Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeআবহাওয়াকলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টি! দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের সতর্কতা

কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টি! দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের সতর্কতা

দক্ষিণ ভারতে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা প্রবেশ করেছে। তবে উত্তর ভারতে এখনও বর্ষার অগ্রগতি হয়নি। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে।

তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার মধ্যে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে আবহাওয়া দফতরের নতুন পূর্বাভাস। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী কয়েক দিনে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। সেই বৃষ্টিতে গরমের প্রকোপ কিছুটা কমলেও দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি মেলেনি। জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে এখনও নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে।

শনিবার কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমালেও ভ্যাপসা গরম থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে না।

আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, শনিবারের পর আগামী বৃহস্পতিবার ফের কলকাতায় ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই ধরনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে হাওড়া ও হুগলি জেলাতেও।

দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। তালিকায় রয়েছে—

  • পশ্চিম মেদিনীপুর
  • বাঁকুড়া
  • পূর্ব বর্ধমান
  • পশ্চিম বর্ধমান
  • বীরভূম
  • মুর্শিদাবাদ
  • নদিয়া

এর মধ্যে নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

বৃষ্টি হলেও গরমের হাত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে খুব বেশি স্বস্তি মিলবে না বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আগামী সাত দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি অব্যাহত থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরম আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।

উত্তরবঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়াও নিম্নলিখিত জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে—

  • দার্জিলিং
  • কালিম্পং
  • কোচবিহার

এই সব জেলায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতেও পারে।

অন্যদিকে উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা সব জেলাতেই জারি রয়েছে।

দক্ষিণ ভারতে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা প্রবেশ করেছে। তবে উত্তর ভারতে এখনও বর্ষার অগ্রগতি হয়নি। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে।

এছাড়াও উত্তরবঙ্গ এবং সংলগ্ন বিহার অঞ্চলের উপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই দুই আবহাওয়াগত ব্যবস্থার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে।

ফলস্বরূপ, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝড়ের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

শনিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৮ ডিগ্রি বেশি। অন্যদিকে শুক্রবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.১ ডিগ্রি কম।

তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের অস্বস্তি অব্যাহত রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝড়ের সম্ভাবনা থাকলেও গরম থেকে সম্পূর্ণ স্বস্তি মিলবে না। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় প্রবল ঝড়ের সতর্কতা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলা এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়াই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।