Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_img
Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিঅ্যাপল গ্যাজেটসঅ্যাপল আসলে কত আয় করে? অ্যাপ স্টোরের লুকানো সত্য জানলে অবাক হবে!

অ্যাপল আসলে কত আয় করে? অ্যাপ স্টোরের লুকানো সত্য জানলে অবাক হবে!

মানে কী দাঁড়ালো? বেশিরভাগ টাকা সরাসরি ডেভেলপারদের পকেটে যায়। ধরো, তুমি কোনো অ্যাপ থেকে কিছু কিনলে—সব টাকা অ্যাপলের কাছে যায় না, বরং অনেক সময় ডেভেলপারই বেশিরভাগ অংশ পেয়ে যায়।

অ্যাপ স্টোরের বিস্ময়কর উত্থান: ২০২৫ সালে নতুন রেকর্ড

২০২৫ সালে অ্যাপ স্টোর ইকোসিস্টেম এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। এই বছরে ডেভেলপারদের মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় $১.৪ ট্রিলিয়ন। ভাবতে পারো? এটা অনেক দেশের মোট অর্থনীতির থেকেও বেশি!

অ্যাপল প্রতি বছর তাদের অ্যাপ স্টোরের পারফরম্যান্স নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় অ্যাপ স্টোর ইকোসিস্টেম এখন তিনগুণ বড় হয়ে গেছে। অর্থাৎ খুব অল্প সময়েই এই প্ল্যাটফর্ম ডেভেলপারদের জন্য বিশাল আয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে।

অ্যাপলের সিইও টিম কুক বলছেন, ডেভেলপাররাই অ্যাপ স্টোরের প্রাণ। তাদের সৃজনশীলতাই এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

অ্যাপলের আসল আয় কত? একটু ভেবে দেখো

এখানে একটা মজার ব্যাপার আছে। $১.৪ ট্রিলিয়ন আয়ের কথা বলা হলেও, অ্যাপল এই পুরো টাকার মালিক না। বাস্তবে তারা এই আয়ের মাত্র প্রায় ১০% কমিশন হিসেবে পায়।

মানে কী দাঁড়ালো? বেশিরভাগ টাকা সরাসরি ডেভেলপারদের পকেটে যায়। ধরো, তুমি কোনো অ্যাপ থেকে কিছু কিনলে—সব টাকা অ্যাপলের কাছে যায় না, বরং অনেক সময় ডেভেলপারই বেশিরভাগ অংশ পেয়ে যায়।

৯০% আয় আসে অ্যাপলের বাইরে থেকে!

রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যাপ স্টোরের মোট লেনদেনের ৯০%–এর বেশি অংশে অ্যাপল কোনো কমিশন নেয় না।

এই আয়ের মধ্যে অনেক কিছুই পড়ে—

  • অ্যাপের বাইরে সাবস্ক্রিপশন কেনা
  • ওয়েবসাইট থেকে পেমেন্ট করা
  • মাল্টিপ্ল্যাটফর্ম অ্যাপ ব্যবহার

ধরো তুমি কোনো ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিসের সাবস্ক্রিপশন ওয়েবসাইট থেকে কিনলে, কিন্তু সেটা আইফোনে ব্যবহার করলে—এই টাকাও অ্যাপ স্টোর ইকোসিস্টেমের হিসাবেই ধরা হচ্ছে।

এই জায়গাটাই একটু কনফিউজিং। কারণ অনেক সময় বোঝা কঠিন হয়ে যায়—কোন আয়টা আসলে অ্যাপলের মাধ্যমে, আর কোনটা শুধু অ্যাপ ব্যবহারের কারণে।

ডিজিটাল পণ্য বনাম বাস্তব পণ্য: আয়ের উৎস কোথায়?

এই বিশাল আয়ের মধ্যে ডিজিটাল পণ্য যেমন—

  • সাবস্ক্রিপশন
  • অ্যাপের ভেতরের কেনাকাটা
  • অনলাইন সার্ভিস

এগুলো মোট আয়ের প্রায় ১০.৩%।

অন্যদিকে সবচেয়ে বড় অংশ আসে বাস্তব পণ্য ও সেবা থেকে। যেমন—

  • অনলাইনে শপিং
  • খাবার অর্ডার
  • ট্রাভেল বুকিং

আরেকটা বড় অংশ আসে ইন-অ্যাপ বিজ্ঞাপন থেকে। সোশ্যাল মিডিয়া বা গেম খেলতে গিয়ে যে বিজ্ঞাপন দেখো, সেগুলো থেকেও বিশাল আয় হয়।

AI অ্যাপ: ২০২৫ সালের আসল গেম চেঞ্জার

২০২৫ সালে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে।

AI ফিচার যুক্ত অ্যাপগুলোর গ্রোথ ছিল অন্য অ্যাপের তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি। টপ ১০০ অ্যাপের মধ্যে ৪০টির মধ্যেই এখন AI ফিচার আছে।

এটা কেন হচ্ছে? সহজভাবে বলি—
মানুষ এখন স্মার্ট অ্যাপ চায়।
যেমন:

  • চ্যাটবট দিয়ে কাস্টমার সার্ভিস
  • AI দিয়ে ছবি এডিট
  • ভয়েস কমান্ডে কাজ

এইসব সুবিধা মানুষকে বেশি আকর্ষণ করছে।

তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—AI কি আসলেই এই গ্রোথের মূল কারণ, নাকি জনপ্রিয় অ্যাপগুলো এমনিতেই সফল হত, শুধু পরে AI যোগ করেছে?

বিশ্বজুড়ে অ্যাপ স্টোরের বিস্তার

অ্যাপ স্টোর শুধু আমেরিকা বা ইউরোপেই না, সারা বিশ্বেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ৬ বছরে—

  • চীনে আয় দ্বিগুণ হয়েছে
  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তিনগুণের বেশি বেড়েছে

মানে স্পষ্ট—অ্যাপ স্টোর এখন সত্যিকারের গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম।

বিভিন্ন দেশে মানুষের খরচের ধরন আলাদা

একটা মজার বিষয় হলো, সব দেশে মানুষ একই জিনিসে টাকা খরচ করে না।

যেমন:

  • আমেরিকা ও ইউরোপে ট্রাভেল বুকিং খুব জনপ্রিয়
  • কোরিয়ায় খাবার ডেলিভারি বেশি
  • চীনে গ্রোসারি ও ফুড ডেলিভারি টপে

এটা দেখায়, অ্যাপ ব্যবহারের ধরণ সংস্কৃতি আর প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে।

অ্যাপলের ডেভেলপারদের জন্য বিনিয়োগ

অ্যাপল শুধু আয় করছে না, ডেভেলপারদের জন্য বড় বিনিয়োগও করছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ২০টির বেশি অ্যাপল ডেভেলপার একাডেমি আছে। এখানে নতুন ডেভেলপারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

২০২৬ সালে বার্লিনে নতুন ডেভেলপার সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ নতুন ডেভেলপার মানেই নতুন অ্যাপ, আর নতুন অ্যাপ মানেই আরও বেশি আয়।

WWDC 2026: ভবিষ্যতের ঝলক

২০২৬ সালের জুনে WWDC ইভেন্ট শুরু হবে, যেখানে অ্যাপল তাদের নতুন প্রযুক্তি ও টুলস দেখাবে।

ডেভেলপাররা এখানে—

  • নতুন ফিচার শিখতে পারবে
  • ১০০টির বেশি ভিডিও সেশন পাবে
  • সরাসরি অ্যাপল ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কথা বলতে পারবে

এটা অনেকটা একটা বড় টেক স্কুলের মতো, যেখানে ভবিষ্যতের অ্যাপ তৈরি হওয়ার বীজ বপন হয়।

শেষ কথা: অ্যাপ স্টোরের ভবিষ্যৎ কোথায় যাচ্ছে?

সবকিছু মিলিয়ে একটা জিনিস পরিষ্কার—অ্যাপ স্টোর এখন শুধু একটা অ্যাপ ডাউনলোড প্ল্যাটফর্ম না। এটা একটা বিশাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম।

AI, গ্লোবাল এক্সপ্যানশন আর নতুন প্রযুক্তির কারণে আগামী কয়েক বছরে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

সহজভাবে বললে—
আগে অ্যাপ ছিল সুবিধা,
এখন অ্যাপই একটা পুরো ব্যবসা।

আর এই ব্যবসার কেন্দ্রেই আছে অ্যাপ স্টোর।