খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদআমেরিকার ৭ প্রদেশের পানি সরবরাহে সাইবার হামলা, নেপথ্যে কি ইরান?

আমেরিকার ৭ প্রদেশের পানি সরবরাহে সাইবার হামলা, নেপথ্যে কি ইরান?

সাম্প্রতিক সাইবার হামলার অন্যতম বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মিনেসোটা। সেখানে অন্তত ৩০টি পৌর জল সরবরাহ ব্যবস্থা হ্যাকারদের কার্যকলাপের মুখে পড়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর একের পর এক সাইবার হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির একাধিক অঙ্গরাজ্যের পৌর জল সরবরাহ ও বর্জ্যজল ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। মার্কিন তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন পৌরসভা এই হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে মিনেসোটার অন্তত ৩০টি পৌর জল সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। পরে আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের জল সরবরাহ ব্যবস্থায় একই ধরনের হামলার তথ্য সামনে আসে।

ঘটনাগুলোর পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি প্রশ্ন—এই হামলার পেছনে কি ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের কোনো ভূমিকা রয়েছে? মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে সব হামলার জন্য ইরান দায়ী। সাম্প্রতিক মার্কিন প্রতিবেদনগুলোতে হামলাগুলোর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত সাইবার গোষ্ঠীর সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সাইবার হামলার অন্যতম বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মিনেসোটা। সেখানে অন্তত ৩০টি পৌর জল সরবরাহ ব্যবস্থা হ্যাকারদের কার্যকলাপের মুখে পড়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

জল সরবরাহ ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলোর একটি। পানীয় জল সরবরাহ, জল পরিশোধন, পাম্প পরিচালনা এবং বর্জ্যজল ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে আধুনিক কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা যুক্ত। ফলে এসব ব্যবস্থায় সাইবার হামলা হলে শুধু কম্পিউটার নেটওয়ার্ক নয়, বাস্তব পরিষেবাতেও প্রভাব পড়তে পারে।

মিনেসোটার ঘটনাগুলোর পর তদন্তকারীরা দেখতে পান, একই ধরনের সাইবার কার্যকলাপ অন্য অঙ্গরাজ্যেও দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কয়েকটি হামলা নাকি সমন্বিত কোনো প্রচেষ্টার অংশ, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

প্রাথমিকভাবে মিনেসোটার পর জর্জিয়া, নিউ জার্সি ও সাউথ ডাকোটার জল সরবরাহ ব্যবস্থায় একই ধরনের সাইবার হামলার খবর সামনে আসে। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আক্রান্ত অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা আরও বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যে জল ও বর্জ্যজল ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার অনুপ্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। পরে আরও বিস্তৃত তদন্তে অন্তত ১২টি অঙ্গরাজ্যে সম্ভাব্য সাইবার হামলার খবর সামনে এসেছে। ফলে প্রাথমিকভাবে যে ঘটনাকে কয়েকটি স্থানীয় পৌরসভার সমস্যা মনে করা হয়েছিল, সেটি এখন জাতীয় পর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

তবে প্রতিটি ঘটনার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং হামলাগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ ফাইনালে শাকিরা-ম্যাডোনার শো, রয় কিনের ভাইরাল মন্তব্যে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া!

একটি শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থা শুধু পাইপলাইন আর পাম্পের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে পানি সংগ্রহ, পরিশোধন, চাপ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ, বিতরণ এবং বর্জ্যজল শোধনের মতো একাধিক ধাপ।

এই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য অনেক ক্ষেত্রে শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা Industrial Control System ব্যবহার করা হয়। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Programmable Logic Controller বা PLC। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে পাম্প, ভাল্‌ভ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

সমস্যা হলো, পুরোনো অনেক জল সরবরাহ ব্যবস্থায় এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে যেগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। ফলে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে সাইবার হামলাকারীরা দূর থেকে সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা CISA সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে উন্মুক্ত PLC এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করেছে।

জল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সাইবার হামলা মানেই যে সঙ্গে সঙ্গে পুরো শহরের পানি বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়। হামলার ধরন অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

কোনো হামলাকারী যদি প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে ঢুকে তথ্য চুরি করে, তার প্রভাব একরকম। আবার কেউ যদি শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে পারে, তাহলে পাম্প, চাপ বা অন্যান্য অপারেশনাল ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ কারণেই মার্কিন কর্তৃপক্ষ জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে দেখছে।

সাম্প্রতিক হামলার পর CISA, FBI এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থাসহ বিভিন্ন মার্কিন সংস্থা জল সরবরাহ ও বর্জ্যজল ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এর আগে এপ্রিলেও মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলো ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হুমকি নিয়ে জল সরবরাহ খাতকে সতর্ক করেছিল।

হামলাগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। গত কয়েক মাসে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে মার্কিন সংস্থাগুলো একাধিক সতর্কতা জারি করেছে।

CISA জানিয়েছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার অভিনেতারা বিভিন্ন ইন্টারনেট-উন্মুক্ত PLC ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবস্থায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে। জল সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিও এর আওতায় পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ক্ষেত্রেও তদন্তকারীরা ইরান-সমর্থিত হ্যাকারদের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো হামলায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর সম্ভাব্য উপস্থিতি পাওয়া এবং সরাসরি ইরান সরকার এই হামলার নির্দেশ দিয়েছে—এই দুটি বিষয় এক নয়।

তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলাগুলোর জন্য ইরানকে সরাসরি দায়ী করা নিয়ে সতর্ক থাকছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন :  World Cup কোয়ার্টার ফাইনালে নাটক! VAR বিতর্কের পর পেনাল্টি মিস করলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর সাইবার হামলার আশঙ্কাও বেড়েছে। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সাইবার পরিসরেও পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা তুলনামূলক কম খরচে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে বর্তমান জল সরবরাহ হামলাগুলোকে সরাসরি সামরিক প্রতিশোধ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

সাইবার নিরাপত্তার আলোচনায় সাধারণত পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থার কথা বেশি উঠে আসে। কিন্তু একই সঙ্গে বর্জ্যজল শোধনাগারও গুরুত্বপূর্ণ।

শহরের নিকাশি ও বর্জ্যজল সঠিকভাবে পরিশোধন না হলে পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে জল সরবরাহ এবং বর্জ্যজল ব্যবস্থার নিরাপত্তা মূলত একটি বৃহত্তর জননিরাপত্তা ইস্যু।

যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার স্থানীয় জল ও বর্জ্যজল ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে অনেক ব্যবস্থাই ছোট পৌরসভা পরিচালনা করে। বড় শহরের তুলনায় এসব ছোট প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা বাজেট ও জনবল অনেক সময় সীমিত থাকে।

এই বাস্তবতাই সাইবার হামলাকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

একটি বড় শহরের জল সরবরাহ ব্যবস্থায় সাধারণত আলাদা সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ, পর্যাপ্ত প্রযুক্তিবিদ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা থাকে। ছোট পৌরসভাগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেক সময় ভিন্ন।

সেখানে সীমিত বাজেটে পানি সরবরাহ, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা—সবকিছু চালাতে হয়। ফলে পুরোনো প্রযুক্তি আপডেট করা বা নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে পারে সাইবার অপরাধীরা।

সাম্প্রতিক হামলার পর মার্কিন জল খাতের বিভিন্ন সংগঠনও আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোর দাবি তুলেছে।

এখানে আতঙ্ক ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। সাইবার হামলার খবর পাওয়া গেলেই ধরে নেওয়া যায় না যে সংশ্লিষ্ট শহরের কোটি মানুষ পানিবিহীন হয়ে পড়েছেন।

এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে কিছু জল সরবরাহ ব্যবস্থায় কার্যক্রমে বিঘ্ন ও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে পুরো দেশের পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে—এমন কোনো তথ্য নেই।

তদন্তকারীরা মূলত দেখতে চাইছেন, হামলাকারীরা কতটা গভীরে প্রবেশ করতে পেরেছিল এবং ভবিষ্যতে তারা আরও বড় ধরনের ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখে কি না।

আরও পড়ুন :  এ মাসে বিদ্যুৎ বিল কত বাড়বে? সহজ হিসাব ও খরচ কমানোর কার্যকর উপায়

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট থেকে PLC আলাদা রাখা, পুরোনো ডিভাইসের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা, ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল সিস্টেমে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা। CISA ও অন্যান্য মার্কিন সংস্থার আগের সতর্কতাতেও এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

এর পাশাপাশি হামলা শনাক্ত করার জন্য নিয়মিত নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ এবং কর্মীদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি বড় সতর্কবার্তা। কারণ জল সরবরাহ ব্যবস্থার মতো নাগরিক পরিষেবা ক্রমেই ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনাকে দ্রুত ও কার্যকর করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে সাইবার হামলার নতুন দরজাও খুলে দিয়েছে।

বর্তমান ঘটনাগুলোর তদন্ত থেকে যদি প্রমাণ হয় যে একাধিক অঙ্গরাজ্যের জল সরবরাহ ব্যবস্থায় একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।

বিশেষ করে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত পুরোনো শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, দুর্বল পাসওয়ার্ড এবং অপর্যাপ্ত সাইবার নিরাপত্তা ছোট পৌরসভাগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন জল সরবরাহ ব্যবস্থায় একাধিক সাইবার হামলার ঘটনা যে উদ্বেগজনক, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে হামলাগুলোর উদ্দেশ্য, পরিধি এবং নেপথ্যে কারা রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

প্রাথমিক তদন্তে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার গোষ্ঠীর সম্ভাব্য যোগসূত্রের কথা সামনে এলেও এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আক্রান্ত অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা সাত থেকে আরও বেড়ে অন্তত ১২টি পর্যন্ত পৌঁছানোর তথ্য এসেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি পুরোনো দুর্বলতাকে সামনে এনেছে—ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তা কতটা শক্তিশালী করা হয়েছে।

পানি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। তাই জল সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা কেবল প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; এটি জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং নাগরিক জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

এখন মার্কিন কর্তৃপক্ষের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হামলার উৎস শনাক্ত করা, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ করা এবং ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের হামলা আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

আর্কাইভ