খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলFIFA World Cup Trophy-এর আসল রহস্য! ৬,১৭৫ গ্রাম সোনা আর কোটি টাকার...

FIFA World Cup Trophy-এর আসল রহস্য! ৬,১৭৫ গ্রাম সোনা আর কোটি টাকার ইতিহাস

ইতালির শিল্পী সিলভিও গাজানিগা এই ট্রফির নকশা তৈরি করেন। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে এই ট্রফি বিজয়ী দলের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মূল্যবান ও পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত হতে যাওয়া এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রতীক—ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ গৌরবের প্রতীক। বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা এই ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই, এই ট্রফি তৈরিতে কতটা সোনা ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর প্রকৃত মূল্য কত।

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির ইতিহাস

বর্তমানে ব্যবহৃত ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা ১৯৭০-এর দশকে তৈরি করা হয়। ব্রাজিল তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জেতার পর পুরনো জুলে রিমে ট্রফি স্থায়ীভাবে তাদের হাতে চলে যায়। এরপর ফিফা নতুন একটি ট্রফি তৈরির উদ্যোগ নেয়।

ইতালির শিল্পী সিলভিও গাজানিগা এই ট্রফির নকশা তৈরি করেন। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে এই ট্রফি বিজয়ী দলের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মূল্যবান ও পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন :  ‘আমরাই বিশ্বের সেরা দল’! ফাইনালে আর্জেন্টিনাকেই চান স্পেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে

কত সোনা রয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফিতে?

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির উচ্চতা প্রায় ৩৭ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ১৩ সেন্টিমিটার। এর মোট ওজন প্রায় ৬.১ কেজি। ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি এবং এতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৬,১৭৫ গ্রাম খাঁটি সোনা।

বাংলাদেশি হিসেবে হিসাব করলে এটি প্রায় ৬১৭ ভরি ৫ গ্রাম সোনার সমপরিমাণ। বর্তমান বাজারদরে এই বিপুল পরিমাণ সোনার মূল্য কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে ট্রফিটির প্রকৃত মূল্য শুধু ব্যবহৃত সোনার ওপর নির্ভর করে না। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক মর্যাদা এবং প্রতীকী মূল্য বিবেচনায় এটি অমূল্য বললেই চলে।

ট্রফির নকশার পেছনের অর্থ

বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রফির গায়ে দেখা যায়, দু’জন মানব আকৃতি তাদের মাথার উপরে পৃথিবীকে তুলে ধরেছে। এই নকশা ফুটবলের বিশ্বজনীনতা এবং বিশ্বব্যাপী মানুষের ঐক্যকে তুলে ধরে।

ফুটবল যে একটি বৈশ্বিক ভাষা, যা জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির সীমা অতিক্রম করে মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে, সেই বার্তাই বহন করে এই অনন্য নকশা।

আরও পড়ুন :  মেসিকে ‘ব্যথার নাটকবাজ’ বললেন গওহর খান! মিশরের অভিযোগে নতুন বিতর্ক

পুরো ট্রফি কি সোনা দিয়ে তৈরি?

অনেকেই মনে করেন, ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি সম্পূর্ণ কঠিন সোনা দিয়ে তৈরি। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়।

ট্রফির বাইরের অংশে সোনা ব্যবহার করা হলেও এর ভেতরের অংশ ফাঁপা রাখা হয়েছে। যদি পুরো ট্রফিটি কঠিন সোনা দিয়ে তৈরি করা হতো, তাহলে এর ওজন অনেক বেশি হয়ে যেত। সে ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের পক্ষে ট্রফিটি বহন করা কঠিন হয়ে পড়ত।

এই কারণেই ট্রফির নকশায় এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে যাতে এটি দেখতে আকর্ষণীয়, মূল্যবান এবং একই সঙ্গে ব্যবহার উপযোগী থাকে।

ম্যালাকাইট পাথরের বিশেষ ব্যবহার

বিশ্বকাপ ট্রফির নিচের অংশে রয়েছে সবুজ রঙের মূল্যবান খনিজ পাথর ম্যালাকাইটের দুটি স্তর। এই পাথর ট্রফির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ম্যালাকাইট শুধু অলংকারমূলক উপাদান নয়, এটি ট্রফির নকশাকে আরও ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় করে তুলেছে। সোনালি রঙের সঙ্গে সবুজ ম্যালাকাইটের সমন্বয় ট্রফিটিকে দিয়েছে অনন্য আভিজাত্য।

বিশ্বকাপ ট্রফির প্রকৃত মূল্য কত?

শুধু ব্যবহৃত সোনার বাজারমূল্য হিসাব করলেও ট্রফিটির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপ ট্রফির আসল মূল্য অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন :  ইসলামের নবী প্রথম কোন পশু কোরবানি করেছিলেন?

কারণ এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রতীক। কোটি কোটি দর্শকের আবেগ, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং গৌরব এই ট্রফির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই এর আর্থিক মূল্যের চেয়ে প্রতীকী মূল্য অনেক বেশি।

কেন এত আকর্ষণের কেন্দ্র বিশ্বকাপ ট্রফি?

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু একটি সোনার তৈরি বস্তু নয়। এটি ফুটবলারদের আজীবনের স্বপ্ন, একটি দেশের গর্ব এবং কোটি ভক্তের আবেগের প্রতীক।

প্রতি চার বছর পর বিশ্বের সেরা দল যখন এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে, তখন সেটি শুধু একটি শিরোপা জয় নয়, বরং ইতিহাসের অংশ হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। সেই কারণেই বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মানুষের আগ্রহ কখনও কমে না।

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা বাড়ছে, তখন এই সোনালি ট্রফিও আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ৬,১৭৫ গ্রাম সোনা, অনন্য নকশা এবং অমূল্য মর্যাদার কারণে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নিঃসন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ক্রীড়া পুরস্কারগুলোর একটি।