খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের তাণ্ডব! মেসি নিষ্প্রভ, প্রথমার্ধে কোনোমতে বেঁচে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের তাণ্ডব! মেসি নিষ্প্রভ, প্রথমার্ধে কোনোমতে বেঁচে আর্জেন্টিনা

প্রথম ২০ মিনিটে মেসি মাত্র দু'বার বল স্পর্শ করার সুযোগ পান। একটি ছিল ম্যাচের কিক-অফে, আর অন্যটি মাঝমাঠে। দ্বিতীয়বার বল পেতেই দ্রুত ফাউলের শিকার হন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর কাছে বলই পৌঁছায়নি।

বিশ্বকাপের ফাইনালে দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াই ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্ধে মাঠের ছবিটা ছিল একেবারেই একপেশে। শুরু থেকেই বলের দখল, পাসিং, গতি এবং আক্রমণে স্পেন এমন আধিপত্য দেখায় যে আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সময় নিজেদের অর্ধেই আটকে থাকতে হয়। লিওনেল মেসিকে কার্যত ম্যাচ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে স্পেনের রক্ষণভাগ, আর সেই সুযোগে একের পর এক আক্রমণে চাপে ফেলে আলবিসেলেস্তেদের।

যদিও প্রথম ৪৫ মিনিট শেষে স্কোরলাইন গোলশূন্য, তবু মাঠের খেলা স্পষ্ট করে দিয়েছে—দ্বিতীয়ার্ধে পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন না আনলে আর্জেন্টিনার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

স্কোরবোর্ডে গোল না থাকলেও প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পাওয়ার কথা আর্জেন্টিনারই। কারণ স্পেন একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ কয়েকটি অসাধারণ সেভ না করলে বিরতির আগেই ম্যাচের ফল অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে যেতে পারত।

রক্ষণে বারবার চাপ সামলে কোনও রকমে প্রথমার্ধ পার করেছে স্কালোনির দল। তবে শুধুমাত্র ডিফেন্স করে পুরো ম্যাচ টিকে থাকা সম্ভব নয়। বিরতির সময় কোচ লিওনেল স্কালোনিকে কৌশল বদলের কথা অবশ্যই ভাবতে হবে।

প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের চোটে। স্পেনের দ্রুতগতির আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টিনার এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপে ‘আসল’ স্পেনের প্রত্যাবর্তন! ইয়ামালের গোল, সৌদির দুঃস্বপ্ন

তাঁর জায়গায় নামেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওটামেন্ডি। অভিজ্ঞতার দিক থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বয়সের কারণে আগের মতো গতি নেই। অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল ও স্পেনের তরুণ আক্রমণভাগের দ্রুত গতির সামনে ওটামেন্ডির জন্য কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের পরিচিত ছোট ছোট পাসের ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তারা ছিল অনেক বেশি সংগঠিত। প্রতিটি আক্রমণেই ছিল পরিকল্পনার ছাপ।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বারবার বল হারিয়েছে। বল পুনরুদ্ধার করলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আবার তা প্রতিপক্ষের দখলে চলে গেছে। ফলে পুরো প্রথমার্ধে কার্যত স্পেনই ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরেই সাধারণত আর্জেন্টিনার আক্রমণ সাজানো হয়। কিন্তু এই ম্যাচে স্পেন শুরু থেকেই তাঁকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে নামে।

প্রথম ২০ মিনিটে মেসি মাত্র দু’বার বল স্পর্শ করার সুযোগ পান। একটি ছিল ম্যাচের কিক-অফে, আর অন্যটি মাঝমাঠে। দ্বিতীয়বার বল পেতেই দ্রুত ফাউলের শিকার হন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর কাছে বলই পৌঁছায়নি।

আরও পড়ুন :  হাওড়া স্টেশনে গড়ে উঠতে পারে আন্তর্জাতিক মানের বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনাল, রেলমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের প্রস্তাব

মেসিকে বল থেকে দূরে রাখতে পারায় আর্জেন্টিনার আক্রমণও কার্যত ভেঙে পড়ে। দলের অন্য ফুটবলাররাও সামনে উঠে কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেননি।

প্রথম ৩৫ মিনিটে স্পেনের গোলমুখে একটি কার্যকর শটও নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। গোলরক্ষক উনাই সিমনকে বিশেষ কোনও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।

মাঝেমধ্যে পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও তা দ্রুত থেমে যায়। মাঝমাঠে বল ধরে রাখা, সঠিক পাস দেওয়া কিংবা আক্রমণের শেষ ধাপে পৌঁছানো—কোনও ক্ষেত্রেই সফল হতে পারেনি স্কালোনির শিষ্যরা।

স্পেনের দ্রুত পাসিং এবং অফ দ্য বল মুভমেন্ট আর্জেন্টিনার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। বল কেড়ে নেওয়ার সুযোগ না পেয়ে ম্যাক অ্যালিস্টার, ডি পলসহ একাধিক ফুটবলারকে মাঝেমধ্যেই ফাউল করতে দেখা যায়।

এই ফাউলগুলো স্পেনের আক্রমণের ছন্দ পুরোপুরি ভাঙতে পারেনি। বরং তারা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বল দখলে রেখে আক্রমণ চালিয়ে গেছে।

স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল আবারও নিজের অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। তাঁর ড্রিবলিং, গতি এবং সৃজনশীল পাস আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে বারবার বিপদে ফেলেছে।

আরও পড়ুন :  ফ্রান্সের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে দুশ্চিন্তা, এমবাপের চোট ও পেনাল্টি মিসে বাড়ল চাপ

শুধু ইয়ামালই নন, স্পেনের অন্য আক্রমণভাগের ফুটবলাররাও দারুণ সমন্বয়ে খেলেছেন। ফলে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের পুরো সময় সতর্ক থাকতে হয়েছে।

প্রথমার্ধের পর আর্জেন্টিনার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা। মেসির কাছে আরও বেশি বল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উইং ব্যবহার করে আক্রমণ বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে রক্ষণভাগকে আরও সংগঠিত থাকতে হবে। কারণ স্পেন যেভাবে সুযোগ তৈরি করছে, সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দ্বিতীয়ার্ধে গোল পাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা হতে পারে।

প্রথমার্ধে স্পেন স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও স্কোরলাইন এখনও সমতায় রয়েছে। তাই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি আর্জেন্টিনার।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে যদি একই ধরনের ফুটবল চলতে থাকে, তাহলে স্পেনের চাপ সামলানো কঠিন হবে। অন্যদিকে স্কালোনি যদি সঠিক পরিবর্তন আনতে পারেন এবং মেসিকে আরও সক্রিয় করতে সক্ষম হন, তাহলে ফাইনালের এই লড়াই নতুন মোড়ও নিতে পারে।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে একটি মুহূর্তই পুরো ম্যাচ বদলে দিতে পারে। তাই প্রথমার্ধে স্পেনের আধিপত্য থাকলেও শেষ হাসি কে হাসবে, সেই উত্তর লুকিয়ে রয়েছে পরের ৪৫ মিনিটের লড়াইয়ে।

আর্কাইভ