আন্তর্জাতিক ডেক্স : কলকাতার ব্যস্ততম রেলস্টেশন গুলোর মধ্যে শিয়ালদহ স্টেশন অন্যতম। সোমবার সকালে এই স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎ করে আগুন লাগার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্টেশনের বাইরে থাকা একটি খাবারের দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা।
এসময় স্টেশন চত্বরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। যাত্রীরা এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় দমকল বাহিনী। সাথে সাথে কলকাতা পুলিশ এবং রেল পুলিশের কর্মকর্তারাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। আগুন নেভানোর কাজে দমকলের তিনটি ইউনিট মোতায়েন করা হয়।
সকালে শিয়ালদহ স্টেশনে প্রতিদিনের মতোই ছিল যাত্রীদের প্রচান্ড ভিড় ছিল। দক্ষিণ শাখার দিকে যাওয়ার প্রবেশপথের কাছেই ওই ফুডকোর্ট বা খাবারের জায়গাটি। ওই ফুডকোর্টের একটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
ব্যস্ত সময়ে জনবহুল স্টেশন চত্বরে এমন অগ্নিকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। কারণ, আগুন দ্রুত আশপাশের দোকান বা স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। বিশেষ করে শিয়ালদহের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড হলে বিপুল সংখ্যক যাত্রীর নিরাপত্তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
আগুন লাগার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে দমকল বাহিনী। গার্ডরেল বসিয়ে সাধারণ মানুষকে আগুনের কাছাকাছি যেতে বাধা দেওয়া হয়। সরু রাস্তা দিয়ে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা ও মেন শাখার দিকে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়। একই পথ ব্যবহার করেন ট্যাক্সিচালকরাও। ফলে আগুন নেভানোর পাশাপাশি ওই এলাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর দমকলের তিনটি ইঞ্জিন দ্রুত আগুন নেভানোর কাজে নামে। দমকল সূত্রে জানা যায়, আগুন পুরোপুরি নিভে না গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুন যাতে অন্য কোনো দোকান বা স্থাপনায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখেন দমকলকর্মীরা।
আগুনের প্রকৃত উৎস এবং কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।
আগুন নেভানোর সময় দমকলকর্মীদের সামনে অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় পানির জোগান। দমকল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, স্টেশন থেকে পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায়নি। ফলে আগুন নেভানোর কাজে কিছুটা দেরি এবং বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প জায়গা থেকে জল এনে অগ্নিনির্বাপণের কাজ চালাতে হয়। জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলস্টেশন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দমকলকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন নেভানোর জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত জল পাওয়া গেলে কাজ আরও সহজে করা সম্ভব হতো। তবে বিকল্প উৎস থেকে পানির ব্যবস্থা করে তাঁরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। দমকলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফুডকোর্টের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করেনি। ফলে আগুন নেভানোর প্রাথমিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা যায়নি এবং দমকল বাহিনীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
এ ধরনের খাবারের দোকান বা ফুডকোর্টে গ্যাস, তেল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন দাহ্য উপকরণ ব্যবহারের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সেখানে কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। শিয়ালদহের ঘটনার পর ফুডকোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আগুনের পাশাপাশি ঘন ধোঁয়াও দমকলকর্মীদের কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফুডকোর্টের খাবারের দোকানগুলো কাচ দিয়ে ঘেরা থাকায় ভিতরে জমে থাকা ধোঁয়া সহজে বাইরে বের হতে পারছিল না।
ধোঁয়া আটকে যাওয়ায় আগুনের উৎস চিহ্নিত করা এবং সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দমকলকর্মীরা কাচ ভেঙে ধোঁয়া বের করার ব্যবস্থা করেন। এরপর আগুনের উৎসের কাছাকাছি পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হয়।
বিশেষ নিরাপত্তা পোশাক পরিয়ে কয়েকজন দমকলকর্মীকে ফুডকোর্টের ভিতরে পাঠানো হয়। ঘন ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা আগুনের মূল উৎসে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে খাবারের দোকানে আগুন লাগার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যায়নি। আগুন বৈদ্যুতিক গোলযোগ, রান্নার সরঞ্জাম নাকি অন্য কোনো কারণে লেগেছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
দমকল এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও পরে নির্ধারণ করা হবে।
তথ্য সূত্র: আনন্দবাজার


