খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদতিব্বতে হড়পা বানে ২৬১ বিদেশি নিখোঁজ, ভারতীয় ৪৯ জন; পরিসংখ্যান চিনের

তিব্বতে হড়পা বানে ২৬১ বিদেশি নিখোঁজ, ভারতীয় ৪৯ জন; পরিসংখ্যান চিনের

তিব্বতে হড়পা বানের পর বিভিন্ন দেশের মোট ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন এবং ভারতের ৪৯ জন।

আন্তর্জাতিক ডেক্স : তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানের পর নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে চিন সরকার। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিব্বতে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৬১ জনই বিদেশি নাগরিক। দীর্ঘ সময় ধরে তিব্বতের বিপর্যয় নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে নিখোঁজ বিদেশিদের দেশভিত্তিক তথ্য সামনে আনল বেজিং।

চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন) রবিবার সকালে জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাগরিক নেপালের। দেশটির ১০৪ জন নাগরিকের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ভারতীয়রা। তিব্বতে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ৪৯ জন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন, যুক্তরাজ্যের ১৫ জন এবং লাতভিয়ার ৩৩ জন নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চিনা কর্তৃপক্ষ।

চিন সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে হড়পা বানের পর বিভিন্ন দেশের মোট ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন এবং ভারতের ৪৯ জন।

নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় আরও রয়েছেন লাতভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ জন নাগরিক। মালয়েশিয়ার তিনজন, কাজাখস্তানের একজন, দক্ষিণ আফ্রিকার চারজন, আয়ারল্যান্ডের দুজন এবং ফ্রান্সের দুজন নাগরিকেরও খোঁজ মিলছে না।

জার্মানির তিনজন, রাশিয়ার তিনজন, নেদারল্যান্ডসের দুজন এবং ইউক্রেনের একজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। পর্তুগাল ও স্পেনের একজন করে নাগরিকেরও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া কানাডার ছয়জন, হাঙ্গেরির একজন, অস্ট্রেলিয়ার ছয়জন এবং নিউজিল্যান্ডের দুজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চিন।

চিনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও উপদূতাবাসকে নিখোঁজ নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য জানানো হয়েছে।

চিন সরকারের সর্বশেষ হিসাবে, তিব্বতে হড়পা বানে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা এখনও অনেক বেশি। মোট ৫৫৮ জনের সন্ধান না পাওয়ায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

যে এলাকায় হড়পা বান আছড়ে পড়েছিল, সেই গিরং কাউন্টি নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। চিনা কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে ওই এলাকায় আর কোনও বিদেশি নাগরিক আটকে নেই।

তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদামাটি, বরফগলা পানি এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে উঠেছে।

গত বুধবার সকালে হিমবাহ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি ও কাদামাটি নেমে আসে। এর প্রভাবে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। বরফগলা পানি ও কাদার প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে।

পাহাড়ি উপত্যকার একাধিক গ্রাম এই হড়পা বানের ভয়াবহতার মুখে পড়ে। পানির স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়। অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগও পাননি।

এই বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু তিব্বতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিবেশী নেপালেও ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে তিব্বত-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

নেপালে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রবিবার সকাল পর্যন্ত দেশটিতে ৭৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন।

নিখোঁজদের মধ্যে বহু ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া অনেক পুণ্যার্থী ও পর্যটকও এই দুর্যোগের মধ্যে পড়েছেন।

ফলে নেপাল ও তিব্বত দুই জায়গাতেই ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের অনেকে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় অবস্থান করায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হড়পা বানের পর তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য প্রকাশে চিনা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, বিপর্যয়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা ছবি ও ভিডিও খুব বেশি প্রকাশ্যে আসছে না।

চিনা সমাজমাধ্যমে বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লেও পরে সেগুলোর অনেকগুলো সরিয়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। ফলে তিব্বতের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং দুর্গত মানুষের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বন্যার ভয়াবহতা এবং দুর্গত মানুষের সাহায্যের আবেদনসংবলিত কিছু ভিডিও সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চিন সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

তিব্বতের দুর্গত এলাকায় বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সরাসরি গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ সীমিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে যেতে হলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। সেই অনুমতি না পাওয়ায় বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য বিপর্যয়ের প্রকৃত চিত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তিব্বতের ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধার অভিযান এবং নিখোঁজদের সংখ্যা সম্পর্কে জানতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে অনেকটাই চিনের সরকারি সূত্রের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

রবিবার সকালে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম বিদেশি নাগরিকদের নিখোঁজের দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করার পর পরিস্থিতির একটি তুলনামূলক পরিষ্কার চিত্র সামনে এসেছে।

তিব্বতে নিখোঁজ ২৬১ বিদেশির মধ্যে ৪৯ জন ভারতীয় নাগরিক হওয়ায় ভারতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একই দুর্যোগের প্রভাবে নেপালেও বহু ভারতীয় নিখোঁজ থাকার খবর এসেছে।

কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার কারণে প্রতি বছর বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রী নেপাল ও তিব্বত অঞ্চলে যাতায়াত করেন। ফলে নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে পর্যটক, তীর্থযাত্রী কিংবা অন্য কোনো কাজে সেখানে যাওয়া মানুষ রয়েছেন কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তথ্য সূত্র: আনন্দবাজার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ