Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলদ্য লাস্ট ডান্স! শেষ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে মেসি ও রোনাল্ডো

দ্য লাস্ট ডান্স! শেষ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে মেসি ও রোনাল্ডো

২০০৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিলেন লিয়োনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। এরপর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলতে নামছেন তাঁরা। এর আগে কোনও ফুটবলার ছয়বার বিশ্বকাপে অংশ নেননি।

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উত্তেজনা এবং ইতিহাস তৈরির মঞ্চ। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে আবেগের মাত্রা অন্যরকম। কারণ, এই আসরেই সম্ভবত শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে ফুটবলের দুই মহাতারকা লিয়োনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে। দুই কিংবদন্তি নিজেদের কেরিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলেছেন, যা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

বয়সের ভারে গতি কিছুটা কমলেও তাঁদের প্রভাব এবং জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই বিশ্বকাপ তাই শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং দুই মহাতারকার শেষ নৃত্য—‘দ্য লাস্ট ডান্স’।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড মেসি ও রোনাল্ডোর

২০০৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিলেন লিয়োনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। এরপর টানা ছয়টি বিশ্বকাপে খেলতে নামছেন তাঁরা। এর আগে কোনও ফুটবলার ছয়বার বিশ্বকাপে অংশ নেননি।

এই অনন্য রেকর্ডের বছরে দুই তারকার লক্ষ্যও আলাদা। একদিকে মেসির লক্ষ্য দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নিজের কিংবদন্তিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে রোনাল্ডোর সামনে সুযোগ রয়েছে পর্তুগালকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দিয়ে ‘গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম’ বা ‘গোট’ বিতর্কে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার।

মারাদোনাকে ছাপিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে মেসি

২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার নজরে উঠে এসেছিলেন ১৯ বছরের এক তরুণ ফুটবলার। লম্বা চুলের সেই মেসি প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই গোল করে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন।

এরপর কেটে গেছে দুই দশক। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে বিদায়, ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠে হতাশা এবং ২০১৮ সালে ফ্রান্সের কাছে পরাজয়—বিশ্বকাপ যাত্রা সবসময় মসৃণ ছিল না।

তবে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে স্বপ্নপূরণ করেন মেসি। আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ এনে দেন তিনি। সেই সাফল্যের পর থেকেই আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি পৌঁছে গেছেন দিয়েগো মারাদোনার সমান উচ্চতায়।

এবারের বিশ্বকাপে মেসির সামনে সুযোগ রয়েছে নিজের আদর্শ মারাদোনাকেও ছাপিয়ে যাওয়ার। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে তিনি ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লিখতে পারেন।

বিশ্বকাপ জয়ের পরও থামেননি এলএম১০

অনেকেই ভেবেছিলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন মেসি। কিন্তু ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এখনও অটুট।

প্যারিস সেন্ট জার্মেই ছেড়ে তিনি যোগ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই সবার আগে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকাও জিতেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছেন, তিনি যতদিন ফুটবল উপভোগ করবেন, ততদিন খেলা চালিয়ে যাবেন।

একাধিক রেকর্ডের সামনে মেসি

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড বর্তমানে মেসির দখলে। এখন পর্যন্ত ২৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

এছাড়া জাতীয় দলের হয়ে ২০০ ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করতেও খুব কাছাকাছি রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা ১৩। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজ়ের ১৬ গোলের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভাঙতে প্রয়োজন মাত্র চারটি গোল। তুলনামূলক সহজ গ্রুপে থাকায় এই কীর্তিও গড়ে ফেলতে পারেন মেসি।

৩৯তম জন্মদিনের মাত্র কয়েকদিন পর বিশ্বকাপে মাঠে নামবেন তিনি। কোচ লিওনেল স্কালোনি এখনও দল গড়েছেন মেসিকে কেন্দ্র করে। তাই শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন এলএম১০।

পর্তুগালকে প্রথম বিশ্বকাপ দেওয়ার স্বপ্নে রোনাল্ডো

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে। ঘরের মাঠে ফাইনালে গ্রীসের কাছে হারের বেদনা দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর যাত্রা।

আজ সেই কিশোরের বয়স ৪১ বছর। তবুও জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা তিনি।

মেসির মতোই ২০০৬ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপে খেলছেন রোনাল্ডো। কিন্তু বিশ্বকাপে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এখনও অধরা। পর্তুগালের হয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়।

তবে বিশ্বকাপ না জিতলে ফুটবল ইতিহাসে মেসির সঙ্গে সমান উচ্চতায় পৌঁছানো কঠিন বলেই মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

নকআউটে গোলের অপেক্ষায় সিআর৭

২০০৬ সালে পর্তুগাল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল। এরপর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খুব বেশি সাফল্য পায়নি দলটি।

বিশ্বকাপে মোট আটটি গোল করলেও নকআউট পর্বে এখনও গোলের দেখা পাননি রোনাল্ডো। তাই এবারের বিশ্বকাপে তাঁর সমর্থকদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে দলের ত্রাতা হয়ে ওঠা।

জাতীয় দলের হয়ে ২২৬ ম্যাচ খেলে ইতিমধ্যেই বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন সিআর৭। সম্প্রতি তিনিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটিই হতে পারে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ।

রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে পর্তুগাল শক্তিশালী দল হিসেবেই বিশ্বকাপে নামবে। সহজ গ্রুপে থাকায় নকআউটে ওঠার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।

‘গোট’ বিতর্কের শেষ সুযোগ?

ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে মেসি বনাম রোনাল্ডো বিতর্ক। কে সর্বকালের সেরা—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

২০২২ সালের আগে বিতর্ক ছিল আরও তীব্র। মেসির ছিল কোপা আমেরিকা, আর রোনাল্ডোর ছিল ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। ক্লাব ফুটবলেও দুই তারকার অর্জন ছিল প্রায় সমান।

তবে কাতার বিশ্বকাপের পর পাল্লা কিছুটা মেসির দিকে ঝুঁকেছে। কারণ, তাঁর ঝুলিতে এখন রয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফিও।

ফলে রোনাল্ডোর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ পর্তুগালকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করা। সেটি করতে পারলে ‘গোট’ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে নিঃসন্দেহে।

২০২৬ বিশ্বকাপ: নতুন যুগের সূচনা

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ একাধিক কারণে ঐতিহাসিক হতে চলেছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এই আসরে।

যৌথভাবে প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। তিন দেশেই অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ফুটবল বিশ্বের নজর থাকবে এই মহাযজ্ঞের দিকে।

শেষ নৃত্যের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব

মেসি এবং রোনাল্ডো শুধু ফুটবলার নন, তাঁরা একটি প্রজন্মের আবেগ। তাঁদের দ্বৈরথ গত দুই দশক ধরে ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হয়তো হবে তাঁদের শেষ বিশ্বমঞ্চ। একজন নামবেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে, অন্যজন দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জিতে নিজের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ করতে।

ফল যাই হোক, ফুটবল ইতিহাসে তাঁদের অবদান অমলিন হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপের এই শেষ অধ্যায় তাই শুধু ট্রফির লড়াই নয়, বরং দুই কিংবদন্তির উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করার মঞ্চ।

ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায়—মেসির জাদু, নাকি রোনাল্ডোর অদম্য লড়াই? উত্তর মিলবে বিশ্বকাপের সবুজ ঘাসে।