খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদওয়েস্ট বেঙ্গলনিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি নিহত, দ্রুত মরদেহ ফেরানোর আশ্বাস

নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি নিহত, দ্রুত মরদেহ ফেরানোর আশ্বাস

দেবাশীষ দত্তের বয়স ছিল ৪০ বছর। তিনি ‘দৈনিক আজকের আলো’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে চ্যানেল নাইনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। তাঁদের মধ্যে আটজনই বাংলাদেশের নাগরিক। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বাংলাদেশের একটি পরিবারের চার সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা সিমমিন, তিন বছরের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলি।

ঘটনার পর কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন সক্রিয় হয়েছে। নিহত ও আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে প্রয়োজনীয় খরচ সরকার বহন করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপহাইকমিশনার মহম্মদ খালেদ এ তথ্য জানান।

মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। ১৫ এইচ নম্বর ভবনে থাকা ওই হোটেলে রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

প্রথমে আগুন সীমিত জায়গায় থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে ঘন কালো ধোঁয়া ঢুকে যায়। মাঝরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা আবাসিকেরা আচমকা আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে পড়ে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন।

অনেকে প্রাণ বাঁচাতে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আতঙ্কের মধ্যে অনেকেই দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কয়েকজন অচেতনও হয়ে যান।

পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ভোররাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮০ জনকে হোটেল থেকে বের করে আনা হয়। তবে তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মৃতদের আটজনই বাংলাদেশের নাগরিক।

এই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার একটি পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন :  আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের গোপন মন্ত্র! মিষ্টি, পবিত্র ধোঁয়া, লাকি চার্মে জয়ের বিশ্বাস

নিহতরা হলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা সিমমিন, তাঁদের তিন বছরের সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত এবং আফসানার বাবা আকরাম আলি।

দেবাশীষ দত্তের বয়স ছিল ৪০ বছর। তিনি ‘দৈনিক আজকের আলো’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে চ্যানেল নাইনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজি মাহবুব রহমান জানিয়েছেন, সাংবাদিকতা জগতের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও দেবাশীষ দত্ত পরিচিত ছিলেন।

তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া রাজারহাট এলাকায়। তাঁর শ্বশুর আকরাম আলির বাড়ি কুষ্টিয়ার থানাপাড়া এলাকায়।

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অসুস্থ স্ত্রী আফসানা সিমমিনের চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন। পরে তাঁরা কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়া এই পরিবারের জন্য শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে।

অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার এবং একজন ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় কুষ্টিয়ায় ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে শুধু প্রাণহানি নয়, বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিও আহত হয়েছেন। মোট ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের উপহাইকমিশন।

তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। উদ্ধারকাজ এবং নিহত ও আহতদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা।

বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই এখন উপহাইকমিশনের অন্যতম প্রধান কাজ।

অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন :  দিল্লি-ঢাকার কূটনীতিতে নতুন মোড়! ভিসা চালু, বাংলাদেশে রেল কোচ পাঠাচ্ছে ভারত

তিনি বলেছেন, নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সরকার সেই খরচ বহন করবে।

এতে নিহতদের পরিবার কিছুটা হলেও প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশের মাটিতে স্বজন হারানোর পর তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা পরিবারের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

হোটেলে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে এসি বিস্ফোরণের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আগুন কোথা থেকে শুরু হয়েছিল, কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এসব বিষয় তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।

বিশেষ করে হোটেলের জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ভবনের নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, সেসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।

অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল ধোঁয়া। রাতের সময়ে অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই সবাই পরিস্থিতি বুঝতে পারেননি।

আগুনের পাশাপাশি ঘন কালো ধোঁয়া দ্রুত কক্ষগুলিতে ঢুকে পড়ায় অনেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। আগুনের সময় অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ শুধু সরাসরি আগুন নয়, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধও হতে পারে।

এই ঘটনাতেও উদ্ধারকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় হোটেলের ভেতরের ঘন ধোঁয়া।

নিউ মার্কেটের এই ঘটনা কলকাতার হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে বহু পুরনো ভবনের মধ্যে হোটেল ও আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এসব ভবনে আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। জরুরি নির্গমন পথ, পর্যাপ্ত সিঁড়ি, ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অ্যালার্ম, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং নিয়মিত মহড়া সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

নিউ মার্কেটের এই দুর্ঘটনার পর এসব বিষয় আবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

আরও পড়ুন :  ২৫ বছরের এসএসসি ফল: কোন বছরে কত জিপিএ-৫, কেন কমছে এখন?

এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় তিনি শোক জানিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং অতীত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার কথা বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা আগুন লাগার কারণ এবং ঘটনার আগে হোটেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।

এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভবনটির অনুমোদন এবং অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ঠিকঠাক ছিল কি না। পাশাপাশি হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করেছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি হোটেলের দুর্ঘটনা নয়। এটি বিদেশে চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে চিকিৎসার জন্য প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যান। কলকাতা তাঁদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। ফলে শহরের হোটেল, গেস্ট হাউস এবং অন্যান্য আবাসিক স্থাপনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতিও নিয়মিত।

নিউ মার্কেটের ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু তাই দুই দেশের মানুষের কাছেই গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন সবচেয়ে জরুরি হলো নিহতদের মরদেহ দ্রুত স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং আহতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে আগুনের প্রকৃত কারণ সামনে আনা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কলকাতার হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে পরীক্ষা করা।

কারণ একটি দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ বা তদন্ত যতই হোক, প্রাণ হারানো মানুষগুলো আর ফিরে আসবেন না। তাই এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দুর্ঘটনা ঠেকানোই হওয়া উচিত সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।


Discover more from News Bangla24x7

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Table of contents [hide]

আর্কাইভ