খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeফুটবলফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালপল দ্য অক্টোপাসকেও ছাড়িয়ে গেলেন! ৩ বিশ্বকাপের সঠিক ভবিষ্যদ্বক্তার নতুন ভবিষ্যদ্বাণী

পল দ্য অক্টোপাসকেও ছাড়িয়ে গেলেন! ৩ বিশ্বকাপের সঠিক ভবিষ্যদ্বক্তার নতুন ভবিষ্যদ্বাণী

তার ভাষায়, বিশ্বকাপে সাফল্যের প্রায় ৫০ শতাংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। বিশেষ করে যখন সমমানের দুটি শক্তিশালী দল মুখোমুখি হয়, তখন ম্যাচের ফল নির্ধারণে অনেক অপ্রত্যাশিত বিষয় কাজ করে।

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই উত্তেজনা, আবেগ এবং অসংখ্য ভবিষ্যদ্বাণী। প্রতিটি টুর্নামেন্টের আগে ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় এবং সমর্থকেরা নিজেদের মতো করে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের নাম ঘোষণা করেন। তবে এসব ভবিষ্যদ্বাণীর ভিড়ে একজন জার্মান অর্থনীতিবিদ গত তিনটি বিশ্বকাপ ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। কারণ তার পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল টানা তিনবার বিশ্বকাপ বিজয়ী দলকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।

জার্মান অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট এবারও একটি বিস্তৃত পূর্বাভাস প্রকাশ করেছেন। তার মডেল অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস শিরোপা জিততে পারে। যদি এই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তাহলে এটি হবে তার মডেলের টানা চতুর্থ সফল ভবিষ্যদ্বাণী।

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে পল দ্য অক্টোপাস বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। জার্মানির ম্যাচগুলোর ফলাফল একের পর এক সঠিকভাবে অনুমান করে সে আলোচনার ঝড় তুলেছিল।

তবে জোয়াকিম ক্লেমেন্টের সাফল্য আরও বিস্ময়কর। তিনি কোনো প্রাণীর প্রবৃত্তির ওপর নয়, বরং অর্থনীতি, পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন সামাজিক সূচকের সমন্বয়ে একটি জটিল মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেল ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ বিজয়ী হিসেবে পূর্বাভাস দিয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনবারই সেই পূর্বাভাস বাস্তবে মিলেছে।

ক্লেমেন্টের সর্বশেষ বিশ্লেষণে সবচেয়ে বড় চমক হলো নেদারল্যান্ডসকে সম্ভাব্য বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখানো। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও ডাচরা কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তবে এবার তাদের শক্তিশালী স্কোয়াড, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং পরিসংখ্যানগত সুবিধার কারণে মডেলটি তাদের এগিয়ে রেখেছে।

নেদারল্যান্ডস যদি সত্যিই শিরোপা জেতে, তাহলে এটি শুধু ডাচ ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক অর্জনই হবে না, বরং ক্লেমেন্টের মডেলের বিশ্বাসযোগ্যতাও আরও বাড়িয়ে দেবে।

জোয়াকিম ক্লেমেন্টের মডেল শুধু সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নই নির্ধারণ করেনি। পুরো ৪৮ দলের টুর্নামেন্টে কোন দল কোথায় পৌঁছাতে পারে, সেই চিত্রও তুলে ধরেছে।

মডেল অনুযায়ী, দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপান একটি বড় অঘটন ঘটাতে পারে। ফুটবল ইতিহাসে জাপান ইতোমধ্যে একাধিক শক্তিশালী দলকে চমকে দিয়েছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।

অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের জন্য সুখবর নেই। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পরাজিত হয়ে তারা দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে পারে।

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বরাবরই অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্লেমেন্টের মডেলও ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত তাদের যাত্রা থামিয়ে দিতে পারে পর্তুগাল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের মতো এবারও পর্তুগিজরা ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করতে পারে। ফলে দুই দেশের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি নাটকীয় অধ্যায় দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো অনিশ্চিত টুর্নামেন্টের ফলাফল আগে থেকে বলা প্রায় অসম্ভব। ক্লেমেন্টও সেই বাস্তবতা স্বীকার করেন। তার মতে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান একটি দলের সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ায়।

এই উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • দেশের জনসংখ্যা
  • অর্থনৈতিক সক্ষমতা
  • জলবায়ু পরিস্থিতি
  • ফিফা র‍্যাঙ্কিং
  • ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স
  • সাম্প্রতিক ফর্ম

এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তার মডেল সম্ভাব্য ফলাফল নির্ধারণ করে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফুটবল কখনোই পুরোপুরি পরিসংখ্যানের খেলা নয়।

নিজের মডেলের জনপ্রিয়তা বাড়লেও ক্লেমেন্ট বারবার সতর্ক করেছেন যে কোনো পূর্বাভাসকে শতভাগ নিশ্চিত সত্য হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তার ভাষায়, বিশ্বকাপে সাফল্যের প্রায় ৫০ শতাংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। বিশেষ করে যখন সমমানের দুটি শক্তিশালী দল মুখোমুখি হয়, তখন ম্যাচের ফল নির্ধারণে অনেক অপ্রত্যাশিত বিষয় কাজ করে।

একটি বল পোস্টে লেগে বাইরে চলে যেতে পারে, আবার একই বল কয়েক সেন্টিমিটারের ব্যবধানে জালে জড়িয়ে যেতে পারে। কখনো রেফারির সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, কখনো কোনো খেলোয়াড়ের অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য সব হিসাব বদলে দেয়।

এসব বিষয় আগেভাগে অনুমান করা সম্ভব নয় বলেই ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে অনিশ্চিত এবং রোমাঞ্চকর খেলা বলা হয়।

মজার বিষয় হলো, ক্লেমেন্ট কখনোই এই মডেল তৈরি করেননি বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ জানার জন্য। বরং তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন যে অনেক সময় অর্থনীতিবিদরা এমন বিষয় নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেন, যেগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

প্রথম দিকে তিনি এটিকে এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলন হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে জার্মানির শিরোপা জয়ের পূর্বাভাস সঠিক হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

পরবর্তীতে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়ায় মানুষ তার মডেলকে প্রায় “অপরাজেয়” বলে ভাবতে শুরু করে।

২০২৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নানা সংকট চলমান। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ নিয়ে কাজ করা ক্লেমেন্টের কাছে এক ধরনের মানসিক স্বস্তির উৎস।

তার মতে, ফুটবল মানুষের জন্য নেতিবাচক খবরের ভিড় থেকে সাময়িকভাবে দূরে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বিশ্বকাপের উত্তেজনা কোটি মানুষের মধ্যে আনন্দ ও আশা ছড়িয়ে দেয়, যা কঠিন সময়েও ইতিবাচক অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।

টানা তিনবার সফল হওয়ার কারণে এবার ক্লেমেন্টের ওপর চাপও বেড়েছে। তার সহকর্মীরা প্রায়ই জানতে চান, কোনো খেলোয়াড়ের চোট বা স্কোয়াড পরিবর্তন তার মডেলকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে।

এমনকি তার পূর্বাভাস প্রকাশের পর কয়েকজন সহকর্মী নেদারল্যান্ডসের পক্ষে অর্থও বাজি ধরেছেন। বিষয়টি নিয়ে ক্লেমেন্ট রসিকতা করে বলেছেন, যদি নেদারল্যান্ডস দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়, তাহলে হয়তো পরদিন তাকে অফিসে না গিয়ে বাসা থেকেই কাজ করতে হবে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো এর অনিশ্চয়তা। পরিসংখ্যান, বিশ্লেষণ এবং তথ্যভিত্তিক মডেল অনেক কিছু অনুমান করতে পারলেও মাঠের বাস্তবতা মুহূর্তেই সব হিসাব পাল্টে দিতে পারে। তবুও জোয়াকিম ক্লেমেন্টের টানা তিনটি সফল পূর্বাভাস তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিশ্লেষকে পরিণত করেছে।

এখন দেখার বিষয়, ২০২৬ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস সত্যিই কি ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিততে পারে, নাকি ফুটবল আবারও প্রমাণ করবে যে এই খেলায় শেষ কথা বলে শুধু মাঠের লড়াই।