Become a member

Get the best offers and updates relating to Newsbangla24x7.com

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলবিশ্বকাপের আগে চরম কেলেঙ্কারি! মেসি-সহ আর্জেন্টিনা দলের পাসপোর্ট তথ্য ফাঁস

বিশ্বকাপের আগে চরম কেলেঙ্কারি! মেসি-সহ আর্জেন্টিনা দলের পাসপোর্ট তথ্য ফাঁস

ম্যাচের আগে নিয়ম অনুযায়ী দুই দলের খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেখানেই ঘটে বড় ধরনের প্রশাসনিক ভুল। আইসল্যান্ড দলের তালিকায় যেখানে শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের নাম ছিল, সেখানে আর্জেন্টিনা দলের তালিকায় ফুটবলারদের ব্যক্তিগত পাসপোর্ট-সংক্রান্ত তথ্যও যুক্ত হয়ে যায়।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর শুরু হওয়ার আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিকে বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারির কথা বলছে মার্কিন প্রশাসন, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ফুটবলারদের ব্যক্তিগত পাসপোর্ট তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসার ঘটনায় সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক Lionel Messi-সহ একাধিক ফুটবলারের সংবেদনশীল তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ফুটবল বিশ্বে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে এমন ঘটনা শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকিই নয়, বরং আয়োজকদের পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচে ঘটল চাঞ্চল্যকর ভুল

বিশ্বকাপ শুরুর আগে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল আর্জেন্টিনার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। আলাবামার বিশাল স্টেডিয়ামে হাজার হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন নিজেদের প্রিয় তারকাদের খেলা দেখতে।

ম্যাচের আগে নিয়ম অনুযায়ী দুই দলের খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সেখানেই ঘটে বড় ধরনের প্রশাসনিক ভুল। আইসল্যান্ড দলের তালিকায় যেখানে শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের নাম ছিল, সেখানে আর্জেন্টিনা দলের তালিকায় ফুটবলারদের ব্যক্তিগত পাসপোর্ট-সংক্রান্ত তথ্যও যুক্ত হয়ে যায়।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সেই নথি সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্টেডিয়ামে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক দর্শকের কাছেও পৌঁছে যায়। ফলে বিশ্বমানের ফুটবলারদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসে।

ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস কেন এত বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি?

আধুনিক বিশ্বে ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রেই তথ্য ফাঁস ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেখানে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি।

পাসপোর্টের তথ্য প্রকাশ্যে চলে এলে পরিচয় চুরি, জালিয়াতি, অননুমোদিত ভ্রমণ নথি তৈরি কিংবা অন্যান্য সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তারকাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন অপরাধচক্র সক্রিয় থাকে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, যে দেশে বিশ্বকাপ উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি করা হচ্ছে, সেখানে এমন মৌলিক ভুল কীভাবে ঘটল?

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা নীতি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বারবার দাবি করেছেন যে বিশ্বকাপ চলাকালীন নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশাসনের মতে, বিদেশ থেকে আগত প্রত্যেক দর্শক, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি হলো, সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা, নাশকতা কিংবা নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধ করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন আরও জানিয়েছে, বিদেশি অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন, খাবার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের প্রধান দায়িত্ব।

কঠোর নিরাপত্তা নাকি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ?

বিশ্বকাপকে ঘিরে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা যেমন হয়েছে, তেমনি সমালোচনাও কম নয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশ অভিযোগ করেছে যে নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত কড়াকড়ি করা হচ্ছে।

তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে দর্শক এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে যেন তারা সম্ভাব্য অপরাধী। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ, অতিরিক্ত তল্লাশি এবং কঠোর অভিবাসন প্রক্রিয়া অনেকের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমালোচকদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই জরুরি, তবে সেটি এমন পর্যায়ে পৌঁছানো উচিত নয় যাতে খেলাধুলার আন্তর্জাতিক উৎসবের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরান দলের অভিযোগে নতুন বিতর্ক

বিশ্বকাপের আগে নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে ইরান জাতীয় দলের অভিযোগের পর।

ইরানের শিবিরের অবস্থান পরিবর্তন করে অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তাকে ভিসা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো কি খেলাধুলার ওপর প্রভাব ফেলছে? অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখা উচিত।

আফ্রিকার সেরা রেফারিকে প্রবেশে বাধা

বিতর্ক আরও বেড়েছে সোমালিয়ার রেফারি Omar Artan-কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায়।

তিনি চলতি বছরে আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তাজনিত সন্দেহের কারণে তাঁকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা যৌক্তিক? অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নয়।

ফিফা ও আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার নীরবতা

মেসি ও তাঁর সতীর্থদের পাসপোর্ট তথ্য ফাঁসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

FIFA, আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা কিংবা মার্কিন প্রশাসন—কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার দায় স্বীকার করেনি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।

এই নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে তথ্য নিরাপত্তা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বিশ্বকাপের আগে বড় সতর্কবার্তা

আর্জেন্টিনা দলের ফুটবলারদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনা বিশ্বকাপ আয়োজনের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে যতই কঠোর অবস্থানের কথা বলা হোক না কেন, একটি ছোট প্রশাসনিক ভুল পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিতে পারে।

বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের উৎসব নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। তাই খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং দর্শকদের তথ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

আগামী দিনে এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা না হলে নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে। আর বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এমন বিতর্ক নিঃসন্দেহে আয়োজকদের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা বহন করবে।