন করে দেয়।

এখন সন্তানকে কোলে নিয়ে ‘বাবা কতদিন’ গান গাওয়ার ভিডিও আবার সেই পুরনো নোবেলের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।

এটি হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারে সত্যিকারের প্রত্যাবর্তনের সূচনা নয়। তবে এটুকু স্পষ্ট, তাঁর শ্রোতাদের একটি অংশ এখনও তাঁকে ভুলে যায়নি।

বরং তাঁরা অপেক্ষা করছেন—নোবেল কি আবার গানকে সামনে রেখে নতুনভাবে শুরু করবেন?

মইনুল আহসান নোবেলের ছেলে কোলে নিয়ে ‘বাবা কতদিন’ গান গাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশন ‘আমার বাবা আর আমি’ হওয়ায় মুহূর্তটি আরও আবেগপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একসময় এই গানই নোবেলের পরিচিতির অন্যতম বড় কারণ ছিল। এবার একই গান তিনি গাইলেন নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে।

ফলে ভিডিওটি শুধু নোবেলের গান নয়, তাঁর জীবনের পরিবর্তিত পরিচয়েরও একটি ছবি তুলে ধরেছে।

অনুরাগীদের একাংশ তাঁকে আবার সংগীতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ পুরনো দিনের নোবেলকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ অতীতের বিতর্কের কথা মনে করিয়ে কটাক্ষ করেছেন।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বিরতির পর নোবেলকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভাইরাল এই মুহূর্ত কি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি আলোচিত ভিডিও হয়েই থাকবে, নাকি সত্যিই সংগীতের মঞ্চে নোবেলের নতুন প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করবে।

শেষ পর্যন্ত উত্তরটা নোবেলকেই দিতে হবে—গান দিয়ে।

আর্কাইভ