খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজট্রাস্টিদের নাম জড়ালো রামমন্দির কাণ্ডে! তদন্তে বেরোচ্ছে বিস্ফোরক তথ্য

ট্রাস্টিদের নাম জড়ালো রামমন্দির কাণ্ডে! তদন্তে বেরোচ্ছে বিস্ফোরক তথ্য

অভিযুক্তদের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি বা পারিবারিক যোগাযোগ ছিল। সূত্রের দাবি, প্রণামী সংগ্রহ ও হিসাবের কাজে যুক্ত কিছু ব্যক্তি অনিল মিশ্রের আত্মীয় ছিলেন। আবার অভিযুক্ত রামশঙ্কর মিশ্র আগে চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং পরে মন্দিরের ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত হন।

অযোধ্যার রামমন্দিরকে ঘিরে এবার সামনে এসেছে বড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। ভক্তদের দেওয়া প্রণামী এবং মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই উঠে আসছে নতুন নতুন তথ্য। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার হিসাব-বহির্ভূত অর্থ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় শুধু মন্দিরের কিছু কর্মচারী নয়, ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও আলোচনায় এসেছে।

পুলিশের তদন্তে এখন পর্যন্ত আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি করা সম্পত্তি গোপন রাখা, ষড়যন্ত্র এবং দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের দায়িত্ব ছিল মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা এবং নথিভুক্ত করা। তদন্তকারীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রণামীর অর্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম চলছিল।

তদন্তের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হচ্ছে অভিযুক্তদের সঙ্গে ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর কিছু প্রাক্তন দায়িত্বশীল ব্যক্তির সম্ভাব্য সম্পর্ক।

ঘটনার পর ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে চম্পত রাই পদত্যাগ করেন। একই সময়ে ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও তাঁর পদ ছেড়ে দেন।

আরও পড়ুন :  কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অভিনেতা জোভান ও স্ত্রী, শুটিং বন্ধ রেখে হাসপাতালে চিকিৎসা

তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি বা পারিবারিক যোগাযোগ ছিল। সূত্রের দাবি, প্রণামী সংগ্রহ ও হিসাবের কাজে যুক্ত কিছু ব্যক্তি অনিল মিশ্রের আত্মীয় ছিলেন। আবার অভিযুক্ত রামশঙ্কর মিশ্র আগে চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং পরে মন্দিরের ব্যবস্থাপনার কাজে যুক্ত হন।

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর পুরো বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামমন্দির উদ্বোধনের পর প্রথম কয়েক মাস প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রণামী জমা পড়ত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অঙ্ক ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রণামী গোনা এবং মূল্যবান সামগ্রী বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সেবাদার সিসিটিভির নজর এড়িয়ে নিয়মিত অর্থ ও সোনার অলঙ্কার সরিয়ে ফেলতেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে রিসর্ট, শপিং মল এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক খাতে বিনিয়োগের ইঙ্গিতও মিলেছে।

আরও পড়ুন :  ফ্রান্স বনাম মরক্কো লাইভ: বুনুর দুর্দান্ত সেভে বেঁচে গেল মরক্কো, শুরু থেকেই চাপে এমবাপ্পের ফ্রান্স

এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপও বাড়তে শুরু করেছে। কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিসহ বিভিন্ন বিরোধী দল অভিযোগ তুলেছে, প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে।

তাদের বক্তব্য, শুধুমাত্র সেবাদার বা গাড়িচালকদের দায়ী করে বিষয়টি শেষ করা সম্ভব নয়। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে সরাতে হলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সহযোগিতা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিরোধীদের প্রশ্ন, “শুধু নিম্নস্তরের কর্মীরা কি কোটি কোটি টাকার লেনদেন একা পরিচালনা করতে পারে?”

ঘটনার তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক শাখার প্রধান অলোক কুমারও ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অন্যদিকে, রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থায়ীভাবে একজন সিইও নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা এবং কঠোর অডিট প্রক্রিয়া জরুরি।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্টে প্রায় ১৭ জনকে সন্দেহভাজন বা দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  মিশরকে ‘ডাকাতি’ করে জিতল আর্জেন্টিনা? রহস্যময় ই-মেলে ফুটবল বিশ্বে নতুন বিস্ফোরণ!

এছাড়াও মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রায় দেড়শো সেবাদারের কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, গত কয়েক বছরে তাঁদের অনেকের সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার মতে, এই সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে প্রণামী তহবিলের অর্থ ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভক্তদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সনাতন মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যে কোনও অনিয়মের ক্ষেত্রে সরকার ‘শূন্য-সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে।

অযোধ্যার রামমন্দির কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের প্রতীক। সেই জায়গায় প্রণামী তহবিল নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে, এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগে সব তথ্য নিশ্চিত বলা না গেলেও, এই ঘটনা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

আর্কাইভ