খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeবিশ্ব সংবাদইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

ইরানে রাতভর মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডন ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি কুয়েতেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে

আন্তর্জাতিক ডেক্স : মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা চরমে উঠেছে। মঙ্গলবার রাতভর ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাবে জর্ডন, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এই সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো শান্তি আলোচনা বা চুক্তিতে যাওয়ার আগ্রহও নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী ঘিরে সংঘাত আরও বাড়লে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক এলাকায় আকাশ পথে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

তবে হামলার সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায়। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন চলাকালে একটি মিসাইল আঘাত হানে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬৫ জন। বিয়ের আনন্দের মুহূর্তে এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন :  ১৫ আগস্ট লালকেল্লায় ওঠেনি পতাকা! কোথায় হয়েছিল স্বাধীন ভারতের প্রথম তেরঙ্গা উত্তোলন?

ইরান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক মানুষের উপস্থিতিতে একটি বিয়েবাড়িতে হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানে রাতভর মার্কিন বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। জর্ডন ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি কুয়েতেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব হামলায় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন মিত্র এবং সামরিক স্থাপনাগুলোও সংঘাতের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে।

ইরানে হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে শক্ত অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের দাবি, হরমুজ প্রণালীর প্রায় পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনাও কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্যের অর্থ হলো, ইরান কোনো চুক্তিতে সই করল কি না, সেটিকে এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন না তিনি।

আরও পড়ুন :  নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশি নিহত, দ্রুত মরদেহ ফেরানোর আশ্বাস

এর পাশাপাশি ইরানের সাধারণ জনগণের প্রতিও বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনগণের আরও সক্রিয় হওয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর জন্য এই জলপথ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করে।

তাই হরমুজ প্রণালীতে সামরিক সংঘাত শুরু হলে শুধু ওই অঞ্চলের দেশগুলো নয়, এর প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বে। জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে। আর সরবরাহে সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে সেই আশঙ্কাই আবার সামনে এসেছে। হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ঘিরে হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির খবর পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা রয়েছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যেও ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।

তবে ইরান প্রতিবারই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতা এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী।

আরও পড়ুন :  মেসি-রোনাল্ডোর সঙ্গে তুলনা! এমবাপের রেকর্ড ভেঙে কী বললেন হ্যারি কেন?

বাস্তব পরিস্থিতিতেও এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ট্রাম্পের দাবি এবং ইরানের পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে বাস্তব নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ইরানে মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করে। তাই এই অঞ্চলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু তেলের দাম নয়, পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

অর্থাৎ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন আর কেবল সামরিক বা আঞ্চলিক সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যেও পড়তে শুরু করেছে।

সিরিক এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে মিসাইল হামলার ঘটনা ইরানের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলে তেহরান এর কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছে দেশটি।

এতে বোঝা যাচ্ছে, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত লড়াইও আরও তীব্র হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ