বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞ দলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা—আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস—বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ছোট ও গোপন ‘সেল’ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে একিউআইএসের কোনো ঘাঁটি তৈরি হয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো সক্রিয় সেলের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে—এমন তথ্য দেওয়া হয়নি।
জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তার পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক সপ্তাহে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে একিউআইএসের কোনো সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য, বাংলাদেশে একিউআইএসের সেল গঠনের বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাইছেন না। তবে পরিস্থিতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের ৩৮তম প্রতিবেদনে একিউআইএসকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি বিকাশমান আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একিউআইএস আগের মতো শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো সংগঠন হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না। বরং তারা আঞ্চলিক পর্যায়ে নিজেদের যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে লজিস্টিক সহায়তা এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের উদ্যোগ।
বড় আকারের ঘাঁটি বা শক্তিশালী একটি কেন্দ্র তৈরির পরিবর্তে ছোট, বিচ্ছিন্ন এবং বিকেন্দ্রীভূত সেলের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের উদ্বেগের জায়গাটিও এখানেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এ ধরনের ছোট সেল গড়ে তোলার চেষ্টা থাকতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা দরকার। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে একিউআইএসের কোনো নির্দিষ্ট ঘাঁটি চিহ্নিত করা হয়নি। কোনো সক্রিয় সেলের অবস্থান, সদস্যসংখ্যা কিংবা তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
অর্থাৎ, এটিকে বাংলাদেশে আল-কায়েদার ঘাঁটি থাকার ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে একটি আগাম সতর্কতা বা থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সন্ত্রাসী সংগঠনের ক্ষেত্রে ‘সেল’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত বড় কোনো ঘাঁটি বা প্রকাশ্য সাংগঠনিক কাঠামোর বদলে ছোট এবং বিচ্ছিন্ন একটি দল বা নেটওয়ার্ককে সেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই ধরনের কাঠামোর উদ্দেশ্য হতে পারে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সীমিত রাখা এবং পুরো নেটওয়ার্ককে একটি কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল না করা।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে একিউআইএসের ক্ষেত্রেও এমন ছোট ও বিকেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্ক তৈরির প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। লজিস্টিক এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগ গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করার সম্ভাবনা নিয়ে তাই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে এমন কোনো সক্রিয় সেল কাজ করছে—এমন প্রমাণ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তা এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক মাস আগেই দেশে জঙ্গি তৎপরতা না থাকার কথা বলা হয়েছিল।
গত ২৮ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, দেশে বর্তমানে কোনো জঙ্গি তৎপরতা নেই। এমনকি ‘জঙ্গিবাদ’ শব্দটির রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছিলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও উগ্র বা কট্টরপন্থী উপাদান থাকতে পারে।
এরপরও সরকারের কার্যক্রমে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় সতর্কতার বিষয়টি দেখা গেছে।
গত ২৪ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট বা এটিইউ এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বা সিটিটিসি ইউনিটের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। সেখানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় এটিইউর সক্ষমতা বাড়ানো, আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ে এটিইউ ও সিটিটিসিকে একীভূত করে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট বা এসএসইউ গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়।
ফলে একদিকে সরকার বলছে দেশে সক্রিয় জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা নেই, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে এ ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মাঠপর্যায়ে সতর্কতা বাড়িয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত এসব বোমা বা বিস্ফোরক উদ্ধারের সঙ্গে একিউআইএসের কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
এ কারণে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লিখিত সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাকে সরাসরি একই সূত্রে যুক্ত করা ঠিক হবে না। দুটি বিষয় একই সময়ে সামনে এলেও তাদের মধ্যে যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার মতো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে নেই।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তার পর জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে—এমন ধারণা করার সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী নয়, বিভিন্ন ধরনের উগ্র সংগঠনের উত্থানের আশঙ্কাও বিবেচনায় রাখা দরকার।
তবে তাঁর মতে, জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে।
অভিযান পরিচালনার সময় আইন মেনে প্রমাণ সংগ্রহ, গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। কারণ অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রকৃত অপরাধী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি পরবর্তীতে নিজেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেতে পারেন।
নূর খান লিটন অতীতের কিছু জঙ্গিবিরোধী অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে বোমা বা বিস্ফোরকের সঙ্গে একই জায়গা থেকে লিফলেট, প্রচারপত্র বা জঙ্গিবাদী বই উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় একই ধরনের আলামত উদ্ধারের বর্ণনা মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে বলেও তিনি মনে করেন।
তাঁর প্রশ্ন, যারা সশস্ত্র বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তারা কি একই জায়গায় বিস্ফোরকের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক প্রচারপত্রও রেখে যাবে?
এই ধরনের প্রশ্নের কারণে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুল বা প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকৌশল যেন প্রকৃত অপরাধীকে নিজেদের ‘ভিকটিম’ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ না দেয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তার সময়েই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৩ আগস্ট রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভা এবং ডিএমপির জুলাই মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় পুলিশের আইজি মো. আলী হোসেন ফকির এবং ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ মাঠপর্যায়ে সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির জন্য নিরাপত্তাচৌকি স্থাপন, টহল জোরদার এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর গতিবিধির ওপর নজর বাড়ানোর কথা বলা হয়।
একই সঙ্গে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সদস্য এবং তাদের ব্যবহৃত যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে একিউআইএসের সেল গঠনের চেষ্টা সম্পর্কে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না বলে জানিয়েছেন।
তবে এর আগে ২৭ জুলাই ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, দেশে বর্তমানে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার মতো কোনো আশঙ্কা নেই।
সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোয়েন্দা তথ্য এবং পুলিশের নিজস্ব ডাটাবেজের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, জাতিসংঘ যে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা জানিয়েছে, সেটি বাংলাদেশে বাস্তবে কতটা সক্রিয়।
এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য বলছে, বাংলাদেশে একিউআইএসের কোনো নির্দিষ্ট ঘাঁটি বা সক্রিয় সেলের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়নি। পুলিশের কাছেও এমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য থাকার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
আবার একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিষয়টিকে একেবারে উপেক্ষা করার সুযোগও নেই।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সতর্ক থাকা, কিন্তু একই সঙ্গে প্রমাণভিত্তিক তদন্ত চালানো। কোনো বোমা বা বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেই সেটিকে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তাও সেই জায়গা থেকেই দেখা দরকার। এটি বাংলাদেশে একিউআইএসের ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা নয়। বরং ভবিষ্যতে কোনো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক যেন দেশের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে আগাম সতর্কতা।
বাংলাদেশের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ দুটি। প্রথমত, সম্ভাব্য জঙ্গি বা উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের বিস্তার ঠেকানো। দ্বিতীয়ত, এই কার্যক্রম মোকাবিলায় আইন ও মানবাধিকারের সীমা কঠোরভাবে মেনে চলা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করাও জরুরি।
কারণ জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় একটি ভুল পদক্ষেপও বড় ধরনের অবিশ্বাস তৈরি করতে পারে।
এই মুহূর্তে তাই জাতিসংঘের সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার হওয়া বোমা ও বিস্ফোরকের উৎস, উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তদন্তের ফলও সামনে আসা প্রয়োজন।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।


