নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা ৩১ আগষ্ট : বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের গহনার নতুন দাম ঘোষণা করেছেন। ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমানো সিদ্ধান্ত হয়েছে।
স্বর্ণের দাম কমানোর ফলে যারা গহনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, বাজারে তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। (বাজুস) এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন নির্ধারিত দাম সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের দেয়া স্বর্ণের নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম এখন ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। এর আগে সম পরিমাণ স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৭২৮ টাকা। অর্থাৎ ভরিতে ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমেছে।
এখানে এক ভরি স্বর্ণ বলতে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ওজনকে বোঝানো হয়েছে। ফলে স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক এই মূল্য সমন্বয় ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাজুস জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম কমেছে। এর প্রভাবেই স্বর্ণের গহনার দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারের তেজাবী স্বর্ণের মূল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাজারে এই কাঁচামালের দাম কমলে গহনার দামও সমন্বয় করে বাজুস। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সোমবার, ৩১ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে। অর্থাৎ ওই সময়ের পর থেকে দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে বাজুস নির্ধারিত নতুন দামে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গহনা বিক্রি হওয়ার কথা।
স্বর্ণের দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হওয়ায় ক্রেতাদের গহনা কেনার আগে সর্বশেষ বাজারদর জেনে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠান, পারিবারিক আয়োজন কিংবা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের জন্য বর্তমান দাম জানা গুরুত্বপূর্ণ।
স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের বৈঠকে। সোমবার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশের স্বর্ণের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকের পর নতুন দাম কার্যকরের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাজুস। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের নতুন দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।
এক ভরি স্বর্ণে ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমা সাধারণ ক্রেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ গহনার ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল দামের পাশাপাশি অন্যান্য খরচও যুক্ত হয়। ফলে স্বর্ণের বাজারদর কমলে মোট ক্রয়মূল্যেও কিছুটা প্রভাব পড়ে।
স্বর্ণের দাম স্থির থাকে না। স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি, তেজাবী স্বর্ণের মূল্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাজুস সময় সময় গহনার দাম সমন্বয় করে থাকে। কখনো দাম বাড়ে, আবার বাজার পরিস্থিতির কারণে কমেও যায়।
সাম্প্রতিক মূল্য কমানোর সিদ্ধান্তও সেই বাজার সমন্বয়ের অংশ। তাই আজকের দাম আগামী দিনেও একই থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই। স্বর্ণ কেনার আগে ক্রেতাদের সর্বশেষ ঘোষিত মূল্য যাচাই করে নেওয়া ভালো।
দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ গহনা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মানগুলোর একটি। এতে স্বর্ণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় এর চাহিদাও বেশি। ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমা বা বাড়ার খবর সরাসরি জুয়েলারি বাজারে প্রভাব ফেলে।
বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গহনার চাহিদা বাড়তে পারে। সে কারণে বাজুসের প্রতিটি মূল্য পরিবর্তন ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই পক্ষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে ২২ ক্যারেট এক ভরি স্বর্ণের গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। আগের দামের তুলনায় ভরিতে ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমেছে।


