খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলমেসির শেষ বিশ্বকাপ? আর্জেন্টিনার নতুন চ্যালেঞ্জে বাড়তি দায়িত্ব নিলেন লিও!

মেসির শেষ বিশ্বকাপ? আর্জেন্টিনার নতুন চ্যালেঞ্জে বাড়তি দায়িত্ব নিলেন লিও!

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাছাইপর্বে আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন মেসি। অর্থাৎ সীমিত ম্যাচ খেলেও তিনি দলের সবচেয়ে কার্যকর ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি। গোল, অ্যাসিস্ট, ব্যক্তিগত পুরস্কার কিংবা দলগত সাফল্য—সব ক্ষেত্রেই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে গেছেন তিনি। তবে আসন্ন বিশ্বকাপ মেসির জন্য একেবারেই ভিন্ন ধরনের। কারণ এবার তিনি শুধু একজন তারকা ফুটবলার নন, বরং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা রক্ষার কঠিন দায়িত্বও বহন করছেন।

এটি মেসির টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এর আগে পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনও তাঁকে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামতে হয়নি। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য, আর সেই মিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লিওনেল মেসি।

লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি

বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির অবদান অসাধারণ। এখন পর্যন্ত ২৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ১৩টি গোল করেছেন তিনি। এছাড়া ১০ বার ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়ে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন। দুইবার বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি হিসেবে গোল্ডেন বল জয়ও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান শুধু একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আর্জেন্টিনা দলের উপর তাঁর প্রভাবেরও প্রমাণ। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

স্কালোনির পরিকল্পনার কেন্দ্রে মেসি

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। স্কালোনি দায়িত্ব নেওয়ার পর মেসিকে নিয়ে ৭০টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে জয় এসেছে ৫৩টিতে, ড্র হয়েছে ১১টি এবং হার মাত্র ৬টি ম্যাচে। এই সময়ে দলের সাফল্যের হার ৭৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন :  সরকারি স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচার! বদলাচ্ছে কৌশল,বাড়ছে উদ্বেগ

অন্যদিকে মেসিকে ছাড়া খেলা ২৪ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতেছে ১৮টি। পরিসংখ্যানগত পার্থক্য খুব বেশি না হলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। মেসির উপস্থিতি শুধু আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করে না, পুরো দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়।

স্কালোনি জানেন, বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতার মূল্য কতটা। তাই তাঁর কৌশলগত পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ মেসি। শুধু গোল করার জন্য নয়, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সতীর্থদের পরিচালনার ক্ষেত্রেও মেসির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও মেসির প্রভাব স্পষ্ট

বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। মেসি ১৮ ম্যাচের মধ্যে ছয়টি ম্যাচ খেলতে পারেননি। তবুও দল নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাছাইপর্বে আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন মেসি। অর্থাৎ সীমিত ম্যাচ খেলেও তিনি দলের সবচেয়ে কার্যকর ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

বিশ্বকাপ ছাড়াও তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি ফাইনালিসিমা জয় করেছে। ফলে বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের সাফল্যের পেছনে মেসির অবদান অনস্বীকার্য।

রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধন মেসি

এক সময় আর্জেন্টিনা মূলত আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত ছিল। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনেও ছিল আক্রমণভিত্তিক কৌশল। তবে স্কালোনির অধীনে দলটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন :  ব্রাজিলের বিশ্বকাপ সূচি প্রকাশ! কখন, কার সাথে ও কোথায় খেলবে সেলেসাও?

বর্তমান আর্জেন্টিনা দল রক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এই পরিকল্পনার সঙ্গে মেসি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন চমৎকারভাবে। আগের মতো শুধুমাত্র প্রতিপক্ষের বক্সের আশপাশে অবস্থান না করে তিনি এখন মাঝমাঠে নেমে এসে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেন।

নিজেদের অর্ধ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলা, পাসের ছন্দ তৈরি করা এবং সুযোগ সৃষ্টি—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। প্রয়োজনে রক্ষণভাগেও সহায়তা করেন। এর ফলে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের চাপ কিছুটা কম পড়ে এবং তিনি আরও কার্যকরভাবে আক্রমণ পরিচালনা করতে পারেন।

মাঠের বাইরেও প্রকৃত নেতা মেসি

লিওনেল মেসির নেতৃত্ব শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। দলের তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি সবসময় সতীর্থদের পাশে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ একাধিকবার বলেছেন যে মেসি দলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। এমনকি কোনো ম্যাচে খেলতে না পারলেও তিনি ভিডিও কলে দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন।

এই ধরনের নেতৃত্ব একটি দলের জন্য অমূল্য। কারণ বড় টুর্নামেন্টে মানসিক দৃঢ়তা অনেক সময় প্রতিভার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মেসি সেই মানসিক শক্তির অন্যতম উৎস।

আরও পড়ুন :  শাকিরার আগুন ঝলকানিতে বিশ্বকাপ ২০২৬ উদ্বোধন! মেক্সিকোতে উৎসব নাকি বিতর্ক?

শেষ বিশ্বকাপে স্মরণীয় কিছু উপহার দিতে প্রস্তুত

অনেকের ধারণা, এটিই হতে পারে মেসির শেষ বিশ্বকাপ। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তাই এই টুর্নামেন্টে মেসির প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি মুহূর্ত বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। ভক্তরা আশা করছেন, তিনি আবারও তাঁর জাদুকরী ফুটবল দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করবেন।

একই সঙ্গে দলকে উজ্জীবিত রাখা, কঠিন মুহূর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনে বাড়তি দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার কাজও চালিয়ে যাবেন তিনি। এটাই একজন প্রকৃত অধিনায়কের পরিচয়।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু

বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে প্রতিভাবান ফুটবলারের অভাব নেই। তবুও দলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম লিওনেল মেসি। তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব, ফুটবল বুদ্ধিমত্তা এবং জয়ের মানসিকতা আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শিরোপা রক্ষার কঠিন মিশনে এবারও তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকবেন কোচ স্কালোনি, সতীর্থ ফুটবলার এবং কোটি কোটি সমর্থক। কারণ মেসি মাঠে থাকলে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন আরও বড় হয়ে ওঠে। আর ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা জানেন, শেষ অধ্যায়টাও কীভাবে স্মরণীয় করে তুলতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ