খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক? স্কালোনি-টুখেলের সমালোচনার মুখে ফিফার ব্যাখ্যা

বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক? স্কালোনি-টুখেলের সমালোচনার মুখে ফিফার ব্যাখ্যা

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও। তার বিশ্বাস, এভাবে বারবার খেলা থামানো হলে ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ এবং প্রতিযোগিতার গতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রতীক। বছরের পর বছর ধরে এই খেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ছিল এর নিরবচ্ছিন্ন গতি। একবার খেলা শুরু হলে খুব প্রয়োজন ছাড়া খেলা থামানোর সুযোগ থাকত না। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেক কোচ, বিশ্লেষক এবং সমর্থকের অভিযোগ, এই বিরতি খেলার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

বিশ্বকাপের মাঝপথেই এই বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনোকেও প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।

হাইড্রেশন ব্রেক মূলত খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ায় পানি পান ও শরীরকে সতেজ রাখার সুযোগ দেওয়ার জন্য চালু করা হয়। তবে এবারের বিশ্বকাপে এই বিরতি শুধু স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনেই দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

সমালোচকদের দাবি, খেলা থামার সঙ্গে সঙ্গেই সম্প্রচার মাধ্যমে দীর্ঘ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। ফলে অনেকের কাছে এটি খেলোয়াড়দের বিশ্রামের চেয়ে বাণিজ্যিক সুযোগ হিসেবেই বেশি মনে হচ্ছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপে এই বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। কারণ দেশটির অন্যান্য জনপ্রিয় খেলায় নিয়মিত টাইমআউট ও বিজ্ঞাপন বিরতি থাকলেও ফুটবলের ঐতিহ্য বরাবরই ছিল ভিন্ন।

ফুটবলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ধারাবাহিক গতি। একটি দল যখন আক্রমণের ছন্দে থাকে কিংবা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন হঠাৎ বিরতি সেই গতি ভেঙে দিতে পারে।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াই! আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচে কী হতে পারে?

এই কারণেই আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, একটি দল যখন প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিরতি প্রতিপক্ষকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এতে ম্যাচের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেলও। তার বিশ্বাস, এভাবে বারবার খেলা থামানো হলে ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ এবং প্রতিযোগিতার গতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের ফলে সম্প্রচারের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন ক্রীড়া সংস্কৃতিতে বিজ্ঞাপন বিরতি একটি স্বাভাবিক বিষয়। বাস্কেটবল, আমেরিকান ফুটবল কিংবা বেসবলে নিয়মিত বিরতির মাধ্যমে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ পায়।

কিন্তু ফুটবলের দর্শকরা বরাবরই অভ্যস্ত ছিলেন টানা ৪৫ মিনিটের নিরবচ্ছিন্ন খেলা দেখতে। তাই হাইড্রেশন ব্রেকের সময় বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি অনেক সমর্থকের কাছে ফুটবলের মৌলিক চরিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে।

এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ফুটবল কি ধীরে ধীরে অন্যান্য বাণিজ্যিক খেলাধুলার পথেই হাঁটছে?

ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফানতিনো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হাইড্রেশন ব্রেক থেকে ফিফা অতিরিক্ত কোনো বিজ্ঞাপন আয়ের সুবিধা পাচ্ছে না।

আরও পড়ুন :  ফুটবল দুনিয়ায় শোক! বিশ্বকাপ খেলেই না ফেরার দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিরতির মূল উদ্দেশ্য খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় খেললে খেলোয়াড়দের শারীরিক ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হয়েছে।

তবে ইনফানতিনোর এই ব্যাখ্যায় সমালোচকরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, বাস্তবে এই বিরতির সময় বিজ্ঞাপন সম্প্রচার এবং সম্প্রচার স্বার্থের বিষয়টি অস্বীকার করা কঠিন।

ফুটবলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তীব্র গরমে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন, এ বিষয়ে প্রায় সবাই একমত।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই বিরতির সময়, পদ্ধতি এবং উপস্থাপন কি শুধুই স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন মেটাচ্ছে, নাকি এর সঙ্গে বাণিজ্যিক পরিকল্পনাও জড়িয়ে আছে?

বিশ্লেষকদের মতে, যদি বিরতি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনেই দেওয়া হয়, তাহলে সেটি এমনভাবে পরিচালনা করা উচিত যাতে ম্যাচের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নষ্ট না হয় এবং অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক চাপও তৈরি না হয়।

বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। সমর্থকদের বড় একটি অংশ মনে করেন, ফুটবলের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর অবিচ্ছিন্ন গতি। তাই যেকোনো পরিবর্তন, যা এই স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

আরও পড়ুন :  তুরস্ক সফরে গেলেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

অনেকের আশঙ্কা, যদি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে আরও বেশি বিরতি যোগ করা হয়, তাহলে ফুটবল তার দীর্ঘদিনের স্বকীয়তা হারাতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু পরিবর্তন অনিবার্য।

হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে চলমান বিতর্ক শুধু একটি নিয়মের প্রশ্ন নয়। এটি ফুটবলের ভবিষ্যৎ, বাণিজ্যিকীকরণ এবং খেলার মৌলিক দর্শনের মধ্যকার ভারসাম্যের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

ফিফা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরলেও সমর্থক ও কোচদের একাংশ এখনো আশ্বস্ত হতে পারেননি। তাদের বিশ্বাস, ফুটবলের সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে যেকোনো নতুন নিয়ম প্রণয়নের আগে খেলার স্বাভাবিক ছন্দ ও দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে প্রতিটি সিদ্ধান্তই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। হাইড্রেশন ব্রেকও তার ব্যতিক্রম নয়। একদিকে রয়েছে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে রয়েছে ফুটবলের ঐতিহ্য ও বাণিজ্যিক স্বার্থের ভারসাম্যের প্রশ্ন।

এই বিতর্কের চূড়ান্ত সমাধান ভবিষ্যতেই মিলবে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা চান, আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়েও যেন ফুটবল তার স্বকীয়তা, আবেগ এবং নিরবচ্ছিন্ন গতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে পারে।


Discover more from News Bangla24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Table of contents [hide]

আর্কাইভ