খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img

যশোর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিদায় ও নবাগতদের অভিষেক

যশোর আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবম ব্যাচের ইন্টার্ন চিকিৎসদের বিদায় ও একই সাথে দশম ব্যাচের নবাগত ইন্টার্ন চিকিৎসদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।২৬ জুলাই...
Homeবাংলা নিউজ স্পেশালদেশজুড়েভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ দফা দাবি,ডিসি অফিস ঘেরাও’র হুঁশিয়ারি

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৪ দফা দাবি,ডিসি অফিস ঘেরাও’র হুঁশিয়ারি

টানা বর্ষণে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ভবদহ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ভবদহ অঞ্চলের চলমান ভয়াবহ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। একই সঙ্গে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, টানা বর্ষণে যশোরের মণিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ভবদহ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনের অভিযোগ, দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার ভবদহ সমস্যার সমাধানে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদী খনন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক বিলম্ব হচ্ছে। ফলে সংকট আরও গভীর হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আমডাঙ্গা খালের সংস্কারের কার্যাদেশ দুই বছর আগে দেওয়া হলেও কাজ এখনো শুরু হয়নি। অথচ এই খাল দিয়ে ভবদহ এলাকার প্রায় ২৫ শতাংশ পানি নিষ্কাশনের সুযোগ রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।

এতে আরও বলা হয়, ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার হরি ও ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কাজও এখনো অসম্পূর্ণ। নদী খননের সময় খর্ণিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ এবং জমে থাকা পলি অপসারণ না করায় এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তাই খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার নদীপথের পলি দ্রুত অপসারণ এবং সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি আরও দাবি করে, নদী খননের পাশাপাশি টিআরএম বাস্তবায়ন না করায় প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আইডব্লিউএমের সমীক্ষায় ভবদহ অববাহিকায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিলে টিআরএম বাস্তবায়নের সুপারিশ এসেছে এবং জাতীয় কর্মশালায় অধিকাংশ অংশীজনও সেই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তাই নদী খনন ও টিআরএম একসঙ্গে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো
জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার সম্পন্ন এবং বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। খর্ণিয়া দক্ষিণ পাশের বাঁধসহ সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ এবং খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর পলি অপসারণ।

আইডব্লিউএমের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে টিআরএম বাস্তবায়ন এবং নদী খননের সঙ্গে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ। পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আগামী ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, অনিল বিশ্বাস, শেখর রায়, মাসুদ শেখ, সাধন বিশ্বাস, বিকাশ চন্দ্র মল্লিক, পলাশ বিশ্বাস, রাজু আহমেদসহ অন্যান্য নেতারা।