খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডক্রিকেটপাকিস্তানের জার্সিতে আর ফিরছেন না মোহাম্মদ আমির

পাকিস্তানের জার্সিতে আর ফিরছেন না মোহাম্মদ আমির

পাকিস্তানের সঙ্গে তার ক্রিকেটজীবনের আগের অধ্যায় এখন শেষ। অর্থাৎ ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তান দলে তার প্রত্যাবর্তনের যে আলোচনা চলছিল, সেটি আর বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

নিউজবাংলা ডেক্স : পাকিস্তান ক্রিকেটে মোহাম্মদ আমিরের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, শেষ পর্যন্ত তাতে ইতি টানলেন এই বাঁহাতি পেসার। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে পাকিস্তান জাতীয় দলে আবারও আমিরকে দেখা যেতে পারে এমন গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। তবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সেই সম্ভাবনার দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ভেঙে পাকিস্তান দলে ফিরেছিলেন আমির। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন ছিল স্বল্পস্থায়ী। একই বছর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। এবার নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তানের হয়ে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার কোনো সুযোগ তিনি দেখছেন না।

২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মোহাম্মদ আমির। এরপর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব এবং দেশটির পাসপোর্টও অর্জন করেন তিনি। তার স্ত্রী নারজিস খানের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ার পর ক্রিকেট ক্যারিয়ারেও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন আমির। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার সুযোগ তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই পাকিস্তানের হয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ক্রিকেট বিষয়ক ইউটিউবার ফুরকান ভাট্টির সঙ্গে এক আলাপচারিতায় নিজের বর্তমান অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মোহাম্মদ আমির।

তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ব্রিটিশ স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হন। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ কিংবা দ্য হান্ড্রেডের মতো ইংল্যান্ডের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হলে নির্দিষ্ট একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে হয়।

সেখানে উল্লেখ থাকে, স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেওয়া ব্যক্তি অন্য কোনো দেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারবেন না। ফলে ব্রিটিশ ঘরোয়া ক্রিকেটে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চাইলে পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ নেই আমিরের।

আমিরের ভাষায়, পাকিস্তানের সঙ্গে তার ক্রিকেটজীবনের আগের অধ্যায় এখন শেষ। অর্থাৎ ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তান দলে তার প্রত্যাবর্তনের যে আলোচনা চলছিল, সেটি আর বাস্তবে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার কারণে পাকিস্তান সুপার লিগ বা পিএসএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টেও আমিরের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি পাকিস্তানি খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এর ফলে পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ভবিষ্যৎ আগের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করার অধ্যায় তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই শেষ করেছেন।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আমিরের চাহিদা অবশ্য এখনও যথেষ্ট। তার অভিজ্ঞতা, গতি এবং নতুন বলে কার্যকর বোলিং তাকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ একজন পেসার হিসেবে ধরে রেখেছে।

মোহাম্মদ আমির পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত পেসার। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন তিনি।

পাকিস্তানের হয়ে আমির ৩৬টি টেস্ট ম্যাচে ১১৯ উইকেট নিয়েছেন। ওয়ানডেতে ৬১ ম্যাচে তার শিকার ৮১ উইকেট। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৬২ ম্যাচ খেলে তিনি নিয়েছেন ৭১ উইকেট।

সব মিলিয়ে পাকিস্তানের জার্সিতে তিন ফরম্যাটেই নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। বিশেষ করে নতুন বলে তার সুইং, নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং চাপের মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা তাকে পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোলারে পরিণত করেছিল।

মোহাম্মদ আমিরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই আসরে পাকিস্তানের শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি।

তরুণ বয়সেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া আমির পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর দক্ষতাও তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন মোহাম্মদ আমির। পাকিস্তানের হয়ে ওই টুর্নামেন্টে আটটি ম্যাচ খেলেন তিনি এবং শিকার করেন ১৭ উইকেট।

সেই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন আমির। দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও ব্যক্তিগতভাবে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এই পেসার।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তার বোলিং পাকিস্তানের জন্য বড় ভূমিকা রেখেছিল। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও তাকে ঘিরে পাকিস্তান সমর্থকদের আগ্রহ কখনো পুরোপুরি কমেনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রথম অবসর নেওয়ার পর ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবার পাকিস্তান দলে ফিরেছিলেন আমির। তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে তখন পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

তবে বিশ্বকাপের পর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। এরপর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন এবং ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার বিষয়টি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও স্পষ্ট করে দেয়।

ফলে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমিরের জাতীয় দলে ফেরার যে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, সেটি এখন আর বাস্তবসম্মত নয়।

মোহাম্মদ আমিরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নানা বাঁক ও আলোচনায় পূর্ণ। অবসর, প্রত্যাবর্তন এবং আবার অবসর সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটে তার যাত্রা ছিল বেশ ঘটনাবহুল।

তবে এবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার শর্ত এবং নিজের বর্তমান ক্যারিয়ার পরিকল্পনার কারণে পাকিস্তানের জাতীয় দলের দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ