খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালফিফার সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ! কেন ক্ষুব্ধ স্কালোনি ও বিয়েলসা?

ফিফার সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ! কেন ক্ষুব্ধ স্কালোনি ও বিয়েলসা?

স্কালোনির মতে, গরম আবহাওয়া এবং বাধ্যতামূলক জলপান বিরতির কারণে ম্যাচ বারবার থেমে যাচ্ছে। এর ফলে দুর্বল দলগুলো নিজেদের ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছে এবং ম্যাচের সঙ্গে নতুনভাবে মানিয়ে নেওয়ার সময় পাচ্ছে।

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপে ফিফার চালু করা জলপান বিরতি (Cooling Break) নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে বিতর্ক। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, ততই ফুটবলার, কোচ এবং ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের দুই অভিজ্ঞ কোচ লিয়োনেল স্কালোনি এবং মার্সেলো বিয়েলসা প্রকাশ্যে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।

তাদের মতে, বারবার খেলা থামানোর ফলে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও প্রতিযোগিতার ছন্দ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোও নতুন কৌশল সাজানোর অতিরিক্ত সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে, যা ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচে অতিরিক্ত গরম আবহাওয়ার কারণে ফিফা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলপান বিরতির ব্যবস্থা চালু করেছে। উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং তাপজনিত ঝুঁকি কমানো।

তবে বাস্তবে এই বিরতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক কোচ। তাদের মতে, ফুটবল এমন একটি খেলা যেখানে ধারাবাহিক গতি, চাপ এবং ম্যাচের প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঝপথে বারবার খেলা থেমে গেলে সেই স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়।

বিশেষ করে যে দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, তাদের জন্য এই বিরতি অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরও পড়ুন :  জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক বন্ধের আহ্বান মির্জা ফখরুলের

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা কোচ লিয়োনেল স্কালোনি জলপান বিরতি নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বকাপে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত টুর্নামেন্ট হওয়ায় প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্কালোনির মতে, গরম আবহাওয়া এবং বাধ্যতামূলক জলপান বিরতির কারণে ম্যাচ বারবার থেমে যাচ্ছে। এর ফলে দুর্বল দলগুলো নিজেদের ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছে এবং ম্যাচের সঙ্গে নতুনভাবে মানিয়ে নেওয়ার সময় পাচ্ছে।

তিনি মনে করেন, অনেক ক্ষেত্রে যে ম্যাচ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সহজভাবে জেতা সম্ভব হতো, সেই ম্যাচও এখন কঠিন লড়াইয়ে পরিণত হচ্ছে।

যদিও স্কালোনি পুরো বিষয়টিকে একপাক্ষিকভাবে দেখছেন না। তিনি স্বীকার করেছেন যে এই বিরতি উভয় দলের জন্যই কিছু সুবিধা তৈরি করে।

তার ভাষায়, আধুনিক ফুটবল এখন অনেকটা চার ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। বিরতির সময় খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়ার পর কোচিং স্টাফের হাতে কয়েক মিনিট সময় থাকে। সেই সময়ের মধ্যে ম্যাচ বিশ্লেষণ করে নতুন পরিকল্পনা সাজানো সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন :  তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের কারিগরি সহায়তা

স্কালোনি জানান, ফুটবলে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। তাই বিরতির সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে কৌশল পরিবর্তনের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

উরুগুয়ের কিংবদন্তি কোচ মার্সেলো বিয়েলসা অবশ্য আরও কঠোর ভাষায় ফিফার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। কাবো ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের পর তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই বিরতি থেকে বাস্তবে তেমন কোনও ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

বিয়েলসার মতে, ফুটবলের একটি নিজস্ব চরিত্র এবং স্বাভাবিক প্রবাহ রয়েছে। সেই বৈশিষ্ট্যই খেলাটিকে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে জনপ্রিয় করেছে। কিন্তু ঘন ঘন বিরতির কারণে সেই স্বাভাবিকতা নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসার অন্যতম কারণ হলো এর নিরবচ্ছিন্ন গতি। যদি সেই বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যায়, তাহলে খেলাটির মৌলিক আকর্ষণও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এবারের বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮-এ পৌঁছেছে। ফলে প্রতিযোগিতা আরও দীর্ঘ হয়েছে এবং ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া।

আরও পড়ুন :  ফুটবল দুনিয়ায় শোক! বিশ্বকাপ খেলেই না ফেরার দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা

ফিফা খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে জলপান বিরতির সিদ্ধান্ত নিলেও, অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন বিষয়টি নতুন কৌশলগত বিতর্ক তৈরি করেছে।

শক্তিশালী দলগুলো মনে করছে, ম্যাচের গতি ভেঙে যাওয়ায় তাদের আধিপত্য ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলগুলো বিরতির সময় নিজেদের সংগঠিত করার অতিরিক্ত সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, জলপান বিরতি নিয়ে আলোচনা ততই তীব্র হচ্ছে। একদিকে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে ফুটবলের স্বাভাবিক গতি ও বিনোদনমূলক দিক বজায় রাখার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

লিয়োনেল স্কালোনি ও মার্সেলো বিয়েলসার মতো অভিজ্ঞ কোচদের মন্তব্য প্রমাণ করছে যে বিষয়টি শুধুমাত্র একটি নিয়মগত পরিবর্তন নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও ম্যাচ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক।

আগামী দিনে ফিফা এই নিয়মে কোনও পরিবর্তন আনে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। তবে এতটুকু নিশ্চিত যে জলপান বিরতি নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে শুরু হওয়া এই আলোচনা সহজে থামছে না। বর্তমানে এটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ