দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব এবং স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে নতুন করে সব ধরনের স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ প্রতি ভরির নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। নতুন দামের ফলে স্বর্ণ ক্রেতাদের আগের তুলনায় আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির সভায় সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বাজুসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে সব ধরনের স্বর্ণের দামে সমন্বয় আনা হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের গহনার প্রতি ভরির দাম ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। আগের দামের তুলনায় এটি ২ হাজার ২১৬ টাকা বেশি।
এই নতুন মূল্য বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
স্বর্ণের দাম বাড়ার ফলে গহনা কেনার খরচ আরও বেড়ে যাবে। বিশেষ করে বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।
এদিকে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতেও দামে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই স্বর্ণ কেনার আগে সর্বশেষ মূল্য যাচাই করে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে সব ধরনের স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
স্বর্ণের নির্ধারিত এই মূল্য মূলত গহনার স্বর্ণের দাম। এর সঙ্গে গহনা তৈরির মজুরি, নকশা অনুযায়ী চার্জ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে ক্রেতাদের মোট ব্যয় আরও বাড়তে পারে। তাই স্বর্ণ কেনার আগে সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ মূল্য জেনে নেওয়া উচিত।

