খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeফুটবলফিফা বিশ্বকাপ স্পেশালবিশ্বকাপ উদ্বোধনে ‘নকল শাকিরা’? নেটদুনিয়ায় তোলপাড়! আসল সত্যি কী?

বিশ্বকাপ উদ্বোধনে ‘নকল শাকিরা’? নেটদুনিয়ায় তোলপাড়! আসল সত্যি কী?

লাতিন আমেরিকায় শাকিরার মতো দেখতে এক পারফর্মার রয়েছেন, যিনি ‘শাকিবেক্কা’ নামে পরিচিত। তিনি এতটাই মিল রাখেন যে অনেক সময় মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে মনে করছেন, সম্ভবত তাকেই ব্যবহার করা হয়েছে।

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই শুধু খেলা নয়, বরং এক বিশাল বিনোদনের মঞ্চ। আর এই মঞ্চে শাকিরার নাম যেন আলাদা করে জ্বলজ্বল করে। বছরের পর বছর ধরে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ভক্তদের কাছে এক ধরনের আবেগ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করেন, শাকিরার পারফরম্যান্স ছাড়া বিশ্বকাপের শুরুটা যেন পুরোপুরি জমে ওঠে না।

এইবারও সেই প্রত্যাশা নিয়েই দর্শকরা বসেছিলেন টিভির সামনে। কিন্তু মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত বিতর্ক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যিনি পারফর্ম করেছেন, তাঁকে ঘিরেই মূল বিতর্ক। অনেক দর্শকই বলছেন, যাকে দেখা গেছে তিনি যেন পরিচিত সেই শাকিরা নন। তাঁর চেহারা, নাচের ভঙ্গি, এমনকি উপস্থিতির স্টাইল—সব কিছুতেই যেন ছিল অচেনা ভাব।

শাকিরা মানেই এনার্জি, গানের সঙ্গে শরীরী দোল, আর এক ধরনের ম্যাজিক—যা চোখ সরাতে দেয় না। কিন্তু এবারের পারফরম্যান্সে সেই পরিচিত ঝলক অনেকেই খুঁজে পাননি।

দর্শকদের সন্দেহ আরও বেড়েছে তাঁর পোশাক ও লুক দেখে। হলুদ রঙের শাড়ি এবং কালো সানগ্লাস—এই সাজে তাঁকে দেখে অনেকেই চমকে গেছেন। কারণ, মঞ্চে শাকিরাকে সাধারণত এমন পোশাকে দেখা যায় না।

আরেকটি বিষয়ও নজরে পড়েছে—পারফরম্যান্সের সময় সানগ্লাস পরা। এটি শাকিরার স্বাভাবিক স্টেজ স্টাইল নয়। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই পরিবর্তন?

নেটদুনিয়ায় এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—আসলেই কি শাকিরা পারফর্ম করেছেন, নাকি তাঁর জায়গায় অন্য কাউকে আনা হয়েছে?

লাতিন আমেরিকায় শাকিরার মতো দেখতে এক পারফর্মার রয়েছেন, যিনি ‘শাকিবেক্কা’ নামে পরিচিত। তিনি এতটাই মিল রাখেন যে অনেক সময় মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে মনে করছেন, সম্ভবত তাকেই ব্যবহার করা হয়েছে।

এই বিতর্কে ভক্তরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন।

একদল বলছেন, “এটা শাকিরা হওয়ার কথা নয়।” তাঁদের মতে, নাচে সেই আগুন নেই, অভিব্যক্তিতে নেই আগের সেই তীব্রতা।

অন্যদিকে, আরেক দল মনে করছেন—এগুলো পুরোপুরি গুজব। তাঁদের মতে, একজন শিল্পী সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতেই পারেন। বয়স, স্টাইল, প্রেজেন্টেশন—সবই বদলাতে পারে। তাই এই নিয়ে এত প্রশ্ন তোলার কোনো মানে নেই।

সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে এখানেই। এত আলোচনা, এত প্রশ্ন—তারপরও ফিফা কিংবা শাকিরার পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসেনি।

এই নীরবতাই বরং জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ, সাধারণত এমন বড় বিতর্কে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিন্তু এখানে সেটি হয়নি।

ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব—সব জায়গাতেই চলছে তর্ক-বিতর্ক। কেউ ভিডিও বিশ্লেষণ করছেন, কেউ ছবি মিলিয়ে দেখছেন, আবার কেউ পুরনো পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করছেন।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “চোখ বন্ধ করে শুনলেও বুঝতাম—এটা সেই কণ্ঠ নয়।” আবার কেউ বলছেন, “মানুষ বদলায়, কিন্তু এতটা বদলানো কি সম্ভব?”

এই মুহূর্তে পরিষ্কার করে কিছু বলা কঠিন। কারণ কোনো অফিসিয়াল নিশ্চিত তথ্য নেই। সবটাই নির্ভর করছে দর্শকদের পর্যবেক্ষণ আর অনুভূতির ওপর।

তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—শাকিরার প্রতি মানুষের প্রত্যাশা এতটাই বেশি যে সামান্য পরিবর্তনও চোখ এড়িয়ে যায় না।

পুরো ঘটনাটা আমাদের একটা জিনিস মনে করিয়ে দেয়—তারকাদের প্রতি আমাদের আবেগ কতটা গভীর। আমরা শুধু তাদের গান বা নাচ দেখি না, আমরা তাদের একটা নির্দিষ্ট রূপে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যাই।

আর সেই চেনা ছবিতে একটু পরিবর্তন এলেই প্রশ্ন উঠে—এটা কি সত্যিই সেই মানুষ?

শাকিরা হোক বা না হোক, এই বিতর্ক প্রমাণ করে—তিনি এখনো মানুষের মনে ঠিক আগের মতোই জায়গা করে আছেন। আর সেটাই হয়তো একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় সাফল্য।