Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeভাইরাল নিউজ৩৯ সপ্তাহের গর্ভবতী, তবুও কঠিন কসরত! ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল বিতর্ক

৩৯ সপ্তাহের গর্ভবতী, তবুও কঠিন কসরত! ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তুমুল বিতর্ক

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখি, অনেকেই তা অনুসরণ করতে চান। ধরো, কেউ যদি এই ভিডিও দেখে ভাবেন—“আমি তো পারব”—তাহলেই সমস্যা। কারণ, প্রত্যেকের শরীরের ক্ষমতা এক নয়।

বর্তমান সময়ের সোশ্যাল মিডিয়া যেন এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতার জায়গা। কে কতটা নজর কাড়তে পারছে, সেটাই যেন বড় কথা। আর সেই চেষ্টাতেই অনেক সময় মানুষ এমন কিছু করে বসে, যা দেখে অবাক হয়ে যেতে হয়। সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও ঘিরে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণী কঠিন ধরনের যোগাসন ও শরীরচর্চা করছেন। এই দৃশ্য দেখে কেউ প্রশংসা করছেন, আবার কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

ভিডিওটি প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, এরপর দ্রুত তা ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়, উজ্জ্বল সবুজ শাড়ি পরা এক তরুণী অনায়াসে বিভিন্ন যোগাসন করছেন। বিশেষ করে চক্রাসনের মতো কঠিন আসন করতে দেখা যায় তাকে। তার শরীরের নমনীয়তা এবং নিয়ন্ত্রণ দেখে অনেকেই মুগ্ধ হয়েছেন।

তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই তরুণী ৩৯ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা, অর্থাৎ গর্ভাবস্থার একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। এমন অবস্থায় এই ধরনের কঠিন শরীরচর্চা অনেকের কাছেই অবাক করার মতো।

সাধারণভাবে চিকিৎসকেরা গর্ভাবস্থায় হালকা ব্যায়াম বা নির্দিষ্ট কিছু যোগাসনের পরামর্শ দেন। এতে শরীর ফিট থাকে, মানসিক চাপ কমে এবং প্রসবের সময়ও কিছুটা সুবিধা হয়। যেমন—হালকা হাঁটা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা সহজ কিছু স্ট্রেচিং।

কিন্তু এখানে প্রশ্ন উঠছে—এই ধরনের জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ আসন কি সত্যিই নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় শরীর অনেক সংবেদনশীল থাকে। সামান্য ভারসাম্য হারালেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে শেষের দিকে, যখন শিশুর ওজন বেশি থাকে, তখন এমন কসরত ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ভিডিওর ক্যাপশন থেকে জানা গেছে, ওই তরুণী পেশায় একজন যোগ প্রশিক্ষক। অর্থাৎ, তার শরীর এই ধরনের ব্যায়ামের সঙ্গে অনেক দিন ধরেই অভ্যস্ত। এটা একটা বড় বিষয়। কারণ, একজন সাধারণ মানুষের জন্য যা কঠিন, একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তির কাছে তা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে—প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা। তাই কারও দেখাদেখি এমন কিছু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদল মানুষ তরুণীর আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, তিনি প্রমাণ করেছেন যে গর্ভাবস্থা মানেই অসুস্থতা নয়, বরং সঠিকভাবে থাকলে শরীর অনেক কিছু করতে পারে।

কিন্তু অন্যদিকে অনেকেই এই কাজকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করছেন। তাদের যুক্তি খুবই সহজ—একটু ভুল হলেই বড় বিপদ হতে পারত। শুধু মায়ের জন্য নয়, গর্ভের সন্তানের জন্যও এটা ঝুঁকিপূর্ণ।

একজন নেটিজেন লিখেছেন, “দেখতে ভালো লাগছে ঠিকই, কিন্তু এটা নকল করতে গেলে বিপদ হতে পারে।” এই কথাটাই আসলে অনেকের মনের ভাব প্রকাশ করছে।

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখি, অনেকেই তা অনুসরণ করতে চান। ধরো, কেউ যদি এই ভিডিও দেখে ভাবেন—“আমি তো পারব”—তাহলেই সমস্যা। কারণ, প্রত্যেকের শরীরের ক্ষমতা এক নয়।

বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টা আরও সংবেদনশীল। ভুলভাবে ব্যায়াম করলে পড়ে যাওয়া, পেশিতে টান ধরা বা আরও গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা সাধারণত কিছু বিষয় মাথায় রাখতে বলেন:

প্রথমত, গর্ভাবস্থায় নতুন কোনো কঠিন ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়।
দ্বিতীয়ত, আগে থেকে অভ্যাস থাকলেও সেটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত রাখতে হবে।
তৃতীয়ত, শরীরের কোনো অস্বস্তি বা ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে।

সহজভাবে বললে, নিজের শরীরের কথা শোনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ধরো, তুমি আগে কখনও দৌড়াওনি। হঠাৎ একদিন ম্যারাথনে নামলে কী হবে? শরীর সেটা নিতে পারবে না। একইভাবে, গর্ভাবস্থায় হঠাৎ কঠিন যোগাসন করলে শরীরের ওপর চাপ পড়ে।

কিন্তু যদি তুমি অনেক দিন ধরে নিয়মিত অনুশীলন করে থাকো, তাহলে সেটা অন্য ব্যাপার। তবুও সতর্কতা জরুরি।

এই ভাইরাল ভিডিও আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেয়—সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখি, সবকিছু আমাদের জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা, পরিস্থিতি আলাদা।

গর্ভাবস্থা একটা খুব সংবেদনশীল সময়। এখানে সামান্য অসাবধানতাও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই অন্যের দেখে কিছু করার আগে একটু ভেবে নেওয়া দরকার।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ওই তরুণীর দক্ষতা প্রশংসনীয় হলেও, এই ধরনের কাজ সবার জন্য নিরাপদ নয়। সচেতনতা, পরামর্শ আর নিজের সীমা বোঝাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।