Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeভাইরাল নিউজসম্পর্কে ভাঙনের আভাস? আমির খান বিতর্কে মুখ খুললেন ফারিয়াল মাখদুম!

সম্পর্কে ভাঙনের আভাস? আমির খান বিতর্কে মুখ খুললেন ফারিয়াল মাখদুম!

সাম্প্রতিক হাইকোর্টের নথি অনুযায়ী, আমির খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ভিডিও নিজে ধারণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে হুমকিও দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, তিনি আরও চার নারীর সঙ্গে অশোভন বার্তা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগে জড়িত ছিলেন।

ব্রিটিশ-পাকিস্তানি সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বক্সার আমির খানকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সম্প্রতি প্রকাশিত আদালতের নথিতে তার বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রহস্যময় ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট শেয়ার করেছেন তার স্ত্রী ফারিয়াল মাখদুম। এসব পোস্টকে অনেকেই চলমান বিতর্কের প্রতি তার নীরব প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

আমির খানের স্ত্রী ফারিয়াল মাখদুম ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে সম্পর্কে প্রতারণা, মানসিক আঘাত এবং বিশ্বাসভঙ্গের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তিন সন্তানের জননী ফারিয়াল একটি ভিডিও পুনরায় শেয়ার করেন, যেখানে মার্কিন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব খোলোয়ে কারদাশিয়ান নিজের প্রেমের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।

ভিডিওতে খোলোয়ে বলেন, জীবনে রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন, তবে সেই অভিজ্ঞতার জন্য তিনি লজ্জিত নন। বরং এসব অভিজ্ঞতা তাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ভালোবাসার প্রতি তার বিশ্বাস নষ্ট করতে পারেনি।

ফারিয়ালের এই পোস্ট অনেকের নজর কেড়েছে, কারণ এটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে যখন আমির খানকে ঘিরে নতুন অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

সাম্প্রতিক হাইকোর্টের নথি অনুযায়ী, আমির খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ভিডিও নিজে ধারণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে হুমকিও দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, তিনি আরও চার নারীর সঙ্গে অশোভন বার্তা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগে জড়িত ছিলেন।

এই অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরেই আমির খানের বিরুদ্ধে একাধিক সম্পর্ক এবং বিবাহবহির্ভূত যোগাযোগের গুঞ্জন ছিল। নতুন অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

ফারিয়াল সম্প্রতি একটি পুরোনো পোস্টও পুনরায় প্রকাশ করেছেন, যা ২০২৩ সালে আমির খান এবং ব্রাইডাল মডেল সুমাইরাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তৎকালীন অভিযোগে বলা হয়েছিল, আমির সুমাইরার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাকে জানিয়েছিলেন যে তার ও ফারিয়ালের সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়। এমনকি তিনি তাদের বিবাহকে ‘ব্যবসায়িক সমঝোতা’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি ওঠে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন আমির খান। তার দাবি ছিল, সুমাইরা নিজ থেকেই তাকে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি পাঠিয়েছিলেন।

২০২৩ সালের সেই বিতর্কের সময় ফারিয়াল একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় জনসমক্ষে আলোচনা করতে তিনি আগ্রহী নন।

তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে এবং তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযথা সমালোচনা করা হয়েছে। ফারিয়ালের মতে, তার বৈবাহিক সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি একান্তই তাদের পারিবারিক বিষয়।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতিটি তার জন্য যথেষ্ট অপমানজনক ছিল এবং অন্যদের সন্তুষ্ট করার জন্য তিনি নিজের বিবাহিত জীবনকে জনসমক্ষে প্রদর্শন করতে চান না।

ফারিয়াল দাবি করেন, সুমাইরা কখনোই এমন ধারণায় ছিলেন না যে আমির খান অবিবাহিত। বরং তিনি জানতেন যে আমির বিবাহিত এবং সন্তানসহ একটি পরিবার রয়েছে।

ফারিয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমাইরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করার আগে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সে সময় তিনি তাকে সতর্ক করেছিলেন যে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে উভয় পক্ষের জন্যই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কেউই প্রকৃত অর্থে বিজয়ী হয় না। বরং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সামাজিক সমালোচনা ও মানসিক চাপে পড়তে হয়।

নিজের বিবৃতিতে ফারিয়াল উল্লেখ করেন, একজন পরিচিত ব্যক্তির স্ত্রী হওয়ার কারণে তাকে নিয়মিত কটূক্তি ও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়।

তিনি বলেন, আমির ও সুমাইরা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই যোগাযোগের সময় কেউ তার মতামত বা অনুভূতির কথা ভাবেনি।

ফারিয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনার জন্য তাকে দায়ী করা অন্যায়। তিনি কেবল পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

ফারিয়াল স্বীকার করেন যে আমির খানের অতীত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে এবং তার ব্যক্তিগত জীবন বহুবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন একজন ব্যক্তির অতীত সম্পর্কে সবাই অবগত, তখন কেন অন্য কেউ জেনেশুনে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে জড়াবেন?

তার মতে, সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা সত্ত্বেও তার প্রধান দায়িত্ব সন্তানদের সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদেরকে এসব বিতর্ক থেকে দূরে রাখা।

বিতর্কের মাঝেই নিজের আচরণ নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন আমির খান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, অন্য নারীদের বার্তা পাঠানোর অভ্যাস বন্ধ করতে তার পেশাদার সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে থেরাপি নিতে তিনি প্রস্তুত। বর্তমান সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং কাউন্সেলিং মানুষের আচরণ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আমিরের ভাষায়, যদি থেরাপি তাকে ভুল সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে, তাহলে তিনি সেটি গ্রহণ করতে রাজি আছেন।

আমির খান স্বীকার করেছেন যে তার কর্মকাণ্ড পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানান, তার স্ত্রী ফারিয়াল এসব ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত ও হতাশ হয়েছিলেন।

এছাড়া তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে একদিন তার সন্তানরা বড় হয়ে এসব খবর পড়বে এবং ঘটনাগুলো তাদের কষ্ট দিতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ফারিয়াল মাখদুমের সাম্প্রতিক পোস্টগুলো অনেকের কাছে তার ব্যক্তিগত কষ্ট, হতাশা এবং সম্পর্কের জটিল বাস্তবতার এক নীরব প্রতিফলন হিসেবে ধরা পড়ছে। যদিও তিনি সরাসরি নতুন অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করেননি, তবে তার বার্তাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চলমান বিতর্ক তার ব্যক্তিগত জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।