খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলমাঠেই কান্না! ভয়াবহ ট্যাকলে ভেঙে গেল কোনের পা, উত্তেজনায় ফেটে পড়ল ম্যাচ

মাঠেই কান্না! ভয়াবহ ট্যাকলে ভেঙে গেল কোনের পা, উত্তেজনায় ফেটে পড়ল ম্যাচ

এই ম্যাচটা আমাদের একটা বড় শিক্ষা দেয়। ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়। এখানে মুহূর্তেই সব বদলে যেতে পারে। একদিকে গোলের উল্লাস, অন্যদিকে একজন খেলোয়াড়ের কষ্ট—সবকিছু মিলেই ফুটবল এত বাস্তব, এত আবেগময়।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন ম্যাচ খুব কমই দেখা যায় যেখানে একদিকে থাকে দুর্দান্ত জয়, আর অন্যদিকে গভীর শোক আর আতঙ্ক। কাতারের বিপক্ষে কানাডার ৬-০ গোলের বড় জয় ঠিক তেমনই একটি গল্প। স্কোরলাইনে সবকিছু একপাক্ষিক মনে হলেও, ম্যাচের মাঝখানে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পুরো পরিবেশটাই বদলে দেয়। আর সেই ঘটনাটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কানাডার তরুণ তারকা মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনে।

ম্যাচ তখন বেশ জমে উঠেছে। কানাডা এগিয়ে আছে, খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। ঠিক সেই সময় ৫১ মিনিটে কাতারের খেলোয়াড় আসিম মাদিবোর একটি বেপরোয়া ট্যাকল পুরো পরিস্থিতি উল্টে দেয়। পেছন থেকে করা এই চ্যালেঞ্জে কোনে হঠাৎ করেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ওই মুহূর্তটা কল্পনা করো—একজন খেলোয়াড় ব্যথায় ছটফট করছে, আর তার সতীর্থরা চারপাশে দাঁড়িয়ে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছে। কোনে নিজের বাম পা চেপে ধরে ছিলেন, আর তার মুখের অভিব্যক্তিই বলে দিচ্ছিল কতটা গুরুতর ব্যাপার ঘটেছে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কানাডার কোচ জেসি মার্শ যা বললেন, তা শুনে আরও শিউরে উঠতে হয়। তিনি জানান, ট্যাকলের মুহূর্তে তিনি স্পষ্টভাবে হাড় ভাঙার শব্দ শুনতে পেয়েছেন। একজন কোচ হিসেবে এটা তার জন্য শুধু পেশাগত ধাক্কা নয়, ব্যক্তিগতভাবেও খুব কষ্টের।

তিনি সরাসরি বলেন, দলের সবাই কোনের জন্য ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে এবং তিনি নিজেও দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান তার পাশে থাকার জন্য।

এই ঘটনার পর শুধু যে চিন্তা ছিল তা নয়, মাঠে তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা। কানাডার খেলোয়াড়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ডিফেন্ডার রিচি লারিয়া রাগে ফেটে পড়েন এবং মাদিবোর দিকে চিৎকার করতে থাকেন। পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যে দুই দলের বেঞ্চের মধ্যেও হাতাহাতির মতো অবস্থা তৈরি হয়।

এদিকে, রেফারি প্রথমে শুধু হলুদ কার্ড দেখান। এতে কানাডার কোচিং স্টাফ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে VAR দেখে সেই কার্ড লাল কার্ডে পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।

কোনের সতীর্থরা এই দৃশ্য দেখে ভেঙে পড়েন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোনাথন ডেভিড হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তরুণ ডিফেন্ডার লুক ডি ফোজেরোলস তো মাঠেই কেঁদে ফেলেন। গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো তাকে সান্ত্বনা দেন।

এই দৃশ্যগুলো দেখলে বোঝা যায়, ফুটবল শুধু খেলা নয়—এটা সম্পর্ক, আবেগ আর বন্ধুত্বেরও গল্প।

মেডিকেল টিম দ্রুত এসে কোনের পায়ে এয়ার কাস্ট লাগায়। তাকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত কষ্টের মধ্যেও তিনি দর্শকদের দিকে হাত নাড়েন।

স্টেডিয়ামের দর্শকরাও তার নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকে। এটা ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত—যেখানে একজন আহত খেলোয়াড় তার সাহস দিয়ে সবাইকে ছুঁয়ে যায়।

এই ঘটনার পরেও কানাডা তাদের খেলা থামায়নি। বরং আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কাইল লারিন প্রথম গোল করেন। এরপর জোনাথন ডেভিড একের পর এক গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।

নাথান সালিবা মাঠে নেমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন। তার একটি গোল তিনি উৎসর্গ করেন কোনেকে। গোল করার পর তিনি বেঞ্চ থেকে “কোন ৮” লেখা জার্সি নিয়ে দর্শকদের দেখান। এই দৃশ্যটা ছিল সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।

কাতারের জন্য দিনটা ছিল আরও কঠিন। প্রথমার্ধেই একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। পরে মাদিবোও লাল কার্ড পান। ফলে দলটি ৯ জনে নেমে আসে।

এত কম খেলোয়াড় নিয়ে শক্তিশালী কানাডার বিপক্ষে লড়াই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাদের রক্ষণভাগ বারবার ভেঙে পড়ে এবং গোলের সংখ্যা বাড়তেই থাকে।

শেষ বাঁশি বাজার পরেও উত্তেজনা থামেনি। কানাডার কোচ জেসি মার্শ এবং কাতারের কোচ জুলেন লোপেতেগুইয়ের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। করমর্দনের সময় কিছু কথা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয় বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্শ স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং হাত নেড়ে প্রতিক্রিয়া দেখান। তবে পরে তিনি জানান, মাদিবো ব্যক্তিগতভাবে কোনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তিনি মনে করেন না এটি ইচ্ছাকৃত ছিল।

৬-০ গোলের জয় নিঃসন্দেহে কানাডার জন্য ঐতিহাসিক। কিন্তু এই জয়ের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে কোনের চোটে। তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন।

বিশ্বকাপের শুরুতেই তার এমন চোট পাওয়া মানে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনা। এটা দলের জন্য বড় ধাক্কা।

এখন কানাডার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ। গ্রুপ ‘বি’-তে শীর্ষস্থান নির্ধারণে এই ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুই দলেরই পয়েন্ট সমান।

একটি ড্র হলেও কানাডা গ্রুপের শীর্ষে থাকতে পারে। কিন্তু দলের ভেতরের মানসিক অবস্থা কেমন থাকবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এই ম্যাচটা আমাদের একটা বড় শিক্ষা দেয়। ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়। এখানে মুহূর্তেই সব বদলে যেতে পারে। একদিকে গোলের উল্লাস, অন্যদিকে একজন খেলোয়াড়ের কষ্ট—সবকিছু মিলেই ফুটবল এত বাস্তব, এত আবেগময়।

ইসমাইল কোনের দ্রুত সুস্থতা এখন সবার একটাই আশা। কারণ মাঠে তার মতো খেলোয়াড় শুধু স্কোরবোর্ড বদলায় না, পুরো দলের প্রাণ হয়ে ওঠে।