শার্শায় পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে শুরু হয়েছে এক নতুন সম্ভাবনার যাত্রা। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে চালু হয়েছে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এই উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের জীবনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
সমাজে নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে “নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও সামাজিক কল্যাণ প্রকল্প”-এর আওতায় এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, একজন নারী যখন স্বাবলম্বী হন, তখন শুধু তার নিজের জীবন নয়, পুরো পরিবারের জীবনমান উন্নত হয়। একই সঙ্গে সমাজ ও দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নারীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে পারেন এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে সমাজে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মোস্তাফিজোহা সেলিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহান-ই-গুলশান।
বক্তারা বলেন, নারীদের শুধু সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। সেলাই প্রশিক্ষণের মতো উদ্যোগ নারীদের ঘরে বসেই আয়ের পথ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি হবে, যা দারিদ্র্য বিমোচনেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তারা আরও বলেন, সমাজের সচেতন ও বিত্তবান ব্যক্তিদের এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজে আরও বেশি এগিয়ে আসা দরকার। সম্মিলিত উদ্যোগই নারীর উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
এই প্রকল্পে অংশ নেওয়া নারীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এটি তাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। অনেকেই জানান, এতদিন তারা আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য পথ খুঁজে পাননি। এখন প্রশিক্ষণ এবং সেলাই মেশিন পাওয়ার মাধ্যমে তারা নিজেরা কাজ শুরু করতে পারবেন। একজন উপকারভোগী নারী বলেন, এই প্রশিক্ষণ আমাদের শুধু কাজ শেখাবে না, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহসও দেবে। পরিবারে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারব, এতে আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নারীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের জন্য এটি আয়ের একটি সহজ এবং কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
তাদের মতে, নারীদের আত্মনির্ভরশীল করা গেলে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং একটি সমৃদ্ধ, সচেতন ও শক্তিশালী সমাজ গড়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা মানে পুরো সমাজকে এগিয়ে নেওয়া। কারণ একজন কর্মক্ষম নারী শুধু নিজের পরিবার নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেন।
শার্শায় শুরু হওয়া এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নয়; এটি নারীদের স্বপ্নপূরণের একটি নতুন অধ্যায়। বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক নারী নিজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই আয়োজনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো, সঠিক সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে নারীরাই হতে পারেন সমাজ উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলোকিত নারী উন্নয়ন সংস্থা, বেনাপোল, যশোর।

