খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

বিদ্যুত চুক্তি বাতিল হচ্ছেনা,দাম কমাতে চলছে আলোচনা: জ্বালানিমন্ত্রী

বিগত সরকারের সময় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি এখনই বাতিল করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সরকার। কারণ এসব চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে...
Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজমোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক জোরদারে বার্তা

মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক জোরদারে বার্তা

দুই দেশের সম্পর্ক যখন নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে মোদির এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ঢাকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার পরই তিনি নয়াদিল্লি সফর করেন। তাঁর এই সফরকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক গতিপথের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দুই দেশের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পর্ককে গঠনমূলক পথে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও কার্যকর করার বিষয়ে মোদির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

দুই দেশের সম্পর্ক যখন নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে কিছুটা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে মোদির এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নয়াদিল্লি যাওয়ার আগে ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটান দীনেশ ত্রিবেদী। মাত্র দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। একই দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তিনি। এর আগে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় মাস পর সোমবার প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ফলে তাঁর ঢাকা সফরের শেষ পর্যায়ের এসব বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীনেশ ত্রিবেদীর দিল্লি সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে পরিস্থিতি।

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় ঢাকার পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফলে প্রত্যর্পণ ইস্যু বর্তমানে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।

দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবারের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লির ওই সম্মেলনে যোগ দেন কি না, সেটিও দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দীনেশ ত্রিবেদীর বাংলাদেশে নিয়োগও শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছে। গত এপ্রিলে তাঁকে বাংলাদেশের জন্য ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। দুই দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নিয়োগকে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে ভারত বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে কোনো সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা সক্রিয় রাজনীতিবিদকে পাঠায়নি।

গত ৫ জুন স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে এমন সময়ে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর বিষয়টিকে কূটনৈতিক মহলের অনেকে ভারতের কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যখন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি, তখন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কূটনৈতিক প্রতিনিধির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্য, সীমান্ত, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কের সামনে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

প্রত্যর্পণ, সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ এসব বিষয় এখন দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের স্বার্থে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীর ধারাবাহিক বৈঠক এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকে কেবল নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় ভারত কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়, তার একটি ধারণা এই বৈঠক থেকে পাওয়া যেতে পারে।

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ হলে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে সরাসরি আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে।

সর্বশেষে বলা যায়, দীনেশ ত্রিবেদীর দিল্লি সফর এবং নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান অধ্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

আর্কাইভ