আন্তর্জাতিক ডেক্স : নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে ৯৮৭ জনের মরদেহ। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানিয়েছে নেপালের বিপর্যয় দফতর। এদিকে নুয়াকোট জেলার একটি বাড়ি থেকে একসঙ্গে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নুয়াকোট জেলার বেত্রবন্তী এলাকায় একটি বাড়ি থেকে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার বিপিন রেগমি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটির মালিকের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে একই বাড়িতে এত মানুষের মরদেহ কীভাবে পাওয়া গেল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তাঁরা বাড়িটির বাসিন্দা ছিলেন, নাকি বিপর্যয়ের সময় প্রাণ বাঁচাতে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নুয়াকোটের পাশাপাশি রসুয়া জেলাতেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার উত্তরগয়া এলাকায় প্রায় ৩৫০ জন স্কুলপড়ুয়া নিখোঁজ রয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার হওয়া অশনাক্ত মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো দাফনের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালের বিপর্যয় দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮৭ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।
এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কাদা, পানির স্রোত ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
ভারত সরকারও নেপালে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে সহায়তা করছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপাল থেকে ১৫৮ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদসংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে, ইউরোপের কোপারনিকাস অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী উপত্যকায় ২ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
উপত্যকার তিমুর, স্যাব্রুবেসী ও বিদুর এলাকায় প্রায় ৬ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর এসব এলাকায় এখন শুধুই ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে।
নেপাল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী নদীর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪২ জন প্রকৌশলী আটকে রয়েছেন। একই এলাকায় আরেকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ১১৮ জন প্রকৌশলীকেও এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বিপর্যয়ের পর বিভিন্ন এলাকায় মৃতদেহ, ধ্বংসস্তূপ ও জমে থাকা পানির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ফলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি সম্ভাব্য মহামারি ঠেকানোও এখন নেপাল প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। হঠাৎ সৃষ্ট হড়পা বানে বহু গ্রাম তছনছ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও পুরো গ্রামের অস্তিত্বই মুছে গেছে।
তথ্য সূত্র: আনন্দবাজার


