খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালব্রায়ান ব্রবির বিস্ফোরক পারফরম্যান্স: গিয়োকারেস-ইসাককে ছাপিয়ে ডাচদের নতুন আশার আলো

ব্রায়ান ব্রবির বিস্ফোরক পারফরম্যান্স: গিয়োকারেস-ইসাককে ছাপিয়ে ডাচদের নতুন আশার আলো

কিন্তু এই ম্যাচে তিনি যেন অন্য মানুষ। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী, শক্তিশালী আর কার্যকরী খেলায় সবাইকে অবাক করে দেন। বল ধরে রাখা, শরীর ব্যবহার করে ডিফেন্ডারদের ঠেকানো—সব কিছুই ছিল দারুণ।

নেদারল্যান্ডসের ফুটবল মানেই একরাশ আবেগ, ইতিহাস আর অপূর্ণ স্বপ্ন। তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেও ট্রফি না জেতার আক্ষেপ এখনো তাদের তাড়া করে। এই টুর্নামেন্টেও সেই পুরনো স্বপ্ন আবার জেগে উঠেছে। আর সেই স্বপ্নকে নতুন করে জ্বালিয়ে দিলেন এক নাম—ব্রায়ান ব্রবি।

এই ম্যাচের আগে আলোচনা ছিল সুইডেনের দুই তারকা স্ট্রাইকার ভিক্টর গিয়োকারেস আর আলেকজান্ডার ইসাককে ঘিরে। সবাই ভাবছিলেন, এই দুজন মিলে ডাচ ডিফেন্সে ঝড় তুলবে। কিন্তু বাস্তবটা একেবারেই উল্টো। আলো কেড়ে নিলেন এমন একজন, যাকে নিয়েই তেমন কোনো আলোচনা ছিল না—ব্রবি।

কয়েক বছর আগেও ব্রবিকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তার টেকনিক ভালো না, একজন স্ট্রাইকার হিসেবে মৌলিক দক্ষতাও নাকি কম। এমনকি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও তার গোল সংখ্যা ছিল খুবই কম।

কিন্তু এই ম্যাচে তিনি যেন অন্য মানুষ। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী, শক্তিশালী আর কার্যকরী খেলায় সবাইকে অবাক করে দেন। বল ধরে রাখা, শরীর ব্যবহার করে ডিফেন্ডারদের ঠেকানো—সব কিছুই ছিল দারুণ।

ধরো তুমি মাঠে খেলছো, আর সামনে এমন একজন ফরোয়ার্ড আছে, যে বল পেলে সহজে হারায় না, আবার সঠিক সময়ে পাসও দেয়—ঠিক এমনই ছিলেন ব্রবি।

আরও পড়ুন :  মেসি-রোনাল্ডোর সঙ্গে তুলনা! এমবাপের রেকর্ড ভেঙে কী বললেন হ্যারি কেন?

ব্রবির প্রথম গোলটা আসে দারুণ টিমওয়ার্ক থেকে। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে দ্রুত আক্রমণে যায় ডাচরা। তারপর একদম ঠিক জায়গায় থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।

দ্বিতীয় গোলটা আরও চমৎকার। নিচু ক্রস থেকে খুব সূক্ষ্ম টাচ দিয়ে বল জালে জড়ান। এখানে তার পজিশনিং আর টাইমিং ছিল অসাধারণ।

সত্যি বলতে, প্রথমার্ধেই তার হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারতো, যদি একটি ক্রস একটু ভালো হতো।

ব্রবির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার শরীরের গঠন আর ব্যালেন্স। ডিফেন্ডাররা তাকে সহজে সরাতে পারে না। সে বল ধরে রাখে, পেছন থেকে চাপ সামলায়, তারপর সঠিক সময়ে টিমমেটদের কাছে বল দেয়।

এই ধরনের খেলা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে পুরো টিম এগিয়ে আসার সুযোগ পায়। কোচও এই বিষয়টা বুঝে তার আশেপাশে উইঙ্গারদের কাছাকাছি রেখেছিলেন, যা ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।

এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। আগের ম্যাচের তুলনায় তারা অনেক উঁচুতে উঠে খেলেছে। একের পর এক খেলোয়াড় আক্রমণে যোগ দিয়েছে।

এর ফলে সুইডেনের ডিফেন্স বারবার চাপে পড়ে। মাঠে যেন একটা “অরেঞ্জ ঝড়” বয়ে যাচ্ছিল।

ব্রবি একা নয়, তার পাশে ছিল দারুণ সাপোর্ট। কোডি গাকপো আবার নিজের ফর্মে ফিরে এসেছেন। তিনি দুটি গোল করেন এবং আক্রমণে সবসময় হুমকি ছিলেন।

আরও পড়ুন :  মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম কি সত্যিই অভিশপ্ত? বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ভয়ংকর রহস্য উন্মোচন!

রেইনডার্সও মাঝমাঠে খুবই সক্রিয় ছিলেন। তিনি বল কন্ট্রোল, পাসিং আর আক্রমণ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখেন।

এই দুজনের সাথে ব্রবির বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো।

অন্যদিকে, সুইডেন একেবারেই ছন্দে ছিল না। ম্যাচের শুরুতে কিছু ভালো মুহূর্ত ছিল, বিশেষ করে গিয়োকারেসের একটি শট, যা গোলকিপার দারুণভাবে বাঁচান।

কিন্তু এরপর তারা ধীরে ধীরে ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায়। মাঝমাঠ প্রায় ফাঁকা ছিল, ডিফেন্ডাররা ঠিকমতো চাপ দিতে পারেনি।

অনেক সময় দেখা গেছে, ডাচরা আক্রমণে উঠছে আর সুইডেনের খেলোয়াড়রা ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে—যা একদমই বড় দলের মতো না।

ইসাক কিছু ভালো মুভ তৈরি করেছিলেন। একটি দারুণ পাস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয় এবং সুইডেন একটি গোল পায়।

তবে পুরো ম্যাচে তার প্রভাব খুব বেশি ছিল না। গিয়োকারেসও শুরুতে ভালো খেললেও পরে একদম নিস্তেজ হয়ে যান।

সুইডেনের কোচের ওপর এখন চাপ বাড়ছে। তার দলকে নিয়ে অনেক আশা ছিল, কিন্তু এমন পারফরম্যান্স হতাশাজনক।

ম্যাচ শেষে তিনি ডাচদের শক্তির কথা বললেও, আসলে তার দলের দুর্বলতাই বেশি চোখে পড়েছে।

আরও পড়ুন :  এমবাপে ও জাভির একসুর! কেন এখনও বিশ্বের সেরা লিওনেল মেসি?

একটা ভালো দিক ছিল এলাঙ্গার পারফরম্যান্স। বেঞ্চ থেকে নেমে তিনি গতি আর এনার্জি নিয়ে আসেন।

তার গোলটা ছিল খুব দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে। এছাড়া একটি দারুণ স্কিল দিয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত সুযোগটা কাজে লাগেনি।

ডাচ কোচ একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—প্রথম ম্যাচে না খেলানো ব্রবিকে দ্বিতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই নামানো।

এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কখনো কখনো এমন ঝুঁকি নিতে হয়, আর এই ক্ষেত্রে সেটা পুরোপুরি সফল।

এই জয়ের ফলে নেদারল্যান্ডস এখন অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী। তারা হয়তো কঠিন প্রতিপক্ষকে এড়িয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পারবে।

সবচেয়ে বড় কথা, তারা পেয়েছে একজন নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার—যে চাপের মুহূর্তে দলকে এগিয়ে নিতে পারে।

ফুটবল মাঝে মাঝে এমন গল্প তৈরি করে, যা আগে কেউ ভাবেই না। ব্রায়ান ব্রবি ঠিক সেই গল্পেরই এক নতুন অধ্যায়।

যাকে নিয়ে প্রশ্ন ছিল, সেই আজ নায়ক। আর এই পারফরম্যান্স যদি ধরে রাখতে পারেন, তাহলে নেদারল্যান্ডসের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণও অসম্ভব নয়।

এক কথায় বললে—এই ম্যাচটা ছিল ব্রবির, আর হয়তো এই টুর্নামেন্টও তার হয়ে যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ