খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের দাপট, চাপে আর্জেন্টিনা: বিরতিতে জমজমাট শো আর স্কালোনির কৌশল...

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের দাপট, চাপে আর্জেন্টিনা: বিরতিতে জমজমাট শো আর স্কালোনির কৌশল বদল

এই ধরনের ম্যাচে একটা ছোট ভুলই সব বদলে দিতে পারে। যদি আর্জেন্টিনা হঠাৎ কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে ম্যাচে ফিরে আসা সম্ভব। কিন্তু সেই সুযোগ তৈরি করাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই উত্তেজনা, নার্ভাস মুহূর্ত আর ইতিহাস গড়ার লড়াই। এই ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মাঠে একদিকে দারুণ ছন্দে থাকা স্পেন, অন্যদিকে টিকে থাকার লড়াইয়ে মরিয়া আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধ থেকেই খেলার ছবি পরিষ্কার—স্পেন আক্রমণে আগুন, আর আর্জেন্টিনা যেন কোনোভাবে নিজেদের গোল বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

খেলা শুরু হতেই স্পেন বুঝিয়ে দেয় তারা কেন এই ফাইনালে এসেছে। বলের দখল, পাসিং, গতি—সবকিছুতেই তারা এগিয়ে। বিশেষ করে তরুণ তারকা ইয়ামাল আর কুকুরেয়ারা যেন মাঠে ঝড় তুলছিলেন। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের বারবার কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তারা।

আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। নিজেদের অর্ধে আটকে থেকে শুধু বল ক্লিয়ার করাই যেন তাদের মূল কাজ হয়ে দাঁড়ায়। মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও তা ঠিকভাবে গড়ে উঠছিল না। স্পেনের গোলরক্ষক সিমন প্রায় দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন, কারণ আর্জেন্টিনা একবারও ঠিকঠাক শট নিতে পারেনি।

এই ম্যাচে সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় ছিল আর্জেন্টিনার অগোছালো ফুটবল। দলটির খেলায় কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা চোখে পড়ছিল না। যেন সবাই আলাদা আলাদা ভাবে খেলছে, একসাথে নয়।

Lionel Messi—যাকে ঘিরে পুরো দলের আশা, তাকেও দেখা গেল ছন্দহীন। তিনি সামনে বল পাচ্ছিলেন না। ফলে মাঝমাঠ পেরিয়ে নিজেই রক্ষণে নেমে আসছিলেন বল কন্ট্রোল করার জন্য। ভাবো তো, একজন ফরোয়ার্ডকে যদি বারবার ডিফেন্সে নামতে হয়, তাহলে দলের আক্রমণ কেমন হবে!

আরও পড়ুন :  "দখল করা ব্যাংক বেদখল হবেই! সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়"

স্পেন যদি প্রথমার্ধে গোল করতে না পারে, তার বড় কারণ আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক মার্তিনেজ। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে তিনি দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

একবার নয়, কয়েকবার নিশ্চিত গোল থেকে দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি। না হলে হয়তো প্রথমার্ধেই ম্যাচের রং বদলে যেত। কিন্তু শুধু গোলরক্ষক ভালো খেললেই তো হবে না, পুরো দলকে একসাথে পারফর্ম করতে হয়—সেটাই হচ্ছিল না আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে।

ম্যাচের মাঝেই আর্জেন্টিনার জন্য আসে আরেকটা বড় ধাক্কা। রক্ষণের অন্যতম ভরসা লিসান্দ্রো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। স্পেনের দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে তার হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা দেখা দেয়।

তার জায়গায় নামানো হয় অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডিকে। অভিজ্ঞতা থাকলেও বয়সের কারণে তার গতি কম, যা স্পেনের তরুণ আক্রমণভাগের বিপক্ষে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এতে করে আর্জেন্টিনার রক্ষণ আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই পরিষ্কার হয়ে যায়—এইভাবে খেললে আর্জেন্টিনার পক্ষে ম্যাচ জেতা কঠিন। কোচ স্কালোনির সামনে তখন একটাই কাজ—কৌশল বদলানো।

Lionel Scaloni বুঝতে পারছিলেন, শুধু ডিফেন্স করে স্পেনকে ঠেকানো যাবে না। দলের মধ্যে নতুন শক্তি আর ভারসাম্য আনতে হবে।

এই ফাইনালের আরেকটা বড় আকর্ষণ ছিল বিরতির আয়োজন। সাধারণত ১৫ মিনিটের বিরতি হলেও, এই ম্যাচে তা বাড়িয়ে ৩০ মিনিট করা হয়।

আর সেই সময়টায় মাঠ যেন একেবারে কনসার্টে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন :  মেসিকে ছুঁতে গিয়ে সতর্কবার্তা! কাবো ভার্দের লোপেজকে কী বলেছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক?

Shakira তার জনপ্রিয় গান দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন।
Justin Bieber পারফরম্যান্সে যোগ করেন আলাদা মাত্রা।
আর কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড BTS স্টেজে উঠতেই পুরো স্টেডিয়াম যেন কাঁপতে থাকে।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি—Ronaldo এবং Ronaldinho। তারাও দর্শকদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন। ফুটবলের চাপের মাঝেও এই বিরতি যেন একদম অন্যরকম আনন্দ এনে দেয়।

বিরতির সময় স্কালোনি বড় সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিকো গঞ্জালেজকে তুলে নিয়ে লিয়োনার্দো পারেদেসকে নামান। উদ্দেশ্য একটাই—মাঝমাঠে শক্তি বাড়ানো এবং স্পেনের আক্রমণ ভাঙা।

এই পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়, আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধে আরও লড়াকু ফুটবল খেলতে চাইছে। শুধু রক্ষণ নয়, মাঝমাঠ দখল করাও তাদের লক্ষ্য।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আর্জেন্টিনার খেলার ধরনে পরিবর্তন দেখা যায়। তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি শারীরিক ফুটবল খেলতে শুরু করে। বারবার ফাউল করে স্পেনের ছন্দ ভাঙার চেষ্টা করে।

এই আগ্রাসনের ফলেই পারেদেস মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই হলুদ কার্ড দেখেন। তবুও আর্জেন্টিনা থামেনি। তাদের লক্ষ্য ছিল স্পেনকে সহজে খেলতে না দেওয়া।

কিন্তু সমস্যা হল—শুধু ফাউল করে বড় দলকে থামানো যায় না। স্পেন আবারও নিজেদের ছন্দে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই দৃশ্য—মেসি সামনে বল পাচ্ছেন না। ফলে তাকে আবারও ডিফেন্সে নামতে হচ্ছে। একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় যখন বারবার রক্ষণে নেমে আসে, তখন বুঝতে হবে দল ঠিকমতো খেলতে পারছে না।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা: শৈশবের স্মৃতি, পরিবার আর আবেগে গাঁথা এক বাঙালির গল্প

এটা যেন এমন—তুমি যদি দোকানে গিয়ে কিছু কিনতে চাও, কিন্তু দোকানদারই না থাকে, তাহলে কীভাবে কেনাকাটা করবে? ঠিক তেমনই, মেসি সামনে বল না পেলে গোলের সুযোগ তৈরি হবে কীভাবে?

স্পেন কিন্তু একটুও থামেনি। তারা একইভাবে আক্রমণ চালিয়ে গেছে। দ্রুত পাস, জায়গা তৈরি, উইং দিয়ে উঠে আসা—সব মিলিয়ে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রেখেছে।

আর্জেন্টিনা শুধু টিকে থাকার চেষ্টা করছে, আর স্পেন জয়ের জন্য খেলছে—এই পার্থক্যটাই মাঠে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে।

এই ধরনের ম্যাচে একটা ছোট ভুলই সব বদলে দিতে পারে। যদি আর্জেন্টিনা হঠাৎ কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে ম্যাচে ফিরে আসা সম্ভব। কিন্তু সেই সুযোগ তৈরি করাই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে, স্পেন যদি তাদের ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তাহলে গোল পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এই ফাইনাল শুধু একটা ম্যাচ নয়, এটা ছিল কৌশল, ধৈর্য আর মানসিক শক্তির পরীক্ষা। স্পেন যেখানে নিজেদের পরিকল্পনা মেনে খেলেছে, সেখানে আর্জেন্টিনা বারবার সমস্যায় পড়েছে।

তবে ফুটবল এমনই একটা খেলা—শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই বলা যায় না। এক মুহূর্তেই সব বদলে যেতে পারে।

এখন দেখার, স্কালোনির বদলানো কৌশল কতটা কাজে লাগে, আর মেসির দল কি সত্যিই ঘুরে দাঁড়াতে পারে—নাকি স্পেনই শেষ পর্যন্ত ট্রফি তুলে নেয়।