ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা Lionel Messi-র জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত হাতছাড়া হলো। বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন রেকর্ড গড়ার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারলেন না আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। ফলে তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৭-তে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। তবে সুযোগ পেয়েও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে আর্জেন্টিনা বড় সুযোগ পায়। অস্ট্রিয়ার বক্সের মধ্যে লাউতারো মার্তিনেজকে ফাউল করেন প্রতিপক্ষের দুই ফুটবলার। প্রথমে খেলা চলতে থাকলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (VAR) পরামর্শে মাঠের রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।
গুরুত্বপূর্ণ সেই মুহূর্তে বল হাতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক মেসি। এই গোলটি করতে পারলে তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক তৈরি হতো। কিন্তু শটটি নিখুঁত হয়নি। ডান পোস্ট লক্ষ্য করে নেওয়া মেসির শটে আগের মতো গতি ছিল না। সহজেই সেটি আটকে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার।
মেসির এই ব্যর্থতায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। কারণ এমন পরিস্থিতিতে মেসির কাছ থেকে সাধারণত সবাই গোলের প্রত্যাশা করেন।
এই ম্যাচে একটি গোল করলেই মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৭-তে পৌঁছে যেত। সেই সঙ্গে তিনি ছাড়িয়ে যেতে পারতেন জার্মানির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোজেকে।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নতুন ইতিহাস তৈরি করার হাতছানি ছিল আর্জেন্টাইন তারকার সামনে। কিন্তু পেনাল্টি মিসের কারণে সেই অপেক্ষা আরও বাড়ল।
তবে ফুটবলে এমন ঘটনা নতুন নয়। বড় বড় তারকারাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুযোগ হারান। মেসির মতো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে একটি মিস নিয়েই আলোচনার ঝড় ওঠে, কারণ তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশার মাত্রা সবসময়ই অনেক বেশি।
পেনাল্টি মিসের পরও মেসির সামনে সুযোগ এসেছিল। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে আবারও গোল করার সম্ভাবনা তৈরি হয়। অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক শ্লেগারকে প্রায় একা পেয়েও শট নিতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি।
মেসির সেই প্রচেষ্টা দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আজ কি তিনি নিজের সেরা ছন্দে নেই? সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে মেসি ঠান্ডা মাথায় গোল করতে পারলেও এবার ভাগ্য সহায় হয়নি।
একই সঙ্গে অস্ট্রিয়ার রক্ষণও তাঁকে আটকে রাখতে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়।
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আর্জেন্টিনা আধিপত্য বিস্তার করে। অস্ট্রিয়ার বক্সের সামনে দ্রুত পাসিং ও আক্রমণের মাধ্যমে তারা চাপ তৈরি করে।
মাত্র তিন মিনিটের মধ্যেই গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। মেসিসহ আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ বারবার প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করে।
তবে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্স বেশ সংগঠিত ছিল। তারা শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার আক্রমণগুলো সামলে নেয়।
আর্জেন্টিনা গোল করতে না পারার পর অস্ট্রিয়াও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। পেনাল্টি বাঁচানোর পর তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
প্রতি আক্রমণে দ্রুত উঠে এসে আর্জেন্টিনার রক্ষণ পরীক্ষা করতে থাকে তারা। যদিও ম্যাচের ওই পর্যায় পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বক্সে বড় কোনো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি অস্ট্রিয়া।
তবুও তাদের পাল্টা আক্রমণের কারণে আর্জেন্টিনাকে সতর্ক থাকতে হয়।
ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের বড় অংশ ছিল আর্জেন্টিনার সমর্থক। গ্যালারিতে নীল-সাদা জার্সির আধিপত্য দেখা যায়।
প্রায় ৯০ শতাংশ দর্শক আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছিলেন। অনেক সমর্থক সেমিফাইনালের নাম লেখা জার্সি পরে মাঠে উপস্থিত হন। মেসিকে ঘিরে তাদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি।
আর্জেন্টিনার কোচ Lionel Scaloni গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে শক্তিশালী একাদশ নিয়ে মাঠে নামেন।
দলে ছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। রক্ষণভাগে ছিলেন নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ফাকুন্দো মেদিনা।
মাঝমাঠে দায়িত্ব সামলান রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং এনজো ফার্নান্দেজ। আক্রমণভাগে ছিলেন লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ ও থিয়াগো আলমাদা।
পেনাল্টি মিস করলেও মেসির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যেকোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। একটি ব্যর্থতা দিয়ে তাঁর পুরো পারফরম্যান্স বিচার করা কঠিন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির লড়াই শুধু দলের জন্য নয়, নিজের রেকর্ডের জন্যও। একটি গোল এখনও তাঁকে নতুন ইতিহাসের খুব কাছে নিয়ে যেতে পারে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল না পেলেও আর্জেন্টিনার সামনে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। আর মেসির ভক্তরা অপেক্ষায় ছিলেন সেই মুহূর্তের, যখন আবারও তাঁর বাঁ পায়ের জাদু দেখা যাবে।

