২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লা রোজা। বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান SofaScore তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ঘোষণা করেছে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ। সেই একাদশে স্পেনের খেলোয়াড়দেরই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য মিলেছে। তবে গোলরক্ষকের পজিশনে জায়গা করে নিয়ে চমক দেখিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের গ্রেগর কোবেল।
অন্যদিকে আক্রমণভাগে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবার জায়গা পাননি সেরা একাদশে।
বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল ধারাবাহিকভাবে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন। গ্রুপ পর্বে কানাডার বিপক্ষে নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি ঠেকিয়ে সুইজারল্যান্ডকে ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন।
শুধু গোলরক্ষক হিসেবেই নয়, আধুনিক ফুটবলে বল নিয়ে খেলার দক্ষতাও দেখিয়েছেন কোবেল। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর পাস সফলতার হার ছিল ৭৫ শতাংশ।
সেরা একাদশের রক্ষণভাগে রয়েছেন স্পেনের চার ফুটবলার।
বাম প্রান্তে আছেন মার্ক কুকুরেয়া। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৪৩১টি পাসের মধ্যে ৩৯৮টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি বল পুনরুদ্ধার, ক্লিয়ারেন্স এবং আক্রমণে দুটি অ্যাসিস্ট করে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেন।
সেন্টার-ব্যাক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন আয়মেরিক লাপোর্তে ও তরুণ পাও কুবার্সি। ৩২ বছর বয়সী লাপোর্তে ৯৩.৪৭ শতাংশ পাস সফলতার পাশাপাশি ১৫টি ইন্টারসেপশন ও ২৯টি ক্লিয়ারেন্স করেন।
অন্যদিকে ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপজয়ী হওয়া পাও কুবার্সি ছিলেন টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা তরুণ ফুটবলার। তাঁর পাস সফলতার হার ছিল ৯৬.১৩ শতাংশ। পাশাপাশি ৩২টি ক্লিয়ারেন্স, পাঁচটি ইন্টারসেপশন এবং দুটি ব্লক করা শট তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।
ডান প্রান্তে রয়েছেন পেদ্রো পোরো। সব ম্যাচে না খেললেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের জন্য অবদান রাখেন তিনি। বিশেষ করে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে স্পেনের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
মধ্যমাঠের রক্ষণাত্মক ভূমিকায় রয়েছেন স্পেনের রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি অ্যাসিস্ট করলেও খেলার নিয়ন্ত্রণ, বল দখল এবং রক্ষণ সামলানোর দক্ষতায় তিনি ছিলেন অনন্য। সেই কারণেই তাঁকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও মূল্যায়ন করা হয়েছে।
আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডে রয়েছেন ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম এবং ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে।
বেলিংহ্যাম বিশ্বকাপে সাতটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন। শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনালে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অন্যদিকে দেম্বেলে ছয়টি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেন। নরওয়ের বিপক্ষে তাঁর হ্যাটট্রিক ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স।
ডান প্রান্তে রয়েছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি করেন আটটি গোল এবং চারটি অ্যাসিস্ট। উদ্বোধনী ম্যাচে হ্যাটট্রিক, মিসরের বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে সাত মিনিটে দুটি গোল—সব মিলিয়ে আবারও নিজের অসাধারণ সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি। SofaScore রেটিংয়েও তিনিই সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন।
স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই সাতটি গোল করেন তিনি। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নরওয়েকে ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন।
বাম প্রান্তে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১০টি গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নেন। যদিও সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে নিজের সেরা ছন্দে ছিলেন না, তবুও পুরো আসরে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।
গোলরক্ষক: গ্রেগর কোবেল (সুইজারল্যান্ড)
রক্ষণভাগ: পেদ্রো পোরো (স্পেন), পাও কুবার্সি (স্পেন), আয়মেরিক লাপোর্তে (স্পেন), মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন)
মধ্যমাঠ: রদ্রি (স্পেন), জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড), উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স)
আক্রমণভাগ: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
স্পেনের শিরোপা জয়ের মতোই SofaScore-এর সেরা একাদশেও স্প্যানিশ ফুটবলারদের প্রাধান্য স্পষ্ট। তবে একই সঙ্গে মেসি, এমবাপ্পে, হালান্ড, বেলিংহ্যাম ও দেম্বেলের মতো বিশ্বতারকারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে প্রমাণ করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ ছিল আধুনিক ফুটবলের সেরাদের এক অনন্য মঞ্চ।

