খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদওয়েস্ট বেঙ্গলবরানগরের ভাইরাল ভিডিও: নর্তকীকে কোলে তুলে নাচ, বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের

বরানগরের ভাইরাল ভিডিও: নর্তকীকে কোলে তুলে নাচ, বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ওই সেবা শিবিরের সঙ্গে বিজেপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মী যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় ১ নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি জীতেন্দ্র গিরি, যুব মোর্চার সম্পাদক মেহেলি চট্টোপাধ্যায় এবং শক্তিকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা তাপস শর্মার নাম উঠে এসেছে।

বরানগরে শিবভক্তদের জন্য আয়োজিত একটি সেবা শিবিরে নাচের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে মঞ্চে উঠে এক নর্তকীর সঙ্গে নাচতে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে একজন নর্তকীকে কোলে তুলে নাচছেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে নিশানা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সত্যিই বিজেপির কর্মী বা নেতা কি না, সেটিও আলাদাভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ভিডিওকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক বক্তব্য—দুই দিকই আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনাটি উত্তর কলকাতার শহরতলির বরানগরে বলে দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক দলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিটি রোডের ধারে শিবভক্তদের জন্য একটি সেবা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে জল, সরবত, বিস্কুট, খিচুড়িসহ বিভিন্ন খাবারের ব্যবস্থা ছিল। রাতে ওই শিবিরেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিকে ঘিরেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। ভিডিওতে একটি মঞ্চে নাচের অনুষ্ঠান চলতে দেখা যায়। সেখানে একজন নর্তকীর সঙ্গে কয়েকজন পুরুষকে নাচতে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের মধ্যে একজন নর্তকীকে কোলে তুলে নাচছেন—এমন দৃশ্যও ভিডিওতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মঞ্চের আশপাশে আরও কয়েকজন মানুষকে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে মহিলা কর্মীদের মতো দেখতে কয়েকজনের উপস্থিতিও নজরে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে শুধু ভিডিওর দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করা যায় না। একইভাবে ভিডিওটি ঠিক কখন ধারণ করা হয়েছে, পুরো অনুষ্ঠানের কতটা অংশ সেখানে রয়েছে এবং ভিডিওটি সম্পাদিত কি না—এসব প্রশ্নেরও নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনও সামনে আসেনি।

এই কারণেই সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোকে যাচাই করা তথ্য হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বরানগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিটি রোডের পাশে একটি পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। শ্রাবণ মাসে বহু শিবভক্ত বিটি রোড ধরে তারকেশ্বরের দিকে যাতায়াত করেন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই ওই এলাকায় সেবা শিবির করা হয়েছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন :  কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টি! দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের সতর্কতা

শিবভক্তদের জন্য সাধারণত এই ধরনের শিবিরে পানীয় জল, সরবত, বিস্কুট, ফল, খিচুড়ি বা অন্যান্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ পথ পায়ে হাঁটা বা যানবাহনে যাতায়াত করা পুণ্যার্থীদের বিশ্রাম ও খাবারের ব্যবস্থা করাও এই ধরনের শিবিরের অন্যতম উদ্দেশ্য।

অভিযোগ, দিনের কর্মসূচির পর রাতে সেখানে গান ও নাচের অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেই সময়ই মঞ্চে কয়েকজন উঠে নাচেন। এরপর ওই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির একটি হলো—ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা আদৌ বিজেপির কর্মী কি না।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ওই সেবা শিবিরের সঙ্গে বিজেপির কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মী যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় ১ নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি জীতেন্দ্র গিরি, যুব মোর্চার সম্পাদক মেহেলি চট্টোপাধ্যায় এবং শক্তিকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা তাপস শর্মার নাম উঠে এসেছে।

তবে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই নেতাদের প্রত্যেকের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে শুধু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শিবিরের যোগ থাকার ভিত্তিতে ভিডিওতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে বিজেপি কর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।

এই জায়গাটিই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টচেকের বিষয়।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হলেও ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এখনও স্পষ্ট নয়। ভিডিওটির মূল উৎস কী, কখন সেটি ধারণ করা হয়েছিল এবং ভিডিওতে কোনও অংশ কেটে বা সম্পাদনা করে প্রকাশ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

কোনও ভিডিও ভাইরাল হওয়া মানেই তার প্রতিটি দাবি সত্য—এমনটা ধরে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্রে পুরনো ভিডিও, অন্য অনুষ্ঠানের দৃশ্য বা সম্পাদিত ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার নজির রয়েছে।

তাই এই ঘটনায় ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ, মূল আপলোড, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের বক্তব্য এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়—সবকিছু মিলিয়ে দেখা জরুরি।

আরও পড়ুন :  ঐশ্বর্যার পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক মাধুরী দীক্ষিত : ট্রোলারদের কড়া জবাব

এখন পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে বলা যায়, ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ভিডিওটির সত্যতা ও সেখানে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ভিডিওটি সামনে আসার পর বিজেপিকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল। বরানগরের তৃণমূল যুব নেতা শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজো সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি পোস্ট করেন বলে জানা গেছে।

ভিডিওকে কেন্দ্র করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিবভক্তদের সেবা করার নামে এমন আয়োজন কেন করা হল। তাঁর অভিযোগ, বাংলার সংস্কৃতির নামে এই ধরনের ‘অপসংস্কৃতি’ বরানগরের মানুষ মেনে নেবেন না।

অর্থাৎ তৃণমূলের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য শুধু নাচের অনুষ্ঠান নয়, বিজেপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলা। শিবভক্তদের জন্য ধর্মীয় সেবা শিবিরে এ ধরনের অনুষ্ঠান কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই প্রশ্নও তুলেছে বিরোধী দল।

তবে তৃণমূলের এই অভিযোগও রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা তাঁদের দলীয় পদ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

ঘটনা নিয়ে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের কাছেও প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছে। বিজেপির ১ নম্বর মণ্ডল সভাপতি মলি রায় জানিয়েছেন, তিনি বিধানসভায় কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

উত্তর শহরতলি জেলা বিজেপি সভাপতি চণ্ডীচরণ রায়ও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে মন্তব্য করার কথা জানিয়েছেন।

অর্থাৎ বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্ত বক্তব্য সামনে আসেনি।

এই পরিস্থিতিতে ঘটনার সত্যতা নিয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

বর্তমানে রাজনৈতিক বিতর্কে সামাজিক মাধ্যমের ভিডিও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কোনও ঘটনার কয়েক মিনিটের ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে।

বরানগরের ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। পাল্টা বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন :  জোড়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বাংলাজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, কলকাতাসহ একাধিক জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—একটি ভিডিওতে যা দেখা যায়, তার পেছনের সম্পূর্ণ ঘটনা সবসময় ভিডিও থেকে বোঝা যায় না। অনুষ্ঠানটি কেন হয়েছিল, সেখানে কারা আয়োজক ছিলেন, মঞ্চে ওঠা ব্যক্তিরা কারা এবং তাঁদের ভূমিকা কী ছিল—এসব জানার জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।

শিবভক্তদের জন্য আয়োজিত সেবা শিবির সাধারণত ধর্মীয় আবহের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও তার ধরন নিয়ে মানুষের মধ্যে আলাদা প্রত্যাশা থাকে।

বরানগরের ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের অন্যতম কারণও সেটি। একটি ধর্মীয় সেবা শিবিরের মঞ্চে নাচের অনুষ্ঠান এবং সেখানে কয়েকজন পুরুষের নর্তকীর সঙ্গে নাচার দৃশ্য অনেকের কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে।

অন্যদিকে, শুধু ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্য দেখে পুরো অনুষ্ঠান সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোও ঠিক নয়। অনুষ্ঠানের অনুমতি, আয়োজকদের উদ্দেশ্য এবং সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয়—সবকিছু জানা প্রয়োজন।

ভিডিওটি যদি সম্পূর্ণ এবং নির্ভুল বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে সেবা শিবিরের আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা যদি দলীয় পরিচয়ে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন, তাহলে এমন একটি অনুষ্ঠান কেন করা হয়েছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক হওয়াই স্বাভাবিক।

তবে ভিডিওটি সত্যি হলেও সেখানে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হবে। একইভাবে কেউ কোনও দলের কর্মী হলেও তিনি যে দলীয় নির্দেশে বা দলের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ওই কাজ করেছেন, সেটিও আলাদা বিষয়।

তাই ঘটনাটিকে সরাসরি ‘বিজেপির অনুষ্ঠান’ বা ‘বিজেপি কর্মীদের কাণ্ড’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে আরও প্রমাণ প্রয়োজন।

এই ঘটনায় কয়েকটি বিষয় যাচাই করা সবচেয়ে জরুরি।

প্রথমত, ভাইরাল ভিডিওটির মূল উৎস খুঁজে বের করা দরকার। দ্বিতীয়ত, ভিডিওটি কবে এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছিল তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা প্রয়োজন। চতুর্থত, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক কারা ছিলেন এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁদের আনুষ্ঠানিক যোগ ছিল কি না, সেটিও দেখা দরকার।

আর্কাইভ