খবর পান সবার আগে

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো প্রতিদিন আপনার ইমেইলে পান।

― Advertisement ―

spot_imgspot_img
Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলবিশ্বকাপে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! বোমা হামলার ছক ফাঁস, নিশানায় ছিলেন রোনাল্ডোও

বিশ্বকাপে মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! বোমা হামলার ছক ফাঁস, নিশানায় ছিলেন রোনাল্ডোও

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি হুমকিমূলক বার্তা পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, আত্মঘাতী বোমা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, নিরাপত্তার দিক থেকেও বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রীড়া আসর। এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রকাশ্যে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফাঁস হওয়া তদন্ত-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। শুধু মেসিই নন, পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একাধিক ঘটনার মুখোমুখি হন।

তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই তারকা ফুটবলারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছিল।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের সমন্বিত তদন্তে একাধিক হুমকির তথ্য সামনে আসে।

তদন্তকারীদের মতে, কিছু ব্যক্তি স্টেডিয়ামে অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করে হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চ সতর্কতা জারি করে এবং প্রতিটি হুমকির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পৃথক তদন্ত চালায়।

আরও পড়ুন :  ইয়ামালের ভয়ঙ্কর হুঙ্কার! ‘ফ্রান্স আমাদের ভয় পাবে’! এমবাপেদের উদ্দেশে বড় চ্যালেঞ্জ?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ জুলাই আটলান্টায় আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি হুমকিমূলক বার্তা পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, আত্মঘাতী বোমা নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে লিওনেল মেসিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

এর কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে দাবি করেন, তিনি ও তাঁর দুই সহযোগী ঘরে তৈরি বিস্ফোরক এবং একটি রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। ফোনে পুলিশ এবং দুই দলের ফুটবলারদের ওপর হামলার কথাও বলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে এসব হুমকির পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করে।

আরেকটি ফোনকলে জানানো হয়, ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের আবর্জনার বাক্সে বিস্ফোরক রাখা হয়েছে।

এই তথ্য পাওয়ার পরপরই বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্টেডিয়ামজুড়ে তল্লাশি চালান। দর্শক ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সন্দেহজনক তথ্য গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হয়।

আরও পড়ুন :  তারেক রহমান-দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠক: শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রসঙ্গও উঠল

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি।

বিশ্বকাপজুড়ে তাঁর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত নজরদারি, চলাচলে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় এবং গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণ চালু রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

শুধু মেসি নন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেও ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে।

হিউস্টনে তিনি যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, সেখানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

পরবর্তীতে টরন্টোতেও আরেক ব্যক্তি রোনাল্ডোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শুধু একটি সেলফি তোলা। যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বিশ্বকাপ চলাকালীন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেও অনলাইনে বর্ণবিদ্বেষমূলক আক্রমণের শিকার হন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্য করে ঘৃণামূলক বার্তা ছড়ানো হয়। এমনকি প্যারাগুয়েতে তাঁর প্রতিকৃতি সংবলিত একটি পুতুল পুড়িয়ে সেই ভিডিওও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :  বিশ্বকাপে ভাঙছে সব রেকর্ড! মেসি, এমবাপে ও হালান্ডের তাণ্ডবে কাঁপছে ফুটবল বিশ্ব

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরও ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারেরও বেশি হুমকিমূলক বার্তা পান। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যে, ফ্রান্সে তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসরে লাখো দর্শক, শতাধিক প্রতিনিধি দল এবং বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলারদের উপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অত্যন্ত জটিল করে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হুমকি, সন্ত্রাসবাদ এবং সাইবার নজরদারির ঝুঁকি এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

তাই প্রতিটি হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা এবং সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আর্কাইভ