খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeজাতীয়ঢাকা ভাটারায় গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে শিশুসহ ৩ জন দগ্ধ

ঢাকা ভাটারায় গ্যাস লিকেজের বিস্ফোরণে শিশুসহ ৩ জন দগ্ধ

গ্যাস লাইনে লিকেজ হওয়ায় গ্যাস ঘরের ভেতরে জমে থাকতে পারে। ভোরে রান্নার চুলা জ্বালানো, বৈদ্যুতিক সুইচ অন করা অথবা গ্যাস লিকেজ হয়ে গ্যাস বের হওয়ার পর স্পার্কের কারনে বিষ্ফোড়ন ঘটতে পারে ।

রাজধানীর ভাটারা এলাকার নতুন বাজারে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট একটি বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর প্রায় ৪টার দিকে নতুন বাজারের ১০০ ফিট সড়ক সংলগ্ন একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, বাসার ভেতরে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন।

প্রতিবেশীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন :  জিপিএ-৫ রক্ষায় এসএসসি ফরম পূরণে বাধা, ঝরে পড়ল লাখো শিক্ষার্থী

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন,
শাহীন (২৪), তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২১), শাহীনের ভাগনি হাফসা আক্তার (৮)

বর্তমানে তারা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিবিড় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন জানান, শাহীন একটি কাপড়ের শোরুমে চাকরি করেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরে হঠাৎ একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাসার ভেতরে আগুনের তাপ ও বিস্ফোরণের কারণে শাহীন, তার স্ত্রী এবং শিশু হাফসা গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যাতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন :  রেডিও থেকে টিভি: ১৯৫৪ বিশ্বকাপ থেকে নব্বইয়ের পাড়া-সংস্কৃতি: নস্টালজিয়ার ঝাঁপি

স্থানীয়দের ধারণা, বাসাটিতে তিতাসের গ্যাস সংযোগ ছিল। রাতের কোনো এক সময় গ্যাস লাইনে লিকেজ হওয়ায় গ্যাস ঘরের ভেতরে জমে থাকতে পারে। ভোরে রান্নার চুলা জ্বালানো, বৈদ্যুতিক সুইচ অন করা অথবা গ্যাস লিকেজ হয়ে গ্যাস বের হওয়ার পর স্পার্কের কারনে বিষ্ফোড়ন ঘটতে পারে ।

যদিও বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের শরীরের উল্লেখযোগ্য অংশ পুড়ে গেছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাহীনের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে,ফাহিমা আক্তারের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে, শিশু হাফসা আক্তারের শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

আরও পড়ুন :  ইরানে সামরিক হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা?

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস লিকেজের ঘটনা অবহেলা করলে তা মুহূর্তেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে। তাই বাসাবাড়িতে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে কোনো ধরনের আগুন জ্বালানো, বৈদ্যুতিক সুইচ অন বা অফ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি দ্রুত জানালা-দরজা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি জানাতে হবে।

নিয়মিত গ্যাস লাইন পরীক্ষা, পুরোনো পাইপ পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চললে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ