২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষ হওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন নকআউট পর্বে। আর সেই সঙ্গে পরিষ্কার হয়ে গেছে ইংল্যান্ডের শেষ-৩২-এর প্রতিপক্ষ এবং সম্ভাব্য ফাইনাল যাত্রার পথ। গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার পর ইংল্যান্ড এখন মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ডিআর কঙ্গোর। ফুটবল দুনিয়ায় অনেকের কাছে এটি সহজ ম্যাচ মনে হলেও বাস্তবতা ভিন্ন গল্প বলছে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার বিরুদ্ধে ২–০ গোলের জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করেন জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেন। এই জয়ের ফলে থমাস টুখেলের দল নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে নকআউটের প্রথম ধাপে অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক প্রতিপক্ষ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় ইংল্যান্ডের সামনে। সেই হিসাবেই শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসে ডিআর কঙ্গো।
ডিআর কঙ্গো এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাস লিখছে। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে তারা ৩–১ গোলের অসাধারণ জয় পেয়ে শুধু নকআউট নিশ্চিত করেনি, নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ও তুলে নিয়েছে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য তাদের জন্য ভালো ছিল না। মাত্র দশ মিনিটের মাথায় এলদর শোমুরোদভের গোলে পিছিয়ে পড়ে দলটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে আফ্রিকান প্রতিনিধিরা।
ইয়োয়ানে উইসা দুটি গোল করেন এবং ফিস্টন মায়েলে যোগ করেন আরেকটি গোল। শেষ পর্যন্ত ৩–১ ব্যবধানে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়ে ডিআর কঙ্গো।
বিশ্বকাপের শেষ-৩২ পর্বে ইংল্যান্ড এবং ডিআর কঙ্গো প্রথমবার একে অপরের মুখোমুখি হবে। এর আগে দুই দলের মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক সিনিয়র ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।
কাগজে-কলমে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ডিআর কঙ্গোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আফ্রিকান দলগুলো এই বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি চমক দেখিয়েছে। শক্তিশালী ডিফেন্স এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ তাদের বড় অস্ত্র হতে পারে।
ডিআর কঙ্গোকে হারাতে পারলে ইংল্যান্ডের সামনে অপেক্ষা করবে আরও বড় পরীক্ষা।
সম্ভাব্য শেষ-১৬ পর্বে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে পারে মেক্সিকো অথবা ইকুয়েডর। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসছে ব্রাজিল, জাপান, আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের নাম।
সেমিফাইনালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনা কিংবা কলম্বিয়ার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর যদি ইংল্যান্ড ফাইনালে পৌঁছে যায়, তাহলে প্রতিপক্ষ হিসেবে জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল বা নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় শক্তিশালী দলের দেখা মিলতে পারে।
ইংল্যান্ডের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে রক্ষণভাগে চোটের ধাক্কা। বিশেষ করে রাইট-ব্যাক পজিশন নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন কোচ থমাস টুখেল।
জ্যারেল কোয়ানসাহ ইনজুরিতে পড়েছেন। এর আগে রিস জেমস এবং টিনো লিভরামেন্টোর সমস্যাও ইংল্যান্ডকে ভুগিয়েছে।
নকআউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্কোয়াডের ভারসাম্য ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ডের জন্য।
ইংল্যান্ডের শেষ বড় আন্তর্জাতিক সাফল্যের স্মৃতি অনেক পুরনো। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার আবারও ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে দেশটির সমর্থকরা।
তবে বিশ্বকাপ নকআউট পর্ব এমন একটি মঞ্চ যেখানে একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো গল্প। ডিআর কঙ্গো ইতোমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে তারা লড়াই করতে জানে।
এখন দেখার বিষয়, ইংল্যান্ড কি নিজেদের ফেভারিটের তকমা ধরে রাখতে পারে, নাকি নতুন কোনো রূপকথা লিখবে ডিআর কঙ্গো।
Discover more from News Bangla24x7
Subscribe to get the latest posts sent to your email.

