খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালআর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া: মেসির গোলেই কি ভাঙবে ক্লোজের বিশ্বকাপ রেকর্ড

আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া: মেসির গোলেই কি ভাঙবে ক্লোজের বিশ্বকাপ রেকর্ড

আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং এটি ইতিহাসের সম্ভাব্য একটি অধ্যায়। একদিকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হওয়ার অপেক্ষায় মেসি, অন্যদিকে একটি শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের আত্মপ্রত্যয়ী লড়াই।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আজকের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই শক্তিশালী দল আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রিয়া। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ গ্রুপ ম্যাচ নয়, বরং ইতিহাস গড়ার এক বিশেষ মঞ্চ। বিশেষ করে ফুটবল কিংবদন্তি Lionel Messi এর জন্য এটি হতে পারে আরেকটি রেকর্ড ভাঙার রাত।

আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়াও নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছে, ফলে এই ম্যাচটি ছিল সমান উত্তেজনাপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন মেসি। আগের ম্যাচে অসাধারণ হ্যাটট্রিক করে তিনি বিশ্বকাপে মোট ১৬ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ডের সমান অবস্থানে পৌঁছেছেন।

এখন আর মাত্র একটি গোল করলেই মেসি হয়ে যাবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শুধু তাই নয়, এই গোল তাকে আরও একটি বিরল তালিকায় নিয়ে যাবে—টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে।

ফুটবল ইতিহাসে এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জারজিনহো। তাই আজকের ম্যাচে মেসির প্রতিটি স্পর্শ ছিল ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা।

Argentina national football team এখন দারুণ ফর্মে আছে। দলটি শেষ আটটি ম্যাচে টানা জয় পেয়েছে এবং এই সময়ে তারা ২৪টি গোল করেছে, যেখানে খেয়েছে মাত্র ১টি গোল।

কোচ লিওনেল স্কালোনি খুব বেশি পরিবর্তন আনেননি দলে। কেবল ইনজুরির কারণে ডান দিকের ডিফেন্ডার পরিবর্তন করতে হয়েছে। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টাররা দারুণ সমন্বয় তৈরি করেছেন।

আক্রমণে মেসির সঙ্গে লাউতারো মার্টিনেজের জুটি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি।

অস্ট্রিয়া তাদের প্রথম ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে। কোচ রাল্ফ রাংনিকের দল আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত, এবং এই ম্যাচেও তারা একই কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে।

দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন মার্সেল সাবিটজার, যিনি আজ নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছেন। এটি তার ক্যারিয়ারের একটি বড় অর্জন।

ডেভিড আলাবা ও কেভিন ড্যানসো রক্ষণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, আর আক্রমণে মাইকেল গ্রেগোরিচ ছিলেন মূল ভরসা।

ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে পরিবেশ ছিল একেবারে উৎসবমুখর। দুই দলের খেলোয়াড়রা ওয়ার্মআপে ব্যস্ত ছিলেন, আর দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।

বিশেষ করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উপস্থিতি পুরো স্টেডিয়ামকে নীল-সাদা সমুদ্রে পরিণত করেছিল। অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার সমর্থকরাও নিজেদের দলের জন্য জোরালো সমর্থন জানাচ্ছিল।

ইতিহাস বলছে, ইউরোপের দলগুলোর বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার পারফরম্যান্স মিশ্র। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার দলের বিপক্ষে তাদের জয় খুবই কম।

১৯৮২ সালের পর থেকে তারা দক্ষিণ আমেরিকার দলের বিপক্ষে মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছে। তাই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জটা ছিল বেশ কঠিন।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বর্তমানে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। গত সাত ম্যাচে তারা অপরাজিত। ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে দলটি আরও পরিণত এবং সংগঠিত ফুটবল খেলছে।

রক্ষণভাগে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরো জুটি খুবই শক্তিশালী। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজও আর্জেন্টিনার জন্য বড় ভরসা।

এই ম্যাচ ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—মেসি কি ইতিহাস গড়তে পারবেন?

যদি তিনি গোল করেন, তাহলে শুধু রেকর্ডই ভাঙবেন না, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের নামকে আরও এক ধাপ উপরে নিয়ে যাবেন।

অন্যদিকে অস্ট্রিয়া চাইবে আর্জেন্টিনার এই গতি থামিয়ে বড় অঘটন ঘটাতে।

আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং এটি ইতিহাসের সম্ভাব্য একটি অধ্যায়। একদিকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হওয়ার অপেক্ষায় মেসি, অন্যদিকে একটি শক্তিশালী ইউরোপীয় দলের আত্মপ্রত্যয়ী লড়াই।

সব মিলিয়ে এই ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রতিটি মিনিটেই লুকিয়ে ছিল নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা।