খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeমেডিকেল জার্নালকংক্রিটের থেকেও শক্ত মানুষের শরীরের এই অংশ! জানলে অবাক হবেন

কংক্রিটের থেকেও শক্ত মানুষের শরীরের এই অংশ! জানলে অবাক হবেন

বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন সুস্থ মানুষের ফিমার কয়েক হাজার নিউটন পর্যন্ত চাপ সহ্য করতে পারে। এই অসাধারণ ক্ষমতার কারণেই এটি মানবদেহের অন্যতম বিস্ময়কর গঠন হিসেবে বিবেচিত হয়।

মানবদেহকে সাধারণত কোমল ও সংবেদনশীল বলেই মনে করা হয়। সামান্য আঘাতেই শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে, রক্তপাত হতে পারে, এমনকি গুরুতর দুর্ঘটনায় হাড়ও ভেঙে যেতে পারে। তাই অনেকেই মনে করেন মানুষের শরীর খুব বেশি শক্তিশালী নয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমাদের শরীরেই এমন একটি হাড় রয়েছে যা কংক্রিটের চেয়েও বেশি শক্ত এবং অত্যন্ত সহনশীল।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মানুষের শরীরের একটি নির্দিষ্ট হাড় অসাধারণ শক্তির অধিকারী। শুধু তাই নয়, এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মজবুত হাড় হিসেবেও পরিচিত। এই তথ্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হতে পারে, কারণ সাধারণভাবে আমরা মানবদেহকে ভঙ্গুর বলেই বিবেচনা করি।

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে সাধারণত ২০৬টি হাড় থাকে। শৈশবে এই সংখ্যা আরও বেশি থাকে, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু হাড় একত্রিত হয়ে যায়। এই ২০৬টি হাড়ের প্রতিটিরই নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে এবং শরীরের গঠন ও চলাফেরায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে এতগুলো হাড়ের মধ্যে একটি হাড় বিশেষভাবে আলাদা। এর নাম হলো ফিমার (Femur)। এটি মানুষের উরুতে অবস্থিত এবং মানবদেহের সবচেয়ে শক্তিশালী হাড় হিসেবে স্বীকৃত।

ফিমার হলো উরুর প্রধান হাড়, যা কোমরের হাড়কে হাঁটুর সঙ্গে সংযুক্ত করে। এটি মানবদেহের দীর্ঘতম হাড়ও বটে। একজন মানুষের দাঁড়ানো, হাঁটা, দৌড়ানো কিংবা লাফ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কর্মকাণ্ডে এই হাড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শরীরের মোট ওজন বহন করার ক্ষেত্রে ফিমারের অবদান সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিন আমরা যে হাঁটাচলা করি, সিঁড়ি ভাঙি বা বিভিন্ন শারীরিক কাজ সম্পন্ন করি, তার বড় অংশের চাপ এই হাড়ের ওপরই পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিমার এতটাই শক্তিশালী যে এটি অত্যন্ত উচ্চমাত্রার চাপ সহ্য করতে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গেছে, এই হাড়ের ঘনত্ব এবং গঠন এমনভাবে তৈরি যে এটি কংক্রিটের তুলনায় অনেক বেশি চাপ বহন করতে পারে।

ফিমার হাড়ের ভেতরে থাকা শক্ত টিস্যু এবং খনিজ উপাদান, বিশেষ করে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস, এটিকে অসাধারণ দৃঢ়তা প্রদান করে। এজন্য সাধারণ আঘাতে এই হাড় ভাঙা অত্যন্ত কঠিন।

অনেক ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ফিমার ভাঙতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, তা সাধারণ দুর্ঘটনার তুলনায় অনেক বেশি। তাই সড়ক দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের আঘাত ছাড়া এই হাড় ভাঙার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।

ফিমার শুধু সবচেয়ে লম্বা নয়, এটিই মানবদেহের সবচেয়ে শক্তিশালী হাড়। শরীরের ওজন বহন করা থেকে শুরু করে ভারসাম্য রক্ষা—সব ক্ষেত্রেই এর গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন সুস্থ মানুষের ফিমার কয়েক হাজার নিউটন পর্যন্ত চাপ সহ্য করতে পারে। এই অসাধারণ ক্ষমতার কারণেই এটি মানবদেহের অন্যতম বিস্ময়কর গঠন হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভারতীয় মহাকাব্য মহাভারত-এ দুর্যোধনের ঊরুভঙ্গের ঘটনা অত্যন্ত পরিচিত। কাহিনি অনুযায়ী, ভীম-এর গদার আঘাতে দুর্যোধন-এর উরুর হাড় ভেঙে যায়।

আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে ফিমারের শক্তি সম্পর্কে জানা গেলে বোঝা যায়, উরুর এই হাড় ভাঙা মোটেই সহজ কাজ নয়। বাস্তব জীবনে ফিমার ভাঙতে সাধারণত প্রচণ্ড শক্তিশালী আঘাতের প্রয়োজন হয়। তাই মহাভারতের এই ঘটনাকে অনেকেই ফিমারের অসাধারণ দৃঢ়তার সঙ্গে তুলনা করে দেখেন।

ফিমারের শক্তির মূল রহস্য লুকিয়ে আছে এর গঠনে। এই হাড়ের বাইরের অংশ অত্যন্ত ঘন ও শক্ত, যাকে কমপ্যাক্ট বোন বলা হয়। ভেতরের অংশে থাকে স্পঞ্জের মতো কাঠামো, যা চাপকে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয় এবং হাড়কে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।

এছাড়া নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ ফিমারসহ শরীরের অন্যান্য হাড়কে আরও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে।

মানবদেহকে আমরা প্রায়ই দুর্বল বা ভঙ্গুর বলে মনে করি। কিন্তু বাস্তবে আমাদের শরীরের ভেতরেই রয়েছে প্রকৃতির এক অসাধারণ প্রকৌশল। উরুর ফিমার হাড় শুধু মানবদেহের দীর্ঘতম হাড় নয়, এটি সবচেয়ে শক্তিশালী হাড়ও। এর দৃঢ়তা এতটাই বেশি যে অনেক ক্ষেত্রে একে কংক্রিটের চেয়েও শক্ত বলে বর্ণনা করা হয়।

তাই বলা যায়, মানুষের শরীরের ভেতরে লুকিয়ে আছে এমন অনেক বিস্ময়, যার সম্পর্কে জানলে সত্যিই অবাক হতে হয়। ফিমার তারই একটি অনন্য উদাহরণ।